kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানকালে পুলিশের বিরুদ্ধে গোপনে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

২৩ মে, ২০১৯ ২৩:৩৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানকালে পুলিশের বিরুদ্ধে গোপনে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার শিবগঞ্জ বাজার, কেশরগঞ্জ বাজার ও আছিম বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনাকালে সহযোগিতার জন্য দায়িত্বরত পুলিশ দোকানদারদের কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

দায়িত্বরত পুলিশের এমন ঘটনায় বিব্রতরকর অবস্থায় পড়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার সেফা। ঘটনাটি মঙ্গলবারই ফুলবাড়িয়া থানার ওসিকে জানিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। পরদিন বুধবার বিষয়টি জানাজানি হয়।

জানা যায়, মঙ্গলবার উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ তিনটি বাজারের বিভিন্ন দোকানে পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে ভোক্তা অধিকার আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)। এ সময় ৬টি দোকানে মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ থাকায় ১৩ হাজার টাকা জরিমানা করেন। কেশরগঞ্জ বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ বাজারের দোকদারদের কাছ থেকে অবৈধভাবে ৬ শ থেকে ১ হাজার করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা শেষে ফিরে আসার পথে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুন্নাহার শেফাকে কেশরগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে দায়িত্বে থাকা পুলিশ তাদের কাছ থেকে জেল জরিমানা আদায়ের ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়।

আরো জানা গেছে, ভ্র্যাম্যমাণ আদালত পরিচালনা কাজে সহযোগিতা করার জন্য ফুলবাড়িয়া থানার এসআই ফেরদৌস আলমের নেতৃত্বে পুলিশ দায়িত্ব পালন করেছেন। দায়িত্বে থাকা পুলিশের বিরুদ্ধে হোটেল, মনোহারী দোকানে গিয়ে জেল জরিমানার ভয় দেখিয়ে টাকা নেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খোদ ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট কামরুন্নাহার শেফা।

কেশরগঞ্জ বাজারের মনোহারী দোকানদার শফিকুল ইসলাম জানান, এসিল্যন্ড স্যারের আড়ালে এসে পুলিশ জেল জরিমানার ভয় দেখিয়ে আমার কাছ থেকে ১ হাজার টাকা নিয়ে দোকান বন্ধ করে চলে যেতে বলেছেন।

একই অভিযোগ করেন হোটেল ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক। তার কাছ থেকেও পুলিশ ৬ শ টাকা হাতিয়ে নেয়। উভয় দোকানদার বলতে পারছেন না যে টাকাটা পুলিশের কনস্টেবল না অফিসার নিয়েছেন। তবে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দায়িত্বে থাকা পোষাক পরিহিত পুলিশ টাকা নিয়েছেন। মোবাইল কোর্ট চলাকালে পুলিশের টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর মঙ্গলবার এসআই ফেরদৌস আলম পুলিশের গাড়ির ড্রাইভার কনস্টেবল রিপন ও কনস্টেবল কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন বলে জানা গেছে।

অভিযুক্ত কনস্টেবল কামরুল ইসলাম বলেন, ম্যাজিস্ট্রেট স্যার দোকান মালিকদের জরিমানার আদায়কৃত টাকা নিয়েছি। অবৈধভাবে কোনো টাকা নেইনি। তার বিরুদ্ধে এসআইয়ের করা জিডি’র বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন। অভিযুক্ত পুলিশের আরেক গাড়ি চালককে থানায় গিয়ে পাওয়া যানি।

অভিযোগের বিষয়ে এসআই ফেরদৌস আলম বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত চলাকালে আমাদের ভেতর কে বা কারা দোকানদারদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে আমি নিশ্চিত না। আমি সব সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে ছিলাম। বিষয়টি নিয়ে সার্কেল স্যার ও ওসি স্যার আমাকে অনেক কথা বলেছেন।

তিনি আরো বলেন, যতটুকু জানতে পেরেছি গাড়ির ড্রাইভারসহ ২ পুলিশ কনস্টেবল জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করেছি। জিডি নং ৮৫২।

এ বিষয়ে ওসি মো. ফিরোজ তালুকদার পিপিএম (বার) সাথে কথা বলতে থানায় গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। সরকারি নাম্বারে একাধিক বার ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ত্রিশাল ও ফুলবাড়িয়া থানার এএসপি (সার্কেল) রাকিব খান কালের কণ্ঠের প্রতিবেদককে জানান, আমি ছুটিতে রয়েছি, বিষয়টি আমি আপনার কাছ থেকে জানলাম। এ বিষয়ে দারোগার সাথে কোনো কথা হয়নি আমার।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার সেফা বলেন, আমি কেশরগঞ্জ বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা শেষ করে অফিসে আসার পথে স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী পুলিশের টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও বিব্রতকর। বিষয়টি আমি ইউএনও স্যার ও ওসি সাহেবকে জানিয়েছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা