kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

মাছ আহরণে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা

উপকূলের জেলেদের ঈদ আনন্দ মাটি হওয়ার আশঙ্কা

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি   

২০ মে, ২০১৯ ২২:১৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উপকূলের জেলেদের ঈদ আনন্দ মাটি হওয়ার আশঙ্কা

বরগুনার পাথরঘাটাসহ উপকূলের জেলেরা মৌসুমের শুরুতেই ইলিশ আহরণে ৬৫ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছেন। এই লম্বা সময় মাছ ধরতে না পারলে জেলে-শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট সকল উপকূলবাসীর ঈদ আনন্দ মাটি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন জেলে, ট্রলার মালিক ও ব্যবসায়ীরা। এতে বাড়ছে হতাশা ও ক্ষোভ।

স্থানীয় জেলে ও ট্রলার মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ বলছেন, সারা বছরে ৫ মাস ইলিশ ধরার সময় থাকলেও নতুন করে ৬৫ দিনের অবরোধ আরোপে মৎস্য পেশায় সংশ্লিষ্টদের এখন মহা দুর্দিন।

প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপণে ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত মোট ৬৫ (২ মাস ৫দিন) দিন সাগরে সব ধরণের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার জারি করা হয়েছে।

বছরের জ্যৈষ্ঠ থেকে আশ্বিন পর্যন্ত পাঁচ মাস ইলিশের ভরা মৌসুম। জেলেদের ইলিশ ধরার বোট ও জাল মেরামত করে সাগরে যাওয়ার প্রস্ততির সময় এখনই। ইতিমধ্যে দাদন গ্রহণ, এনজিওর কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ সবই শেষ। মৌসুমের শুরুতে জেলেরা ফিশিং বোট ও জাল মেরামত করে সাগরে যাওয়ার প্রস্ততির শেষ সময়ে এ বছর প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়।

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা বন্ধের ঘোষণায় রবিবার সারা উপকূলে মাইকে নিষেধাজ্ঞার কথা প্রচার করা হয়। এ কারণে শতশত ট্রলার সাগর থেকে ঘাটে ফিরে এসেছে।

রবিবার সরেজমিনে বিভিন্ন জেলেপল্লী ঘুরে জানা যায় নানা অভিমত। পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের জিনতলার গ্রামের জেলে আবুল ফরাজী জানান, মোরা সাগরকূলে থেকে মাছ ধরা ছাড়া আর কিছুই জানি না। কোনো দক্ষতা নাই। বছরের আশ্বিন মাসের (৭-২৮ অক্টোবর) ২২ দিন মা মাছ রক্ষার নিষেধাজ্ঞা, ৮ মাস চলে জাটকা নিধন প্রতিরোধ। এর পর জ্যৈষ্ঠ-আশ্বিন পর্যন্ত পাঁচ মাস থাকে মাছ ধরার জন্য। এ সময়ে নিম্নচাপ, লঘুচাপ নানা দুর্যোগের বাধা মেনে নিয়ে ঝুঁকি নিয়ে মাছ ধরি। এর মধ্যে নতুন করে ৬৫ দিনে অবরোধ আমাদের জানে মারার কৌশল করছে সরকার।

গত ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে এক সন্তান ও মা হারা জেলে শ্রমিক চরদুয়ানী ইউনিয়নের মো. ইব্রাহিম কালের কণ্ঠকে জানান, ঈদ সামনে। মা এবং সন্তান হারালেও পরিবারে স্ত্রী ও অন্য সন্তান আছে। সাগরে যাওয়া সম্ভব না হলে এবার ঈদ আনন্দ হবে না।

শহরের ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অরুণ কর্মকার কালের কণ্ঠকে জানান, হঠাৎ করে সরকারের ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার ফলে আসন্ন ঈদ বাজারে মন্দা দেখা দেবে। প্রতিবছর সাগরে ইলিশের আমদানির ওপর সকল ধরণের পণ্য বেচাকেনা নির্ভর করে। উপজেলার অধিকাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে মাছ আহরণ, পরিবহন বা ব্যবসার সাথে জড়িত।

বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, সরকার যে উদ্দেশ্যে নিশেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন তা আমাদের ইলিশ ধরার জন্য প্রযোজ্য নয় কারণ আমরা ৪ ইঞ্চি ফাঁসের জাল দিয়ে মাছ ধরি। সমগ্র উপকূলে আমরা প্রতিবাদ, বিক্ষোভ, মানববন্ধন করেছি। সরকারের কাছে আমাদের রক্ষার আবেদন করেও ফল পাইনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা