kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

শ্রীবরদী বাড়ছে অবৈধ করাত কল!

শ্রীবরদী (শেরপুর) প্রতিনিধি   

২১ মে, ২০১৯ ০৫:০৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শ্রীবরদী বাড়ছে অবৈধ করাত কল!

ছবি: কালের কণ্ঠ

বন আইন উপেক্ষিত শেরপুরের শ্রীবরদীতে বাড়ছে অবৈধ করাত কল। এতে চুরি হচ্ছে সরকারের লাখ লাখ টাকা মূল্যের বন বাগানের বৃক্ষসহ রাস্তার দুই পাশের বৃক্ষ। ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশের। লাইসেন্সবিহীন করাত কল গড়ে ওঠায় বছরে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। রহস্যজনক কারণে স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি জেনেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলেছেন বন বাগানের অংশীদারসহ সচেতন মানুষরা। সোমবার সরেজমিন গেলে বন বাগানের অংশীদার, স্থানীয লোকজন, বন বিভাগের কর্মকর্তা ও অভিযোগসহ বিভিন্ন সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

 
জানা যায়, বন আইন অনুযায়ী বন বিভাগের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে করাত কল ('স' মিল) দেওয়া নিষেধ। অথচ ওই আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শ্রীবরদী উপজেলার রানীশিমুল ইউনিয়নের রানীশিমুল বজারের পাশে করাত কল দিয়েছে কালাম মিয়া, রিপন মিয়া, ইমরান মিয়া, মিলন মিয়া ও নুর মোহাম্মদসহ ৭/৮ জন। 

এ ছাড়াও কাকিলাকুড়া চৌরাস্তা বাজার, খনচেপাড়া বাজার, গড়ের বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে প্রায় অর্ধশত করাত কল রয়েছে। যা বন বাগানের ১০ কিলোমিটারের অভ্যন্তরে। এ ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠেছে অবৈধ করাত কল। এদের অনেকেরই নেই লাইসেন্স বা বন বিভাগের কোনো অনুমোদন। 

করাত কল মালিক কালাম মিয়া জানান, বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেই করাত কল দিয়েছি। তবে আরেক করাত কল মালিক রিপন মিয়া জানান, সম্প্রতি অভিযান চালিয়ে তার নামে মামলা দিয়েছে। কিন্তু পাশের করাত কল মালিকদের বিরুদ্ধেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বন বাগানের এক অংশীদার জানান, এসব চোরাই কাঠ চিরাই করা ওইসব অবৈধ করাত কলে। ফলে দিন দিন বাড়ছে বৃক্ষ চুরি। সেই সাথে বাড়ছে অবৈধ করাত কলের। শ্রীবরদী হতে ভায়াডাঙ্গা বাজার ও শ্রীবরদী হতে কর্ণঝোড়া বাজারের সড়কের অনেক পথচারী জানান, রাস্তার দু’পাশে অনেক বড় বড় গাছ ছিল। রোদের দিনে এসব গাছের নিচে ছায়ায় মানুষ নির্মল বাতাশে দাঁিড়িয়ে শরীরকে ঠান্ডা করে নিতো। দিন দিন এসব গাছ চুরি হচ্ছে।

এতে সরকার বছরে লাখ লাখ রাজস্ব হারাচ্ছে। তবে প্রশাসনের পদক্ষেপ না থাকায় বাড়ছে চুরির সংখ্যা। বন বাগানের অংশীদারসহ অনেকের দাবি, প্রশাসন ঘণ ঘন অভিযান পরিচালনা কররেল কমবে বৃক্ষ চুরি। পরিবেশ ফিরে পাবে তার ভারসাম্য। এসব অবৈধ করাত কলের সত্যতা নিশ্চিত করে বালিজুরি রেঞ্জ অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, খুব শিগগির অবৈধ করাত কলের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা