kalerkantho

সোমবার । ২৪ জুন ২০১৯। ১০ আষাঢ় ১৪২৬। ২০ শাওয়াল ১৪৪০

শেরপুর সীমান্তে বাড়ছে গরু চোরাচালান

শ্রীবরদী (শেরপুর) প্রতিনিধি   

১৮ মে, ২০১৯ ২৩:১৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শেরপুর সীমান্তে বাড়ছে গরু চোরাচালান

সম্প্রতি তোলা শ্রীবরদীর সীমান্ত এলাকায় গরু চোলাচালানের একটি দৃশ্য। ছবি: কালের কণ্ঠ

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে শেরপুরের শ্রীবরদীর সীমান্ত দিয়ে আবারো বাড়ছে গরু চোরাচালান। বিজিবির হাতে গরু ও মাদকদ্রব্যসহ আটকও হচ্ছে চোরাকারবারীরা। তবুও চলছে গরুসহ মাদক দ্রব্যের চোরাচালান। চোরাকারবারী নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও আইন শৃংখলা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করছে। তবুও বন্ধ হচ্ছে না এ অবৈধকারবার। এতে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা। এমনটাই আশংকা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শনিবার সরেজমিনে স্থানীয় লোকজন ও আইন-শৃংখলা বাহিনীসহ বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গে কথা বলে ওঠে আসে এমন তথ্য।

জানা যায়, শ্রীবরদী উপজেলার রানীশিমুল ও সিংগাবরনা ইউনিয়নের সীমান্ত ঘেঁষা বাবেলাকোনা, চান্দাপাড়া, দিঘলাকোনা, হারিয়াকোনা, মালাকোচা, বালিজুরি, খারামোরাসহ ১০টি গ্রাম ঘেঁষা ভারতের সীমানা পিলারের জিরো পয়েন্ট। এসব সীমানায় রয়েছে পানি চলাচলের জন্যে গোলাকৃতির বড় কালভার্ট। আবার যেখানে কাঁটা তারের বেড়া শেষ সেখানে রয়েছে খোলা অংশ। অথবা জিরো পয়েন্টে ভারতীয় অংশের ব্রিজের নিচে খাল। এসব কালভার্ট, ব্রিজ ও কাঁটাতারের বেড়ার শেষাংসসহ বিভিন্ন স্থানের ফাঁক ফোকর ব্যবহার করে চোরাকারবারিরা বিএসএফ ও বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে ভারত থেকে আনছে গরু ও মাদকদ্রব্য। স্থানীয় বাজারে বেচাকেনাও হচ্ছে ভারতীয় গরু। মাদকদ্রব্য বিক্রি হচ্ছে সিক্রেট। এসব চোরাকারবারীর আধিপত্য নিয়ে তাদের মধ্যেও রয়েছে অন্ত:দ্বন্দ্ব। এর মধ্যে গরু চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করছে স্থানীয় একটি মাদক ব্যবসায়ী চক্র। স্থানীয়রা কেউ তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারে না বলে জানান অনেকে।

সূত্র জানান, চোরাকারবারীরা হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে টাকা পাঠিয়ে এদেশে আনছে গরু। রয়েছে জীবনের ঝুঁকি। তবুও থেমে নেই ভারত থেকে চোরাইপথে গরুর ব্যবসা। গরু চোলাচালান নিয়ে বিজিবি ও চোরাকারবারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় বিজিবি চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মামলা মোকদ্দমায় কেউবা রয়েছেন এলাকা ছাড়া।

এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউপি সদস্য জহুরুল হক জানান, স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই তারা এ ব্যবসা করে। নইলে প্রশাসন তাদের ওপর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয় না কেন? সিংগাবরনা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রেজ্জাক মজনু বলেন, ভারত থেকে চোরাই পথে গরু ও মাদকদ্রব্য আসছে। এলাকার কিছু লোক চোরাচালানীর সঙ্গে জড়িত। চলতি মাসের উপজেলা পরিষদের সোমেশ্বরি হলরুমে অনুষ্ঠিত উপজেলা আইন শৃংখলা কমিটির সভায় তিনি আরো বলেন, চোরাচালান রোধে অভিযোগ করেও কোনো লাভ হচ্ছে না।

তবে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন বলে জানান, এই প্রতিনিধিকে। থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রুহুল আমিন তালুকদার বলেন, চোরাচালান ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভিযান অব্যাহত। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেঁজুতি ধর। এ সময় তিনি বলেন, আইন-শৃংখলা বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনেরও সচেতন হতে হবে।

মন্তব্য