kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

অবশেষে লক্ষ্মীকুণ্ডায় অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ শুরু

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি   

২৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০১:১২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অবশেষে লক্ষ্মীকুণ্ডায় অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ শুরু

'ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুণ্ডা নামক এক ইউনিয়নে ৫৬ ইটভাটা', 'ইটভাটাগুলোতে কয়লার পরিবর্তে পুড়ছে কাঠ' এবং 'ঈশ্বরদীতে ভাটায় পুড়ছে কাঠ' শিরোনামে কালের কণ্ঠ পত্রিকায় সচিত্র সংবাদ প্রকাশের জের ধরে কোনো রকম নিয়ম নীতি না মেনেই গড়ে ওঠা ইটভাটাগুলো অবশেষে উচ্ছেদ শুরু করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার দুপুরে আকর্ষিকভাবে পাবনা জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী তানজিম আহমেদ এর নেতৃত্বে একটি যৌথবাহিনী লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের ইটভাটাগুলোতে অভিযান চালিয়ে চারটি ইটভাটা গুড়িয়ে দেন। একই সঙ্গে চারটি ইটভাটার মালিককে জরিমানা করে ৫ লাখ টাকা আদায় করেছেন। উচ্ছেদ করা ইট ভাটাগুলো হলো এস আর বি, বিআরবি, আদর্শ ব্রিক্স ও মালিথা ব্রিক্স।

পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী তানজিম আহমেদ কালের কণ্ঠের এই প্রতিনিধিকে জানান, এই ইটভাটাগুলো পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের কোনো নিয়ম নীতি না মেনেই অবৈধভাবে ইটভাটাগুলো স্থাপন করেছেন। কয়লার পরিবর্তে কাঠ পুড়াচ্ছেন। এই জন্য তালিকার করে ইটভাটাগুলো উচ্ছেদ করতে গুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, প্রক্রিয়াটি চলমান। ধারাবাহিকভাবে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এই ইটভাটাগুলো উচ্ছেদ করা হবে। তিনি সারা বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সারা বাংলাদেশেই অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ইটভাটাগুলো উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছেন। তারই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। পরবর্তিতে পাবনা জেলা প্রশাসকের সহযোগিতায় এই অভিযান অব্যহৃত থাকবে।

বিকেলে অভিযানে নেতৃত্ব প্রদানকারী পাবনার সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খোন্দকার মাহমুদুল হাসান কালের কণ্ঠকে মুঠোফোনে জানান, ইটভাটাগুলো উচ্ছেদ করার জন্য প্রথম দিনে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না থাকায় বিকেল পর্যন্ত চারটি ইটভাটা গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়া অব্যহৃত থাকবে।

তিনি আরো জানান, এই ইটভাটাগুলো সবই উচ্ছেদ করা হবে। প্রথমে ভেঙে ফেলা হচ্ছে। তারপর পরবর্তিতে ইটভাটাগুলো পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, জেলা প্রশাসকের সনদ এবং ইট নির্মাণের শত মেনে ব্যবসা করবেন এই শর্তে তাদের জরিমানা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে তাদের প্রত্যেক ইটভাটার মালিককে দুই লাখ টাকা করে জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, এই ইটভাটাগুলো কৃষি জমিতে এবং ফসলি জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে। যা পরিবেশ অধিদপ্তরের শর্ত পূরণ করে না। এই সময় অন্যান্যদের মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা সদরের পরিদর্শক (মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সম্যান) মীর্জা আসাদুল কিবরিয়া, পরিবেশ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয় বগুড়ার জুনিয়র ক্যামিস্ট মাসুদ রানাসহ র‌্যাব, পুলিশ ও আনছার সদস্যরা অভিযানে অংশগ্রহণ করেন।

এ ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্থ ইটভাটার মালিক জামিলুর ইসলাম, সেলিম রেজা ও আরিফুল ইসলাম কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

মন্তব্য