kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

অপহরণকারি মামার কাছ থেকে ভাগ্নে উদ্ধার

হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি   

২৪ মে, ২০১৯ ১১:৪০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অপহরণকারি মামার কাছ থেকে ভাগ্নে উদ্ধার

মানুষ মানুষে যেমন চেহারায় পার্থক্য তেমনি মনের মধ্যেও পার্থক্য তেমনটাই। এক কথায় মানুষ বহুরুপী। এই বহুরুপী মানুষ সবই করতে পারে। সেই বিষয়টি আরেকবার প্রমাণ হলো চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে। ৩ বছরের এক শিশুর মাকে বোন বানিয়ে আর শিশুটিকে মামা মামা বলে আদর সোহাগ করে নিয়ে যায় সেই মামা। এর পরেই সেই মামার রুপের পরিবর্তনটা শিশুর পরিবার বুঝতে পারে। এক কথায় অপহরণ। কিন্তু তখন আর পুলিশ ছাড়া কিছুর করার ছিলো না পরিবারটির। এর পরেই পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার হয় সেই শিশু। আর আটক হয় বহুরুপী অপহরণকারী মামা। এমনই সফলতা দেখিয়েছেন হাজীগঞ্জ থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেনসহ তার টিম।

পুলিশ জানায়, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের কবিরাজ বাড়ির এক গৃহবধূর সাথে মুঠোফোনের মাধ্যমে পরিচয় হয় লক্ষীপুর জেলার কমলনগর থানার মতিরহাট এলাকার মৃধা বাড়ির আসলাম মিয়ার ছেলে রুবেলের। সেই যুবক শিশুটির মাকে বোন ডেকে আত্বীয়তার সর্ম্পক তৈরি করে। এই বোনের সম্পর্কের সূত্র ধরে মনে মনে পরিকল্পনার জাল বুনতে থাকে বোনের বাচ্চাকে অপহরণের। গত শনিবার সেই যুবক রুবেল হাজীগঞ্জের সেই বোনের বাড়িতে বেড়াতে আসে। রাত্রি বেলা বোন তার ভাইকে রান্না-বান্না করে খাওয়ায় আর শিশুটি মামার আদরে সব ভুলে যায়। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ওই রাতেই বোনের ভাইয়ের তিন বছরের শিশু কন্যাকে নিয়ে পালিয়ে যায়। শিশুটিকে তার পরিবার খুঁজতে গিয়ে দেখে শিশুটির সাথে তার সেই কথিত মামা ও বাড়িতে নেই। এর পরেই সেই মামার ফোনে ফোন দেয় শিশুটির মা। ভাইয়ের ফোন বন্ধ পেয়ে ওই রাতেই শিশুটির পরিবার হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এর কার্যালয়ে হাজির হয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। তাৎক্ষণিক লক্ষীপুর জেলার কমলনগর থানার ওসির সহযোগিতা চান হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ। 

পাচারকারির মোবাইল নাম্বার নিয়ে সিডিআর এনালাইসিসের মাধ্যমে ও মোবাইল ট্রেকিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করে পাচারকারির বিস্তারিত তথ্য পেয়ে যায় পুলিশ । এর পরেই লক্ষীপুর জেলার মতিরহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর আজাদের মাধ্যমে মতিরহাট গ্রামের মৃধা বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার ও পাচারকারিকে আটক করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেন হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন।

এ বিষয়ে শিশুটির পরিবার বাদী হয়ে মানবপাচার আইনে মামলা দায়ের করেন। আর এ মামলায় সেই মামাকে আটক করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন রনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা