kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

ঘোষণা ছাড়াই এমপি জাহিদের শপথ

ঠাকুরগাঁওয়ে ক্ষুব্ধু, বিস্মিত বিএনপির নেতাকর্মীরা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি    

২৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০৪:২৭ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ঠাকুরগাঁওয়ে ক্ষুব্ধু, বিস্মিত বিএনপির নেতাকর্মীরা

দলের শীর্ষ নেতারা সংসদে না যাওয়ার কথা বারবার বলে এলেও বিএনপি থেকে নির্বাচিত ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের বিজয়ী সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান অনেকটা চুপিসারেই বৃহস্পতিবার সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এভাবে আগে ভাগে না জানিয়ে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে তার শপথের ঘটনায় জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতা-কর্মীরা তীব্র ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন।

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ ও রাণীশংকৈল উপজেলার মোট ১৬টি ইউনিয়ন নিয়েই গঠিত ঠাকুরগাঁও-৩ আসন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে তিন সাবেক সংসদ সদস্যকে হারিয়ে এমপি নির্বাচিত হন বিএনপির প্রার্থী জাহিদুর রহমান জাহিদ। রংপুর বিভাগের মধ্যে জাহিদুর রহমানই একমাত্র বিএনপির প্রার্থী, যিনি জয়ী হতে পেরেছেন।

পীরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি কনক সেলিম জানান, এরপর দলের সিনিয়র নেতাদের নমিনেশন দেওয়ার আগে তার দলের প্রতি কেমন আস্থা রয়েছে তা দেখে দেওয়া উচিত। আর ত না হলে এর পূণরাবৃত্তি ঘটতে পারে।

পীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া জানান, জাহিদুর রহমান অসুস্থতার কথা বলে বেশ কিছু দিন পূর্বে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ করে তার শপথ নেওয়ার কথা জানতে পেরে তিনিসহ ঠাকুরগাঁও তিন আসনের নেতাকর্মীরা হতবাক হয়ে গেছেন। দলের সঙ্গে এভাবে প্রতারণা করা তার ঠিক হয়নি।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রদলের সভাপতি আমিনুল ইসলাম সোহাগ জানান, এমন ভাবে দলেরর জ্যেষ্ঠ নেতারা যদি দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নিজেদের স্বার্থটাকেই বড় করে দেখেন তাহলে তৃণমূল নেতাকর্মীরা দলের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলবে।

জেলা বিএনপির সধারণ সম্পাদক ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের ছোটভাই মির্জা ফয়সাল আমিন জানান, জাহিদুর রহমান বিএনপির বড় ক্ষতি করে গেলেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের আদেশ অমান্য করে তার এভাবে বিশ্বাস ঘাতকতা করা একেবারেই উচিত হয়নি।

উল্লেখ্য, ১৯৯১ সাল থেকে জাহিদুর রহমান নির্বাচন করছেন। দীর্ঘ ২৭ বছর পর মানুষের সহানুভূতির কারণে তিনি জয়ী হয়েছেন। জাহিদুর রহমান ধানের শীষ প্রতীকে ৮৮ হাজার ৫১০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমদাদুল হক। তিনি ৮৪ হাজার ৩৮৫ ভোট পান। 

মন্তব্য