kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

লাফ দিয়ে দিয়ে নারীকে পেটালেন মাদরাসা শিক্ষক (ভিডিও)

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান   

২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ২২:৩৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লাফ দিয়ে দিয়ে নারীকে পেটালেন মাদরাসা শিক্ষক (ভিডিও)

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার একটি মাদরাসার টিউবওয়েল থেকে পানি নেওয়ার অপরাধে একজন নারীকে পেটানোর অভিযোগে পুলিশ দুই মাদরাসা শিক্ষককে আটক করেছে। এর প্রতিবাদে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ তাদের পূর্ব ঘোষিত বার্ষিক সাধারণসভা বাতিল করে দিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার আলীকদম উপজেলা বাস স্টেশন সংলগ্ন ফয়জুল উলুম মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ প্রথমে মামলা নিতে গড়িমসি করলেও পরে ওই রাতেই মাদরাসায় অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক মাওলানা মাহমুদুল করীম ও শিক্ষক আলমগীরকে আটক করে।

আলীকদম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিক উল্লাহ জানান, বৃহস্পতিবার সকালে তাদেরকে বান্দরবান চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ আদালত তাদেরকে জামিন মঞ্জুর করেন। তবে ঘটনার পর থেকে মাদরাসার পরিচালক সামশুল হুদা সিদ্দিকী পলাতক থাকায় তাকে আটক করা যায়নি।

সূত্র জানায়, ২৩ ও ২৪ এপ্রিল মাদরাসার বার্ষিকসভা উপলক্ষ্যে বিপুল সংখ্যক অতিথির আগম ঘটবে। তাই মাদরাসার টিউবওয়েল থেকে এই দু’দিন পানি না নিতে স্থানীয়দের প্রতি অনুরোধ জানায় মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তা স্বত্ত্বেও মঙ্গলবার সকালে প্রবাসী আহমদ শরীফের ছেলে মোহাম্মদ আলম (১৯) মাদরাসা কর্তৃপক্ষের অনুরোধ উপেক্ষা করে পানি নিতে এলে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়।

এ সময় কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে মাদরাসার পরিচালক মাওলানা সামশুল হুদা তাকে চড় থাপ্পড় মারেন। খবর পেয়ে ছোট ভাই মোহাম্মদ রফিক (১৬) এলে তাকেও শিক্ষকরা বেধড়ক পেটান। এ অবস্থায় স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে মা সালমা বেগম (৩৮) মেয়ে মহিমা জান্নাত রুমাকে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রতিবাদ জানান।

এ সময় লাঠি ঝাড়ু ও ইট পাটকেল নিয়ে মাদরাসার শিক্ষকরা তার উপর হামলা করে। নারীর ওপর শিক্ষকদের ঝাড়ু হামলার ভিডিও করেন অনেকে। পরে তা ফেসবুকের মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

সালমা বেগমের ছেলে আহত মোহাম্মদ রফিক জানায়, ঘটনার পরপরই তারা থানায় অভিযোগ নিয়ে গেলেও থানা তাদের মামলা নেয়নি।

তিনি জানান, মাদরাসার পরিচালক আওয়ামী লীগ নেতা ও সদ্য সমাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত জামাল উদ্দিনের আত্মীয় হওয়ায় থানা মামলা নেয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। এদিকে নারী নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে বুধবার থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়। আহত সালমা বেগম বাদী হয়ে মাদরাসা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এই মামলা করেন। 

পুলিশ সুপার জাকির হোসেন মজুমদার জানান, বিষয়টি দুঃখজনক। পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করেছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, অভিযোগকারী সালমা বেগম এবং তার স্বামী রোহিঙ্গ্যা নাগরিক। তারা দীর্ঘদিন থেকে অবৈধভাবে আলীকদম এলাকায় বসবাস করছেন। কয়েক বছর আগে তার স্বামী বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমান। তারা জানান, ঘটনার দিন তার ছেলেরা মাকে উদ্ধার না করে নিজেরাই ভিডিও করে এবং তা ফেসবুকের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।

মন্তব্য