kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

তীব্র গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিতরণ বন্ধ রাখা ও অনিয়ম বন্ধের দাবিতে

চকরিয়ায় পিডিবি কার্যালয় ঘেরাও

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি   

২১ মে, ২০১৯ ০০:২০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চকরিয়ায় পিডিবি কার্যালয় ঘেরাও

ক্ষুব্ধ মানুষ চকরিয়া পিডিবি কার্যালয় ঘেরাও করে রাতে। ছবি: কালের কণ্ঠ

প্রচণ্ড দাবদাহের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখায় কক্সবাজারের চকরিয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে মানুষ। উপজেলার যেসব এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ রয়েছে তারা বর্তমানে ২৪ ঘণ্টাই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ পাচ্ছেন। কিন্তু পিডিবির গ্রাহকেরা ভোগ করছেন ভয়াবহ যন্ত্রণা। 

এই অবস্থায় রোজাদার মানুষ, মসজিদের মুসল্লি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষও ক্ষুব্ধ হয়ে সোমবার রাতে চকরিয়া পৌর শহরের চিরিঙ্গাস্থ পিডিবির আবাসিক প্রকৌশলীর কার্যালয় ঘেরাও করে। এ সময় তারা ঘোষণা ছাড়াই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা, বর্তমান আবাসিক প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মঈনউদ্দিন এবং আরেক উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাদিউজ্জামানের লাগামহীন অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করার দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে কার্যালয়ের সামনেই।

তবে এ সময় আবাসিক প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মঈনউদ্দিন স্টেশনে অনুপস্থিত ছিলেন। বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাওকারী ক্ষুব্ধ লোকজন কিছুক্ষণ অবস্থানের পর তারা চলে যান। 

পরে খবর পেয়ে থানা থেকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ আবাসিক প্রকৌশলীর কার্যালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা কার্যালয়ে উপস্থিত অধস্তন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রচণ্ড গরমের যন্ত্রণায় অতিষ্ট মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না পেয়ে আবাসিক প্রকৌশলীর কার্যালয় ঘেরাও করেছিল। তবে কার্যালয়ের কোনো স্থাপনা বা আসবাবপত্রে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তারা পাননি। এমনকি পিডিবি কার্যালয়ের কোনো কর্মকর্তাও জানাননি সেখানে ক্ষুব্ধ লোকজন হামলা করার ঘটনা।

কেন এই ঘেরাওয়ের ঘটনা ঘটেছে, জানতে চাইলে দ্বিতীয় কর্মকর্তা উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাদিউজ্জামান গতরাতে বলেন, পৌরসভার তরছ পাড়া ও পার্শ্ববর্তী ভেওলা এলাকাটি সকাল থেকে বিদ্যুৎবিহীন ছিল। যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ওই দুই এলাকা দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎহীন থাকলেও আগে থেকে বিষয়টি ওই এলাকার গ্রাহকদের জানানো হয়নি। তাই তারা ক্ষুব্ধ হয়ে এখানে এসেছেন। আগে থেকে ঘোষণা না দেওয়ার কারণে এই ঘটনা ঘটেছে বলেও স্বীকার করেন তিনি।

চকরিয়া পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার সাধারণ গ্রাহক, পৌর শহরের বিভিন্ন বিপনী বিতানের ব্যবসায়ী, ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও রোজাদার মানুষ অভিযোগ করেছেন, বর্তমান আবাসিক প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মঈনউদ্দিন ও দ্বিতীয় কর্মকর্তা আরেক উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. সাদিউজ্জামান সিন্ডিকেট করে নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে গেছেন। মিটার বাণিজ্য, টমটমের গ্যারেজ থেকে মাসোয়ারা আদায়, সাধারণ গ্রাহকের ওপর ভুতুড়ে বিল চাপিয়ে দিয়ে মোটা অংকের টাকায় টমটম গ্যারেজ মালিকদের প্রণোদনা দেওয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এসবের পরেও সাধারণ মানুষের চাওয়া নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া। কিন্তু বর্তমান এই দুই কর্মকর্তা সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা না করে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত রয়েছেন।

অবশ্য ভারপ্রাপ্ত আবাসিক প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রতিদিন বেড়েই চলেছে বিদ্যুতের চাহিদা। তার ওপর প্রচণ্ড দাবদাহ চলছে। তার কার্যালয়ের অধীন ২২ হাজার গ্রাহকের জন্য প্রতিদিন প্রায় ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ৮ মেগাওয়াট। এ কারণে লোডশেডিং করা হচ্ছে। তাই বলে এভাবে রাতে কার্যালয়ে হামলে পড়তে হবে, তা খুবই দুঃখজনক।

তিনি দাবি করেন, বর্তমানে চকরিয়া পৌর শহরের কোচপাড়া পাওয়ার ট্রান্সমিটার থেকে ২২ হাজার গ্রাহককে ৫টি লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিতরণ করা হয়। তন্মধ্যে ৩টি লাইন চালু থাকলেও অন্য ২টি লাইন বন্ধ রাখতে হয়।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা