kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

সামনে ঈদের ছুটি হোটেল-মোটেলে নৈরাজ্যকর অবস্থা শুরু

হোটেল অভিসারের ম্যানেজার দণ্ডিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

২২ মে, ২০১৯ ০০:০৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সামনে ঈদের ছুটি হোটেল-মোটেলে নৈরাজ্যকর অবস্থা শুরু

ছবি: কালের কণ্ঠ

আসন্ন ঈদের ছুটি সামনে নিয়ে কক্সবাজার সাগর পাড়ের হোটেল-মোটেলগুলোতে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি শুরু হয়েছে। ঈদের দীর্ঘ ছুটির সময়ে পর্যটকদের জন্য অগ্রিম হোটেল কক্ষ বুকিং নিতে গিয়ে শুরু হয়েছে নানা হয়রানি। এরকম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে সাগর পাড়ের হোটেল অভিসারের ম্যানেজার আবদুল গফুরকে আজ মঙ্গলবার ভ্রাম্যমাণ আদালত ৫ হাজার টাকা অর্থ দণ্ডাদেশ এবং অনাদায়ে ৪ মাসের কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করেছেন।

এসব বিষয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানিয়েছেন, বছরের বিশেষ সময়ে কক্সবাজার সাগর পাড়ের হোটেল গুলোতে বেশ ভিড় জমে। এমন সুযোগকে কোনো কোনো অসাধু হোটেল ব্যবসায়ী টাকা আয়ের মোক্ষম সময় বলে মনে করেন। কিন্তু জেলা প্রশাসন এ বিষয়ে সজাগ রয়েছে। এরকম নৈরাজ্যকর অবস্থা কিছুতেই হতে দেবে না।

জানা গেছে, বান্দরবানের লামা উপজেলা সদরের দিপেন বড়ুয়া নামের এক ব্যক্তি এক পরিচিত বিদেশি দম্পতি পর্যটকের জন্য সাগর পাড়ের হোটেল অভিসারে একটি কক্ষ অগ্রিম ভাড়া নেন। আগামী ৩০ মে থেকে ৯ জুন পর্যন্ত ১০ দিনের জন্য ভাড়া বাবদ নগদ ২৫ হাজার টাকা গত পহেলা এপ্রিল হোটেল কর্তৃপক্ষকে রশিদমূলে আগাম পরিশোধ করা হয়।

কিন্তু বিদেশি পর্যটক দম্পতি কোনো কারণে নির্ধারিত সময়ে কক্সবাজার আসতে পারছেন না। আজ মঙ্গলবার সকালে দিপেন বড়ুয়া হোটেলে এসে এ কথা জানিয়ে কক্ষ ভাড়ার অগ্রিম টাকা ফেরৎ চাইলে ম্যানেজার গফুর তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। ম্যানেজার বলেন, হোটেল কক্ষ ভাড়ার অগ্রিম টাকা ফেরৎ দেওয়ার নিয়ম নেই। অথচ কক্ষ ভাড়ার রশিদে উল্লেখ রয়েছে, বুকিং বাতিল করতে হলে ২৪ ঘণ্টা পূর্বে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে বুকিংকৃত টাকার শতকরা ৭৫% টাকা ফেরত দেওয়া যাবে।

হোটেল কর্তৃপক্ষের লিখিত নিয়মানুযায়ী নির্ধারিত সময়ের দীর্ঘ ৯ দিন আগে অগ্রিম বুকিংয়ের টাকা ফেরৎ চাইতে গেলে উল্টো হোটেল কর্তৃপক্ষ টাকা না দেওয়ার কথা সাফ জানিয়ে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হুমকি-ধমকিও প্রদান করে। এ বিষয়টি ট্যুরিস্ট পুলিশকে লিখিতভাবে জানানোর পর ঘটনাস্থলে যান ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক সাকের আহমদ। 
পুলিশের পরিদর্শক সাকের আহমদ জানান-‘ এ সময় হোটেল ম্যানেজার আমাকেও (পরিদর্শক) একই জবাব দেন। এক পর্যায়ে আমি (ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক) চট্টগ্রামে অবস্থানরত হোটেল মালিক আবু সাঈদ চৌধুরীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে উক্ত হোটেল মালিকও উল্টো আমার (পুলিশের) ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে আপত্তিকর আচরণ করেন।’

হোটেল কক্ষ বুকিংয়ের অগ্রিম টাকা ফেরৎ না দেওয়া এবং পর্যটক ও পুলিশের প্রতি আপত্তিকর অচরণের অভিযোগে ট্যুরিস্ট পুলিশ তাৎক্ষণিক হোটেল ম্যানেজার আবদুল গফুরকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে নিয়ে যান। কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্টেট সাইফুল ইসলাম জয় আপত্তিকর আচরণের অভিযোগে ম্যানেজারকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ৪ মাসের কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করেন। সেই সঙ্গে হোটেল ভাড়ার অগ্রিম ২৫ হাজার টাকা অবিলম্বে ফেরৎ দেওয়ার নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে হোটেল মালিক আবু সাঈদ চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে হোটেল কক্ষ ভাড়ার অগ্রিম ২৫ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে হোটেল ম্যানেজারের অর্থদণ্ডের ৫ হাজার টাকা ফেরৎ দিয়ে দণ্ডিত ম্যানেজার গফুর মুক্ত হয়েছেন।

ওদিকে কলাতলী সড়কের সী আলিফ নামের একটি হোটেলে সোমবার সকালে ঢাকা থেকে আসা এক দম্পতির নিকট থেকেও অতিরিক্ত কক্ষ ভাড়া আদায় করার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তাও ওই দম্পতির নিকট থেকে জোর করে কমপক্ষে দুই দিনের ভাড়াও একই সঙ্গে আদায় করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা