kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

বাহুবলে গাড়ি চালকের লাশ উদ্ধারের রহস্য উদঘাটন

দুই হত্যাকারী ঢাকা ও বরিশাল থেকে গ্রেপ্তার, আদালতে স্বীকারোক্তি

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

২২ মে, ২০১৯ ২৩:৪৩ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বাহুবলে গাড়ি চালকের লাশ উদ্ধারের রহস্য উদঘাটন

ছবি: কালের কণ্ঠ

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে মোশারফ নামে গাড়ি চালকের লাশ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই হত্যাকারীকে ঢাকা ও বরিশাল থেকে গ্রেপ্তারের পর সালাউদ্দিন মীর মিলন বুধবার বিকেলে হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুলতান আলম প্রধানের আধালতে ১৬৪ ধারায় হত্যার দায় স্বীকার করে।

হবিগঞ্জ পিবিআইর পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার বিকেলে ও রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৃথক  অভিযান পরিচালনা করে ঢাকার হাজারীবাগ এলাকা থেকে মো. শামীম ফকির(৪০) ও বরিশালের উজিরপুর এলাকা থেকে সালাউদ্দিন মীর মিলন (২৯)কে গ্রেপ্তার করা হয়। 

পরে বুধবার বিকেলে সালাউদ্দিন মীর মিলন আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়ে বলে, ২০১৮ সালের ২৭ মে ঢাকা থেকে ইউনিক গাড়িতে করে সিলেটে এসে জাফলং যাওয়ার জন্য মোশারফ নামে এক গাড়ি চালকের প্রাইভেট কার ভাড়া নেয়। জাফলং বেড়ানো শেষে সিলেট শহরে ফেরত আসে। পরে হোটেল রোজ ভিউ থেকে বিয়ার কিনে এর সঙ্গে ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে কৌশলে গাড়ি চালককে পান করিয়ে অচেতন করে। আসামি শামীম চালক মোশারফকে গাড়িতে নিয়ে নিজেই প্রাইভেট কার চালিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হয়। 
পথিমধ্যে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার রুপশংকর এলাকায় চালককে গামছা দিয়ে গলায় শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মহাসড়কের পাশে লাশ ফেলে প্রাইভেট কার নিয়ে চলে যায়। গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় নরসিংদী এলাকায় পুলিশ চেক পোস্টের ভয়ে গাড়ি রেখে হত্যাকারীরা পালিয়ে যায়।

এদিকে বাহুবল থানা পুলিশ ২৮ মে ২০১৮ তারিখে লাশ উদ্ধার করলে মোশারফের পরিবার খবর পেয়ে লাশ শনাক্ত করে নিয়ে যায় এবং গাড়ির মালিক কামাল আহমেদ বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি থানা পুলিশ তদন্তের পর রহস্য উদঘাটন করতে না পারায় পিবিআই এই মামলার তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত ও গাড়িতে রক্ষিত একটি কেস স্লিপের সূত্র ধরে আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।

হবিগঞ্জ পিবিআইর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিয়া কুতুবুর রহমান চৌধুরী বুধবার বিকেলে সাংবাদিকদের জানান, এটি একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা। পিবিআই তাদের নিজস্ব কৌশল ব্যবহার করে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে এবং আসামিদেরকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা