kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

এ কেমন বর্বরতা!

দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

২০ মে, ২০১৯ ২৩:২১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এ কেমন বর্বরতা!

ছবি: কালের কণ্ঠ

দেবীদ্বারে এক হতদরিদ্র কৃষকের সব্জীবাগানের ফলন্ত সব্জীর দুই শতাধিক গাছকেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক টাকার সবজির ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের। ঘটনাটি ঘটে রবিবার ভোর রাতে দেবীদ্বার পৌর এলাকার বড় আলমপুর গ্রামের মো. রাসেল মিয়ার সবজি বাগানে।

ওই ঘটনায় বাগান মালিক বড় আলমপুর গ্রামের বসকর আলরি বাড়ির সামসুল হকের পুত্র দরিদ্র কৃষক মো. রাসেল বাদী হয়ে, বড় আলমপুর গ্রামের আ. মজিদ’র ছেলে মো. জহিরুল ইসলাম (৫০), মো. জহিরুল ইসলামের ছেলে মো. জুয়ল (৩০) এবং মো. ফজলু সরকারের ছেলে মো. কাইয়ুম (৩২) সহ তিনজনকে অভিযুক্ত করে দেবীদ্বার থানায় একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

ওই অভিযোগের ভিত্তিতে রবিবার দিবাগত রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বড় আলমপুর গ্রামের মো. জহিরুল ইসলামের ছেলে মো. জুয়ল (৩০)কে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

সংবাদ পেয়ে সোমবার দুপুরে সরেজমিনে ওই গ্রামে যেয়ে দেখা যায় এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য। জমিতে বপনকৃত প্রায় দেড়শত ফলন্ত লাউ ও প্রায় ৫০টি শষা গাছের গোড়া কেটে রেখেছে। মাচার ওপর শত শত ঝুলন্ত লাউ ও শশা গুটি। সবুজের মাঝে আরো সবুজ এ সবজিগুলো যে কারোরই দৃষ্টি কাড়ে। কিন্তু যখন দেখেন লাউ এবং শসার ডোগাগুলো ঝিমিয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে এবং শত শত অপরিপক্ক লাউ, শশা মৃত্যুর যাত্রী হয়ে ঝুলে আছে তখন সবাই বাকরুদ্ধ ও অশ্রুসিক্ত হয়ে শিহরে উঠে বলেন, এ কেমন বর্বরতা?

স্থানীয়রা জানান, মো. রাসেলের বাড়ি মুরাদনগর উপজেলার নবীয়াবাদ গ্রামে। বড়আলমপুর গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে থেকে জমি পত্তন নিয়ে চাষাবাদ এবং রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। এখানে নাসির মিয়ার মালিকানাধীন ৩০ শতাংশ পত্তনে রাখা জমিতে দাদনে টাকা এনে লাউ, শসা, করলা, চিন্দ্রা, কইডা চাষ করেন। 
এরই মধ্যে ফলনও শুরু হয়েছে। সবজি বাগানের ফলন দেখে পরিবারের সবার চোখে- মুখে ছিল আনন্দের উচ্ছ্বাস। কে জানত ফসল ঘরে তোলার আগেই দুষ্কৃতিকারীরা সকল আশা ভঙ্গ করে দেবে?

ভুক্তভোগী মো. রাসেল জানান, এ সবজি বাগানে পরিবারের সবাইকে নিয়ে টানা পরিশ্রম করেছি। দিনের এক বেলা রিকশা চালিয়েছি আর একবেলা সবজি বাগানে কাজ করেছি। রাতেও এক বেলা রিকশা চালিয়েছি অন্য বেলা বাগানের পরিচর্যা করেছি। ফলনও আশানুরূপ দেখেছি। এতে আমার পরিবারই নয়, প্রতিবেশীরাও খুশি ছিলেন।

রাসেল আরো জানান, গত ১ মে সবজি বাগানে পানি দেয়াকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী জমির মালিক জহিরুল ইসলাম, জুয়েল ও কাইয়ুম সঙ্গে ঝগড়া হয়, এক পর্যায়ে কাচি দিয়ে আমাকে মারাত্মক জখম করে, স্থানীয়রা উদ্ধার করে সাশিসে বিষয়টি মিমাংসা করে দেন। পরবর্তীতে প্রতিপক্ষ আমাকে দেখলেই জীবন নাশের হুমকিসহ ফসল ধ্বংস করার হুমকি দিয়ে আসছিল।

রাসেলের স্ত্রী রহিমা খাতুন বলেন, আমাদের পরিবারের সকল ধ্যান, শ্রম, চিন্তা-ভাবনা এ সবজি বাগানকে ঘিরেই ছিল। আজ সোমবার সকল স্বপ্ন থেঙ্গে চুরমার হয়ে গেল বলেই হাউ-মাউ করে কেঁদে উঠেন।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, সব্জীবাগানের মালিক’র শ্বশুর বাড়ির লোকজনও সন্দেহের বাহিরে নয়, যাদের অভিযোগ করা হয়েছে তারা হিংস্র তবে এতটা নির্দয় নয়। বিষয়টি ভালোভাবে তদন্ত করলেই আসল অপরাধীরা বেড়িয়ে আসবে।

উপস্থিত স্থানীয় নূরে মদীনা রওজাতুল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা মো. মঈনুদ্দিন, গ্রামের মো. হরমজ আলী(৭০), মো. রফিকুল ইসলাম(৬০), মো লুতু মিয়া(৪৫), রহিমা খাতুন (৫০) এ বর্বরোচিত ঘটনার তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

এ ব্যাপারে সোমবার বিকেল ৫টায় দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জহিরুল আনোয়ার জানান, সবজি বাগানের গাছ কাটার অভিযোগে একজন আটক হলেও স্থানীয় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি আবুল কাসেম ওমানী নিজ দায়িত্বে বিষয়টি নিষ্পত্তির আশ্বাসে আটককৃত ব্যক্তিকে জিম্বায় নিয়ে যান।

মন্তব্য