kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

স্বামীর নির্যাতন থেকে বাঁচতে ৯৯৯ এ স্ত্রীর ফোন, অতঃপর..

হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি   

২২ মে, ২০১৯ ২১:১২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্বামীর নির্যাতন থেকে বাঁচতে ৯৯৯ এ স্ত্রীর ফোন, অতঃপর..

যৌতুকের দাবিতে স্বামী মামুন যখন স্ত্রী কামরুন নাহারকে মারধর করে মারাত্মক আহত করেন তখন তিনি ফোন করেন ৯৯৯ এ। ফোন পেয়ে তাৎক্ষণিক চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ উদ্ধার করে কামরুন নাহারকে। একই সময় স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে কামরুন নাহারকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ বিষয়ে কামরুন নাহার নিজে বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে স্বামী মামুন সর্দারকে একমাত্র আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে কামরুন নাহারের শ্বশুর বাড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের পশ্চিম মাতৈন গ্রামের সর্দার বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে। মামুন দুলাল সর্দারের ছেলে। কামরুন নাহার একই উপজেলার বাকিলা ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের ডা. আশরাফুলের মেয়ে।

কামরুন নাহারের পরিবার জানায়, ভালোবেসে তিন বছর আগে মামুন সর্দারকে বিয়ে করে কামরুন নাহার। বিয়ের পর যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি করলে আমরা টাকা নিয়ে মামুনকে ওমান পাঠানোর ব্যবস্থা করি। ওমান যাওয়ার পর আবারো যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি করে মামুন। টাকা না দেওয়ায় মোবাইলে ফোনে কামরুন নাহারকে তালাক দেয় এবং পরবর্তীতে মামুন ১০ দিনের জন্য দেশে এসে পুনরায় কামরুন নাহারকে বিয়ে হয় ওমানে চলে যায়। গত এক সপ্তাহ পূর্বে ফের দেশে আসে মামুন। এসেই কামরুন নাহারকে পূনরায় যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। কিন্তু যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় মঙ্গলবার রাতে তাদের মাঝে কথা কাটিকাটি হয়। একপর্যায়ে কামরুন নাহারকে বেশ কয়েকবার শারীরিক নির্যাতন করার পর রাতে তাকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। এ সময় কামরুন নাহারের ডাক-চিৎকারে বাড়ির লোকজন এসে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে কামরুন নাহারকে উদ্ধার করে এবং মামুনকে থানায় নিয়ে যায়।

মামলার বাদী কামরুন নাহার জানান, বাবার বাড়ি থেকে যৌতুকের টাকা এনে দিতে অস্বীকার করায় মঙ্গলবার রাতে আমাকে বেশ কয়েকবার মারধর করা হয় এবং এদিন গভীর রাতে আমাকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা চেষ্টা করে মামুন। এ সময় আমার ডাক-চিৎকারে বাড়ির লোকজন উপস্থিত হলে আমি বেঁচে যাই। এরপর আমি বুদ্ধি করে ৯৯৯ এ ফোন করি।

এদিকে স্ত্রী হত্যা চেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করে থানা হেফাজতে থাকা মামুন সর্দার জানান, পারিবারিক কলহের জেরে কামরুন নাহার আমাকে এবং আমার মা, বোনকে অকথ্য ও অশালীন ভাষায় গালমন্দ করে। যার ফলে তাকে (কামরুন নাহার) কয়েকটি চড় থাপ্পড় মারা ছাড়া আর কিছুই করিনি।

এ ব্যাপারে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন রনি জানান, আমরা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি এবং মামুন সর্দারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

মন্তব্য