kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

মালয়েশিয়া নিয়ে যাওয়ার নামে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে প্রতারণা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার ও টেকনাফ প্রতিনিধি   

২০ মে, ২০১৯ ২৩:৪৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মালয়েশিয়া নিয়ে যাওয়ার নামে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে প্রতারণা

ছবি: কালের কণ্ঠ

মালয়েশিয়া নিয়ে যাওয়ার নামে পাচারকারীরা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে সর্বস্ব খুইয়ে নিচ্ছেন। একাধিক সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্র উখিয়া ও টেকনাফের ৩০টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের পাচারে সক্রিয় রয়েছে। তারা রোহিঙ্গাদের মালয়েশিয়া পাচারের নামে ক্যাম্প থেকে বের করে এনে নির্জন স্থানে নিয়ে তাদের সবকিছু কেড়ে নেয়। অনেক সময় রোহিঙ্গাদের মালয়েশিয়া নিয়ে যাওয়ার নামে সাগর কিনারা হতে নৌকায় তুলে ঘণ্টা তিনেক সাগরে ঘুরিয়ে অচেনা স্থানে নামিয়ে দিয়ে বলে-‘যাও মালয়েশিয়ায়।’ আজ সোমবার ভোরে এমন এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে রোহিঙ্গারা।

কক্সবাজারের টেকনাফের মুচনী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ১৫ জন রোহিঙ্গার একটি দল ও উখিয়া উপজেলার থাইংখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ১৭ জন রোহিঙ্গার আরো একটি দল নিয়ে পাচারকারী চক্রের সদস্যরা তাদের সৈকত তীরবর্তী উখিয়ার রেজুখাল এলাকায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাদের ট্রলারে করে মালয়েশিয়া নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানানো হয়। পরে তাদের সেখান থেকে সন্ধ্যার পর দুটি ট্রলারে ওঠানো হয়।

ট্রলারে ওঠানোর পর রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও অন্যান্য মূল্যবান দ্রব্যাদি ছিনিয়ে নেয় পাচারকারীরা। এর পর ওই ৩২ জন রোহিঙ্গাকে দুটি ট্রলারে রাতভর বঙ্গোপসাগরে এদিক ওদিক ঘুরিয়ে ভোর রাতের দিকে কক্সবাজারের বিমানবন্দর সংলগ্ন উত্তর নুনিয়াছড়া এলাকায় বাঁকখালী নদীর মোহনায় নামিয়ে দেয়। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা পাচারকারী চক্রের সদস্যরা এটিই মালয়েশিয়া বলে পালিয়ে যায়।

ভোরের আলোয় প্রতারণার শিকার রোহিঙ্গারা অনেকে দ্বিগবিদিক ছুটোছুটির পর স্থানীয় জনগণের হাতে উদ্ধার হয় ১০ জনের একটি দল। রোহিঙ্গাদের এই দলে ৮ জন নারী ও ২ জন পুরুষ রয়েছে। আজ সকালে কক্সবাজার জেলা যুবলীগের সদস্য আনোয়ার করিমের নেতৃত্বে স্থানীয় একদল যুবক মালয়েশিয়া যাওয়ার নামে প্রতারণার শিকার রোহিঙ্গাদের উদ্ধার করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গা নারী ছলিমা আকতার বলেন, আমাদের মালয়েশিয়া নিয়ে যাওয়ার কথা বলে একটি বোটে (ট্রলারে) ওঠানো হয়। এর আগে আমাদের সবকিছু ছিনিয়ে নিয়েছিল দালালরা। এর বোটে ওঠার পর বোটের মাঝি ও অন্যান্য লোকজন আমাদের শেষ সম্বল যা কিছু ছিল তাও কেড়ে নেয়। এরপর সারারাত বোট চালিয়ে তারা আমাদের এই জায়গায় এনে নামিয়ে দেয় এবং বলে যে এটিই নাকি মালয়েশিয়া।

থায়ংখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের রোহিঙ্গা কামাল হোসেন বলেন, আমাদের সঙ্গে অনেক রোহিঙ্গা ছিল। দালালরা আমাদের মালয়েশিয়া পৌঁছে দেওয়ার নামে ক্যাম্প থেকে বের করে এনে উখিয়ার একটি এলাকায় নিয়ে গিয়ে সবকিছু ছিনিয়ে নেয়। তারপর সেখান থেকে বোটে তুলে মালয়েশিয়া পৌঁছে দেওয়ার নামে বাঁকখালী নদীর মোহনায় এনে নামিয়ে দেয়। এ সময় স্থানীয় লোকজন আমাদের ভুল ভাঙেন।

পাচারকারীদের কবলে পড়া রোহিঙ্গাদের উদ্ধারকারী কক্সবাজার জেলা যুবলীগের সদস্য আনোয়ার করিম বলেন, ফজরের নামাজের পর আমি ও আমার এক বন্ধু মর্ণিং ওয়াক করছিলাম। এ সময় উত্তর নুনিয়াছড়া এলাকায় রোহিঙ্গা নারী-পুরুষদের একটি দল দেখতে পাই এবং আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলি। তারা আমাদের কাছে জানতে চায়, এলাকাটি মালয়েশিয়া কিনা? পরে আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পারি, তারা মালয়েশিয়া যাওয়ার নামে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। পরে কক্সবাজার মডেল থানার পুলিশের একটি দল রোহিঙ্গাদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

কক্সবাজার মডেল থানা পুলিশের ওসি ফরিদ উদ্দীন খন্দকার বলেন, পাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব খোয়ানো ও প্রতারণার শিকার ১০ জন রোহিঙ্গার একটি দল উদ্ধার করা হয়েছে। তারা সম্ভবত মানবপাচারকারী চক্রের ফাঁদে পড়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার নামে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা