kalerkantho

সোমবার । ২৪ জুন ২০১৯। ১০ আষাঢ় ১৪২৬। ২০ শাওয়াল ১৪৪০

সরকারি রাস্তা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ!

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২০ মে, ২০১৯ ২০:১১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সরকারি রাস্তা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ!

কিশোরগঞ্জের ভৈরবের কালিকাপ্রসাদে সরকারি সড়ক দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। সড়কটিতে স্থাপনা নির্মাণ হলে এলাকাবাসী, পথচারী ও স্কুলগামী শত শত শিক্ষার্থীর চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে। এতে জনগণের ভোগান্তি বাড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য ফিরোজা বেগম এর প্রতিকার চেয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল কবীরসহ স্থাপনা নির্মাণকারী সোহাগ মোল্লা ও তার স্ত্রী শায়লা বেগমকে অভিযুক্ত করে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভৈরব থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে জানা যায়, কালিকাপ্রসাদ মিয়া বাড়ি থেকে কালিকাপ্রসাদ উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত চলাচলের জন্য (২০১৭-১৮) অর্থ বছরে ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচির আওতায় টিআর কাবিখার বরাদ্ধ ও সাংসদের বরাদ্ধের আওতায় একটি কাঁচা সড়ক নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে এলজিআরডির তত্ত্বাবধানে সড়কটি পাকাকরণের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল কবিরের প্ররোচনায় সোহাগ মোল্লা ও তার স্ত্রী শায়লা বেগম কাঁচা সড়ক কেটে স্থাপনা নির্মাণ করছেন। 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সোহাগ মোল্লার বাড়িতে গিয়ে তাকে ও তার পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। এমনকি তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল কবির জানান, সোহাগ মোল্লা তার জমিতে দেয়াল নির্মাণ করছেন। সরকারি কোনো হালটের জায়গা এখানে নেই। এ বিষয়ে তিনি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এ বিষয়ে ভৈরব থানার উপ-পরিদর্শক রাসেল মিয়া জানান, উভয়পক্ষ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং সড়কে দেয়াল নির্মাণ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছি।

অভিযোগকারী ইউপি সদস্য ফিরোজা বেগম জানান, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল কবীরের প্ররোচনা ও শক্তিতে সোহাগ মোল্লা সড়ক কেটে ও দখল করে স্থাপনার দেয়াল নির্মাণ করছেন। এতে বাঁধা দিলে তারা আমাকে হুমকি-ধমকিসহ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। সড়কটিতে দেয়াল নির্মাণ হলে জনগণের চলাচলে অসুবিধা হবে। তাছাড়া সড়কটি পাকাকরণের জন্য এলজিআরডির তত্ত্বাবধানে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ওসি বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফারুক মিয়া জানান, এক সময় মিয়া বাড়ি থেকে হাইস্কুল পর্যন্ত কোনো সড়ক না থাকায় স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও পথচারীদের মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হতো। সড়কটি নির্মাণ হওয়ায় এ এলাকার জনগণের ভোগান্তির শেষ হয়েছে। তবে সড়কটি কেটে একটি প্রভাবশালী মহল দখলের চেষ্টা করছে যা নতুন করে এলাকাবাসীর ভোগান্তির কারণ হতে পারে।

তবে অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয় তহশিলদারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত সাদমিন।

মন্তব্য