kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

বাঁচতে চায় মারিয়া

৭ বছরের অগ্নিদ্বগ্ধ শিশুর প্রাণে বাঁচার আকুতি

বেনাপোল প্রতিনিধি   

২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ০৪:৪৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



৭ বছরের অগ্নিদ্বগ্ধ শিশুর প্রাণে বাঁচার আকুতি

আমার একটু চিকিৎসার জন্য টাকা চাই। আমি বাঁচতে চাই। আমাকে বাঁচান। ঘরে টাকা পয়সা নেই। আব্বু কি দিয়ে চিকিৎসা করাবে। গাড়ি বেঁচে সব টাকা দিয়ে চিকিৎসা করিয়েছে। আমি বাঁচতে চাই। আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। এ কষ্ট আমি আর ভোগ করতে পারবো না। একটি নেটের মশারীর ভেতর থেকে কান্নাকাটি করে কথাগুলো বলছিল যশোরের ঝিকরগাছার শংকরপুর ইউনিয়নের নায়ড়া গ্রামের ভাটার ট্রলি চালক হতদরিদ্র রুবেল হোসেনের অগ্নিদ্বগ্ধ শিশু কন্যা মারিয়া (৭)। সে স্থানীয় নায়ড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী। 

অগ্নিদ্বগ্ধ হয়ে অর্থের অভাবে বিনা চিকিৎসায় এখন নিজ বাড়িতে শুয়ে প্রাণে বাঁচার আকুতি জানাচ্ছে। ভালোবাসার এই পৃথিবীতে মানুষের জন্যে আমরা কত কিছুই না করতে পারি। সকলের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে মারিয়া সুস্থ হয়ে উঠলে বেঁচে যাবে একটি পরিবার। আবারো হেঁসে খেলে বেড়াতে পারবে সবার মাঝে ছোট্ট মারিয়া। 

গত বছরের ডিসেম্বরে প্রচণ্ড শীতে আগুন পোহাতে গিয়ে আগুনে পুড়ে শরীরের ১৬ শতাংশ ঝলসে যায় মারিয়ার। অসহায় পিতা ট্রলি চালক মেয়ের চিকিৎসার্থে আত্মীয়-স্বজন ও গ্রামবাসীর সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে সে সময় চিকিৎসা সেবা দিয়েছিলেন। মেয়ের চিকিৎসার জন্য যশোরের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করানো হয়। কিন্তু অবস্থার তেমন পরিবর্তন না হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে ১৫ দিনে খরচ হয় প্রায় দুই লাখ টাকা। অসহায় পরিবারের জন্য এই ব্যয় বহুল খরচ যোগাতে না পেরে সেখান থেকে বাড়িতে ফেরত আনেন পিতা রুবেল।

বর্তমানে যশোর কুইন্স হাসপাতালের এক চিকিৎসকের পরামর্শে বাড়িতেই চলছে মারিয়ার চিকিৎসা। তাকে ক্লিনিকে ভর্তি করার কথা বললেও টাকার অভাবে ভর্তি করাতে পারছেন না দরিদ্র পরিবারটি। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ৬ লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে মারিয়ার চিকিৎসা করাতে। দরিদ্র পিতামাতার পক্ষে শিশু কন্যার চিকিৎসা চালাতে গিয়ে হিমশিম খেয়ে নিদারণ কষ্টে মানবেতর জীবনযাপন করছে অসহায় পরিবারটি। পুরোপুরি মারিয়াকে সুস্থ করে তুলতে এখনো  প্রায় ৬ লাখ টাকা প্রয়োজন। যা জোগাড় করা অসহায় পরিবারটির পক্ষে কোনো রকমই সম্ভব নয়। 

মারিয়ার বাবা রুবেল হোসেন বলেন, সারাদিন ভাটার ট্রলি চালিয়ে রোজগার হয় ২৫০/৩০০ টাকা। সংসারে মারিয়া ছাড়াও স্ত্রী নিয়ে আরও একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। রয়েছে আমার পিতা-মাতা। সব মিলিয়ে সংসার চালাতেই নুন আনতে পান্তা ফুরনোর অবস্থা। সেখানে আগুনে পোড়া সন্তান মারিয়ার চিকিৎসা তার পক্ষে খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। আত্মীয়-স্বজন, গ্রামবাসী ও নিজের কষ্টার্জিত টাকায় চিকিৎসা সেবা চালিয়েছি। আর তো সম্ভবপর হচ্ছে না। কন্যার চিকিৎসা চালাতে স্থানীয় এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যানের নিকট আবেদনও করেছি। কিন্তু তেমন কোনো সাড়া ও সহযোগিতা পায়নি। গরিব মারিয়ার বাবা-মা মেয়ের চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নিকট অনুরোধ জানিয়েছেন।
 
শিশু মারিয়া কান্না কণ্ঠে বলেন, আমার একটু চিকিৎসার জন্য টাকা চাই। আমি বাঁচতে চাই। আমাকে বাঁচান। আমার আব্বু গরিব লোক। ঘরে টাকা পয়সা নেই। আব্বু কি দিয়ে চিকিৎসা করাবে। গাড়ি বেঁচে সব টাকা দিয়ে চিকিৎসা করিয়েছে। আমি বাঁচতে চাই। আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। এ কষ্ট আমি আর ভোগ করতে পারবো না। 

মারিয়ার গর্ভধারিনী মা মমতাজ বেগম বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার আবেদন আমার কোলের সন্তানের চিকিৎসা করে আমার আঁচলে ফিরিয়ে দেন। আমার স্বামীর শরীর ভালো থাকলে সংসার চলে তা না হলে চলে না। আমার দুনিয়ায় কেউ নেই। আমি সন্তানের মুখে কিছুই দিতে পারি না। আপনারা আমার সন্তানকে বাঁচান। আমার সন্তানের পাশে দাঁড়ান। গত ৫টি মাস ভালো করে শুতে (ঘুমাতে) পারছে না। আমার সোনার কত কষ্ট। আমি মা হয়ে সন্তানের কষ্ট আর দেখতে পারছি না। 

এ ব্যাপারে শংকরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নেছার উদ্দীন মেয়েটি’র সুস্থতার জন্য এলাকার সকল মানুষের নিকট আর্থিক সহায়তা দিয়ে এগিয়ে আসার আহবান জানান। মারিয়া ছোট কিশোর একটি মেয়ে। এই মেয়েটির উজ্বল ভবিষ্যতর জন্য প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীবর্গসহ বিত্তবান মানুষ সকলকে এই গরিব পরিবারের এই মেয়েটি সবার সহযোগিতায় সুচিকিৎসা পেয়ে সে সুস্থ হয়ে তার ভবিষ্যত জীবন যাতে গড়ে নিতে পারে এই আহবান আমি দেশবাসীর কাছে করছি। 

অগ্নিদ্বগ্ধ শিশুটি’র দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন। যদি কোনো সহৃদয় ব্যক্তি সাহায্য পাঠাতে চান তাহলে পিতা রুবেল হোসেনের বিকাশ নং- ০১৭৩৩-৪৫৭৩৩১ ও (রকেট) ০১৭৪৮-০৭৭৯০৬১ পাঠাতে পারেন।

মন্তব্য