kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

৮০ বস্তা ভিজিডির চাল জব্দ, মামলা না হওয়ায় এলাকায় ক্ষোভ

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

২৪ মে, ২০১৯ ০১:০৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



৮০ বস্তা ভিজিডির চাল জব্দ, মামলা না হওয়ায় এলাকায় ক্ষোভ

ময়মনসিংহের নান্দাইলের আচারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভেতর থেকে খাদ্য অধিদপ্তরের সিলমোহরকৃত ৮০ বস্তা ভিজিডি চাল ভর্তি দুটি ট্রলি আটক করা হয়েছে। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে ওই চালগুলি জব্দ করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদা আক্তার। পরে ট্রলিভর্তি চাল থানায় নেওয়া হলেও কোনো মামলা দায়ের হয়নি। এ নিয়ে এলাকায় চলছে নানা ধরনের আলোচনা-সমালোচনা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই ইউনিয়নের জন্য ভিজিডির (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) বরাদ্ধ কার্ড ২১১টি। গত বুধবার থেকে উপকারভোগীদের চাল দেওয়া শুরু হয়েছে। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত মোট চারমাসের বরাদ্ধ ১২ কেজি করে। এই হিসেবে প্রতিজনে চার বস্তা করে (প্রতি বস্তা ৩০ কেজি) চাল পাওয়ার কথা। এর মধ্যে গত বুধবার মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও ট্যাগ অফিসারের (তদারকি কর্মকর্তা) উপস্থিতিতে ১০০ জনের মধ্যে চাল বিতরণের দাবি করেছেন মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রাশিদা রহমান। তবে গতকাল চাল বিতরণ করা হবে না বলে ট্যাগ অফিসারকে জানিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদ সচিব নজরুল ইসলাম।

এ কথা কালের কণ্ঠের কাছে স্বীকার করেছেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম। তারপরও কিভাবে পরিষদ থেকে চাল বিতরণের কর্মকাণ্ড চলছিল জানতে চাইলে ট্যাগ অফিসার বলেন, এ ঘটনা তার জানা নেই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন উপকারভোগী জানান, তার বাড়ি পরিষদের পাশে হওয়ায় চাল দেওয়ার ঘটনা জানতে পেরে আগেভাগেই পরিষদে গিয়ে হাজির হয়ে নিজের বরাদ্ধের চাল নিয়ে নেন। এ সময় তিনি কয়েকজন মেম্বার ও সচিবের কথায় জানতে পেরেছেন আর কাউকেই চাল দেওয়া হবে না। সকল চালই বিক্রি করে দেবেন।

খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ১১টায় ওই ইউপিতে গিয়ে দেখা যায় মো. আলম মিয়া নামে এক ক্রেতা একটি নছিমন ও একটি পাওয়ার ট্রলিতে চালের বস্তা ভরছেন। চাল বিক্রির কাজ তদারকি করছিলেন ইউপি সদস্য মাফিজ উদ্দিন ও এমদাদুল হক।

জানতে চাইলে চাল ক্রেতা আলম মিয়া দাবি করেন, চালের বস্তাগুলো তিনি ভিজিডি কার্ডধারী নারীদের কাছ থেকে কিনেছেন। কিন্তু ইউপিতে তখন কোনো ভিজিডি কার্ডধারী নারী উপস্থিত ছিলেন না। পরিষদের পাশের একটি কক্ষে ওয়ার্ল্ড ভিশনের একটি ওয়ার্কসপ চলছিল। এ সময় পরিষদের হল রুমে চালের বস্তা স্তুপাকারে ছিল। সচিব ভেতরে থেকে দুজন গ্রাম পুলিশকে দাঁড় করিয়ে শ্রমিক দিয়ে স্তুপ থেকে চালের বস্তা বাইরে অপেক্ষমান ট্রলিতে তুলছিল। বারান্দায় দাঁড়ানো ছিল দুই ইউপি সদস্য। তারা পুরো কাজটিকে তদারকিতে ব্যস্ত ছিলেন। গ্রাম পুলিশ বিমল ও আব্দুল কদ্দুস জানান, তারা চালের বস্তা কক্ষের ভেতর থেকে বের করে দিয়েছেন। পরে শ্রমিকরা ট্রলিতে উঠিয়েছে।

জানতে চাইলে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আচারগাঁও ইউনিয়নে ২১১ জন দুস্থ মাতাকে ভিজিডি কার্ড দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত এই চার মাসের বরাদ্দ ১২০ কেজি চাল (চার বস্তা) কার্ডধারী উপকারভোগীদের এক সাথে দেওয়া হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, গত দুদিনে ১৭৬টি কার্ডের বরাদ্দ বিতরণ করা হয়েছে। ৩৫টি কার্ডের বরাদ্দ ১৪০ বস্তা চাল পরিষদে রয়ে গেছে। তবে সারিবদ্ধ বস্তা গণনা করে দেখা যায়, সেখানে ১৫৪ বস্তা চাল রাখা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার তো কার্ডধারী নারীরা উপস্থিত নেই। তাহলে ভিজিডির চাল কার কাছে বিতরণ করছেন জানতে চাইলে ইউপি সচিব এর কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

এ সময় ইউপি সদস্য মো. মাফিজ উদ্দিন ও এমদাদুল হক এসে এ প্রতিবেদককে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন। ওই মূহুর্তে প্রশাসন আসছে খবর পেয়েই দুই ইউপি সদস্য কেটে পড়েন। কিছুক্ষণ পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদা আক্তার এসে কালোবাজারে বিক্রিকালে চালের বস্তা জব্ধ করে দুই গ্রাম পুলিশ দিয়ে থানায় পাঠান। সেখানে চালগুলি মাপার দায়িত্বে ছিলেন ভূমি অফিসের নাজির মো. আলমগীর।

তিনি জানান, ৮০ বস্তায় চালের পরিমাণ ২ হাজার ৪০৬ কেজি। তিনি বলেন, কোনো অভিযোগ দেওয়ার নির্দেশ না থাকায় তিনি চালগুলি পরিমাপ করে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে বুঝিয়ে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে আচারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন কাইয়ুম জানান, শরীর খারাপ থাকার কারণে তিনি পরিষদে আসতে পারেননি। তিনি বলেন, এখন প্রত্যেক ঘরে ভালো মানের ধান রয়েছে। তাই এই সব চাল খেতে পারবে না বলে বিক্রি করে দিয়েছেন। এখানে কারও দোষ নেই।

এ ব্যাপারে নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসাদ্দেক মেহদী ইমাম বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য