kalerkantho

বুধবার। ১৯ জুন ২০১৯। ৫ আষাঢ় ১৪২৬। ১৫ শাওয়াল ১৪৪০

ধর্ষণচেষ্টার ভিডিও ধারণের অভিযোগে দুই যুবক গ্রেপ্তার

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

২১ মে, ২০১৯ ২১:১৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ধর্ষণচেষ্টার ভিডিও ধারণের অভিযোগে দুই যুবক গ্রেপ্তার

পঞ্চগড়ে সদ্য এসএসসি পাস করা এক কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার ভিডিও মোবাইলে ধারণ করার অভিযোগে থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। এর মধ্যে মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন জেলা শহরের মিঠাপুকুর এলাকার আকবর আলীর ছেলে ফজলুল হক সাগর এবং পঞ্চগড় শহরের ডোকরোপাড়া এলাকার আমিনার রহমানের ছেলে জাফরুল ইসলাম অন্তর। ফজলুল হক সাগর পঞ্চগড় গণপূর্ত বিভাগের একজন কর্মচারী ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ওই ছাত্রী জাফরুল ইসলাম অন্তরের বান্ধবী। ছয় মাস আগে সে পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের তৎকালীন এসএসসি পরীক্ষার্থী ওই ছাত্রীকে কোচিং থেকে ফুঁসলিয়ে পঞ্চগড় ডিসি পার্ক এলাকায় ঘুরতে নিয়ে যায়। ডিসি পার্কের কাছেই মিঠাপুকুর শাহী মসজিদের পাশে কবরস্থানের রাস্তা ধরে হাঁটার সময় ফজলুল হক সাগর ওই শিক্ষার্থীকে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যায়। এ সময় ওই শিক্ষার্থীকে নগ্ন করে ধর্ষণের চেষ্টা করে সাগর। এক পর্যায়ে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে। এরপর মেয়েটিকে ছেড়ে দিলেও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ধারণ করা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে বিভিন্ন অশালীন আচরণ করতে থাকে সাগর। ভয়ে ওই শিক্ষার্থী পরিবারের কাউকে বিষয়টি জানায়নি। এর মধ্যে সাগর ভিডিওটি ছড়িয়ে দিলে গত ১৫ মে ওই শিক্ষার্থীর ভাই তার বন্ধুর মোবাইল ফোনে তার বোনের ধারণ করা নগ্ন বিষয়টি দেখতে পেয়ে পরিবারের সবাইকে জানায়। পরে ওই শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে গত ১৭ মে পঞ্চগড় সদর থানায় ফজলুল হক সাগর ও জাফরুল ইসলাম অন্তরকে আসামি করে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন।

মামলার পরপরই ওই দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আদালতের মাধ্যমে সাগরকে জেলহাজতে ও অন্তরকে কিশোর শোধনাগারে প্রেরণ করা হয়।

এদিকে ফজলুল হক সাগরের নামে পর্নোগ্রাফির মামলা হওয়ায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পদ থেকে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পঞ্চগড় গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাজিবুল ইসলাম তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বরাবরে সুপারিশ করেছেন।

মামলার বাদী ওই শিক্ষার্থীর মা জানান, মামলা দায়েরের পর থেকে ভয়ে ও লোকলজ্জায় বর্তমানে বাড়িতে থাকতে পারছি না। আসামিরা বিভিন্ন লোকজনের মাধ্যমে মীমাংসা করতে চাপ দিচ্ছে। আমরা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আর কেউ যেন কারো সাথে এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।

পঞ্চগড় জেলা পরিষদের সদস্য আকতারুন নাহার সাকী বলেন, এমন অশোভন ও অশালীন ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যাতে কেউ দিতে না পারে এ জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। আর সেই সাথে ওই ভিডিও যার কাছে পাওয়া যাবে তাকেও এই মামলার আসামি করা যাবে। তাই তিনি এই ভিডিওটি যার যার কাছে আছে তা মুছে ফেলার অনুরোধ জানান।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পঞ্চগড় সদর থানার উপ-পরিদর্শক জাহেদুল ইসলাম জানান, আসামিদের গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের জন্য আদালতে আমরা আসামিদের ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছি। রিমান্ড আবেদনের শুনানির দিন এখনো ধার্য হয়নি।

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাজিবুল ইসলাম জানান, সাগর আমাদের অফিসে প্রহরীর চাকুরি করতো। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বরাবর সুপারিশ করা হয়েছে।

পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাঈমুল হাছান বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মায়ের করা মামলাটি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে আমাসিদের গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে আসামিদের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা