kalerkantho

সোমবার । ২৪ জুন ২০১৯। ১০ আষাঢ় ১৪২৬। ২০ শাওয়াল ১৪৪০

খুনির বাড়িঘরে বিক্ষুব্ধ জনতার আগুন

মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় ছুরিকাঘাতে যুবক খুন

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

১৯ মে, ২০১৯ ০০:৫৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় ছুরিকাঘাতে যুবক খুন

নিহত মো. নুরুজ্জামান জনি। ছবি: কালের কণ্ঠ

স্নাতকোত্তর শেষ করে ভালো কোনো চাকরি জোটাতে পারেননি মো. নুরুজ্জামান জনি (৩২)। পরে স্থানীয় একটি বেসরকারি কম্পানিতে ছোট চাকরি নেন। এ ছাড়া সরকারের ন্যাশনাল সার্ভিসেও কাজ করেছেন তিনি। এসব করে যা আয় হতো তা দিয়েই বিধবা মাকে নিয়ে সংসার চালাতেন। এলাকায় মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। এ কারণে এক মাদক ব্যবসায়ী মিথ্যা মামলায় তাঁকে ফাঁসিয়ে দেয়। এবার সেই মাদক ব্যবসায়ীর হাতেই তিনি নৃশংসভাবে খুন হন।

থানা-পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত মো. নুরুজ্জামান জনি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের কুমড়ী গ্রামের মৃত সিদ্দিকুর রহমান মাস্টারের একমাত্র ছেলে। গত শুক্রবার রাতে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে তাঁকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। 

এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের নহাটা বাজারে। এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা রাত ১০টার দিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বাড়িঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। শনিবার ওই এলাকা পরিদর্শন করছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এলাকায় পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নহাটা গ্রামের মৃত আজিম উদ্দিনের ছেলে মো. নুরু মিয়া এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। নুরু মিয়ার নেতৃত্বে কিছু তরুণ ও যুবক মাদক ব্যবসা করতো। অন্যদিকে নুরুজ্জামান জনি ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজ থেকে হিসাব বিজ্ঞানে অনার্সসহ মাস্টার্স পাস করেন। তিনি উপজেলার মাওহা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক। 

একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নুরুজ্জামান জনি মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে ছিলেন। এসবের প্রতিবাদ করতেন। এ নিয়ে জনির সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ী নুরুর বিরোধ দেখা দেয়।

বিগত সময় মাদকের ব্যবসা করার অভিযোগে নুরু মিয়া পুলিশের হাতে একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যায়। গ্রেপ্তার ও জেলখাটার জন্য নুরু মিয়া জনিকে দায়ী করতো। এ নিয়ে দু'জনের মধ্যে বিরোধ ও শত্রুতা দেখা দেয়।

গত শুক্রবার ইফতারের পর নুরুজ্জামান জনি বাড়ি থেকে বের হয়ে নহাটা বাজারে রোকন মিয়ার চায়ের দোকানে বসেন। এ সময় নুরু মিয়ার নেতৃত্বে ১৫/২০ জনের একটি সশস্ত্র দল জনিকে সুজন মাহমুদের কম্পিউটারের দোকানের সামনে ডেকে নেয়। সেখানে যাওয়ার পর সশস্ত্র দলটি জনির ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা জনির বুক ও মুখে ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। প্রাণ বাঁচাতে তিনি দৌঁড়ে বাজারের কাছে খোকন মিয়ার পুকুর পাড়ে গিয়ে পড়ে যান। স্থানীয় লোকজন তাকে সেখান থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক জনিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এদিকে জনির মৃত্যুর সংবাদ নহাটা গ্রামে পৌঁছার পর এলাকা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রাত ১০টার দিকে কয়েক শ লোক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নূরু মিয়া, কাঞ্চন মিয়া, জিলু মিয়া, শিরু মিয়া, মোজাম্মেল, শামছু, হেলিম ও আব্দুল খালেকের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়।

নিহত নুরুজ্জামান জনির মা ঝরনা খাতুন ও তাঁর অন্য স্বজনরা জানান, মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকাই তাঁর কাল হয়েছে। তারা আরো বলেন, শুক্রবার বিকেলে উপজেলার বৈখেরহাটি বাজারে জনির সাথে নূরু মিয়ার তর্কাতর্কি হয়। ইফতারের পর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ জনিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। 

গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, মাদক সেবী ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাই তাদের টার্গেটে পরিনত হয়েছিল জনি। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য