kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

আশ্রয়দাতা নানাই নাতনীর সর্বনাশ করলো, অবশেষে গ্রেপ্তার

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

১৬ মে, ২০১৯ ২০:১৫ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আশ্রয়দাতা নানাই নাতনীর সর্বনাশ করলো, অবশেষে গ্রেপ্তার

নানার কাছে দেখভালের জন্য রাখা হয়েছিলো নাতনীকে। সেই নানাই তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করেছে বার বার। নাতনী বিয়ের চাপ দিলে নানা অস্বিকৃতী জানায়। এ নিয়ে মামলা হলে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে নানাকে।

ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে। কিশোরী নাতনীকে ধর্ষণের অভিযোগে মির্জাপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জুলহাস মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে পৌর শহরের ইউনিয়ন পাড়ার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জুলহাস মিয়া উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের গোড়াইল গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মো. আলাল মিয়ার ছেলে। 

মামলা সূত্রে জানা গেছে, জুলহাসের এক ভাতিজীর প্রায় ১৪ বছর আগে ইচাইল গ্রামে বিয়ে হয়। তাদের ঘরে ওই মেয়ের জন্ম হয়। জন্মের এক বছর পর তার বাবা মায়ের ছাড়াছাড়ি হয়। বছর কয়েকের মধ্যে মায়ের অন্যত্র দ্বিতীয় বিয়ে হলে বাবা তার মেয়েকে নিজের কাছে নিয়ে যান। কয়েক বছর পূর্বে কিশোরীর বাবা বিদেশে যাবার আগে মেয়েকে দেখভাল ও লালন পালনের জন্য বিশ্বস্ত আভিভাবক হিসেবে নানা জুলহাসের কাছে রেখে যান। এরমধ্যে গত এক বছর ধরে ওই কিশোরী নাতনীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করে আসছিল জুলহাস। সর্বশেষ গত ৬ মে রাত সাড়ে এগারোটার দিকে তার বাসায় জুলহাস তাকে ধর্ষণ করে। নাতনী জুলহাসকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকলে সে এতে অস্বিকৃতী জানায়।

এ ঘটনায় বুধবার ওই কিশোরী মির্জাপুর থানায় নানা জুলহাসের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। বুধবার রাতেই পুলিশ মির্জাপুর সদরের ইউনিয়ন পাড়ার নিজ বাসা থেকে জুলহাসকে গ্রেপ্তার করে। 

ধর্ষিতার মা মির্জাপুর প্রেসক্লাবে এসে সাংবাদিকদের জানান, চাচা জুলহাসের বাসায় মেয়েকে লালন পালনের জন্য রাখা হয়েছিল। আমার মেয়েকে বিয়ের কথা বলে গত এক বছর ধরে চাচা জুলহাস মিয়া ধর্ষণ করে আসছিল। বিয়ের কথা বলায় সে আমাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকে। 

মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খোকন কুমার সাহা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে অভিযুক্তকারী নাতনীকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মির্জাপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম মিজানুল হক ধর্ষণ মামলায় জুলহাসকে গ্রেপ্তারের কথা স্বীকার করে বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে জুলহাসকে টাঙ্গাইল আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। 

মন্তব্য