kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৮ জুন ২০১৯। ৪ আষাঢ় ১৪২৬। ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

জাল সনদে 'শিক্ষকের' চাকরি, তদন্তের উদ্যোগ দুদকের

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

২৪ মে, ২০১৯ ১৫:২২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জাল সনদে 'শিক্ষকের' চাকরি, তদন্তের উদ্যোগ দুদকের

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে মাইজ বাড়ি দাখিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত সুপারসহ তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন যাবৎ জাল সনদে চাকরির অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সরেজমিন পরিদর্শন ও সনদ যাচাই-বাছাই করে অভিযুক্ত তিন শিক্ষককে অব্যাহতি এবং চাকরিকালীন উত্তোলনকৃত সমুদয় টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিলেও সেই নির্দেশ বাস্তবায়ন হয়নি। অভিযুক্ত তিন শিক্ষক অদ্যাবধি বহাল তবিয়তে আছেন ও বেতন উত্তোলন করছেন। আর এই ঘটনার তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মাইজ বাড়ি দাখিল মাদরাসাটি মাওলানা শামছুল হুদা পাঁচবাগী ১৯১৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে ইবতেদায়ি ও দাখিল শাখায় মোট শিক্ষার্থী ১৫০ জন। মাদরাসায় জাল সনদ দাখিল করে ০১/০২/২০১৩ তারিখ ইবতেদায়ি শাখার প্রধান শিক্ষক পদে মোস্তাফিজুর রহমান (ইনডেক্স নম্বর ২০৯৮৯১৫) ও কারি পদে নাজমা খাতুন (ইনডেক্স নম্বর ২০৯৮৯১৬) এবং ০১/০১/২০১৬ তারিখ আজহারুল আলম (ইনডেক্স নম্বর ২১১৫১৪৫) সহকারী শিক্ষক (শরীরচর্চা) পদে যোগদান করেন। অভিযুক্ত তিন শিক্ষকের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান আবার জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে ভারপ্রাপ্ত সুপারের দায়িত্ব পালন করছেন।

জাল সনদসংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৭/০৪/২০১৬ তারিখ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের শিক্ষা পরিদর্শক (প্রাক্তন) কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মাদরাসাটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি উল্লেখিত তিন শিক্ষকের সনদ তলব করে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) বরাবর প্রেরণ করেন। পরে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ এনটিআরসিএ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান সনদগুলো সঠিক নয়। সেই প্রেক্ষিতে শিক্ষা পরিদর্শক কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম তার পরিদর্শন ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন পেশ করেন। যার অনুলিপি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর পেশ করা হয়। 

শিক্ষা পরিদর্শক কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম তার পরিদর্শন ও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে অব্যাহতিসহ অভিযুক্ত তিন শিক্ষকের চাকরিতে যোগদানের তারিখ থেকে পরিদর্শনের তারিখ পর্যন্ত উত্তোলিত বেতনের সমুদয় টাকা (৬ লাখ ৩ হাজার ৫৭০ টাকা) সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার সুপারিশ করেন। কিন্তু পরিদর্শন ও নিরীক্ষা প্রতিবেদনের সেই সুপারিশ আজও বাস্তবায়ন হয়নি। অভিযুক্ত তিন শিক্ষক সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহের কর্মকর্তাদের মোটা অংকের টাকায় ম্যানেজ করে অদ্যাবধি চাকরিতে বহাল আছেন।

অন্যদিকে উপজেলার যশরা আয়েশা হাসান দাখিল মাদরাসার সুপার মোখলেছুর রহমান ওরফে জাল মোখলেছুরের বিরুদ্ধে তৃতীয় বিভাগ প্রাপ্ত কামিল সনদ গোপন করে সুপার পদে চাকরি ও মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে একই মাদরার জুনিয়র দুইজন মৌলভীকে তথ্য গোপন এবং ভুয়া বিএড সনদ দাখিল করে অবৈধভাবে উচ্চ বেতন স্কেল পাইয়ে দেওয়ায় অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে সাবেক সিনিয়র মৌলভী খায়রুল্লাহ ঢাকা দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

আর সেই প্রেক্ষিতে অভিযোগ তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আগামী ২৯ মে মাইজ বাড়ি দাখিল মাদরাসা ও যশরা আয়েশা হাসান দাখিল মাদরাসার সুপারকে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দপ্তরে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গফরগাঁওয়ের মাইজ বাড়ি দাখিল মাদরাসা ও যশরা আয়েশা হাসান দাখিল মাদরাসার সুপারকে আমার দপ্তরে আগামী ২৯ মে ডাকা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে এমপিও বাতিলসহ চাকরি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা