kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

দ্বিতীয় বেল্ট অ্যান্ড রোড ফোরাম বেইজিংয়ে শুরু আজ

আন্তঃরাষ্ট্রীয় সহযোগিতা বাড়াতে তৎপর চীন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ০৩:১৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আন্তঃরাষ্ট্রীয় সহযোগিতা বাড়াতে তৎপর চীন

আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও কানেক্টিভিটি বাড়াতে আজ বৃহস্পতিবার চীনের বেইজিংয়ে শুরু হচ্ছে তিন দিনের উচ্চ পর্যায়ের ‘দ্বিতীয় বেল্ট অ্যান্ড রোড ফোরাম’। এশিয়া থেকে ইউরোপ হয়ে আফ্রিকা পর্যন্ত একটি দীর্ঘ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় চীন। সে লক্ষ্যে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) অংশ হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ করছে চীন। আন্তঃরাষ্ট্রীয় যোগাযোগ বৃদ্ধিতে সম্মেলনের আয়োজন করছে। 

বেইজিংয়ের চায়না ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে ২৫-২৭ এপ্রিল তিন দিনের এ সম্মেলনে শতাধিক দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে রাষ্ট্রপ্রধান, মন্ত্রী এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। এতে অংশ নেবেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। 

এবারের সম্মেলনে ১২টি থিমেটিক সেশনে দুর্বল ও অস্থিতিশীল বিশ্ব অর্থনীতি থেকে উত্তরণের নীতিনির্ধারণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বাণিজ্য পরিসর বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক সহযোগিতার দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় ক্ষেত্র চিহ্নিতকরণ এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির উপায় নিয়ে আলোচনা হবে। এতে শক্তিশালী আন্ত যোগাযোগ ও গভীর সহযোগিতার বিষয়টি প্রাধান্য পাবে।

ফোরামে শিল্পমন্ত্রী বিভিন্ন থিমেটিক সেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। তিনি ‘ব্যাপক পরামর্শ, যৌথ উদ্যোগ এবং অংশীদারির মাধ্যমে সুফল ভোগের জন্য নীতি সহায়তা ও সম্মিলিত প্রয়াস জোরদারকরণ শীর্ষক থিমেটিক সেশনে বক্তব্য দেবেন। 

এ ছাড়া তিনি উচ্চ পর্যায়ের বিভিন্ন সভায় বাংলাদেশ সরকারের নীতিনির্ধারণী বিষয় এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকার গৃহীত উদ্যোগগুলো তুলে ধরবেন। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে বেল্ট অ্যান্ড রোড ফোরামে অংশগ্রহণের বিষয়ে মতবিনিময় করবেন।

ফোরামে অংশগ্রহণের পাশাপাশি শিল্পমন্ত্রী চীনের সিনোপ্যাক লুব্রিকেন্ট কম্পানি লিমিটেড এবং সানজি ইয়াংমি ফার্টিলাইজার ইন্ডাস্ট্রি কম্পানি লিমিটেডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এতে অংশগ্রহণের ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে শিল্প, ভৌত অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও সৃজনশীল উদ্ভাবনে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহায়তার ক্ষেত্র প্রসারিত হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি, শিল্প খাতে সহায়তা জোরদার, শ্রমঘন শিল্প ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ‘নতুন সিল্ক রোড’ হিসেবে পরিচিত ‘ওয়ান বেল্ট, ওয়ান রোড (ওবিওআর)’ নামের এই উদ্যোগ শুরু করেন। এর পর থেকে দেশটি এশিয়া ও আফ্রিকায় বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ করছে। এ নিয়ে এর আগে সম্মেলনে চীন বিভিন্ন দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ১২৪ বিলিয়ন ডলার প্রদানের অঙ্গীকার করে। চায়না ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকও প্রায় ৯০০টি প্রকল্পে ৮৯০ বিলিয়ন ডলারের জোগান দেবে বলে জানায়। 

প্রাচীন সিল্ক রোড ধরে তিন মহাদেশের বিভিন্ন দেশে সড়কপথ, রেলপথ, সমুদ্রবন্দর, পাইপলাইনের মতো অবকাঠামো তৈরি করে যোগাযোগের নতুন পর্যায়ে নিয়ে যেতে চায় দেশটি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশটির সঙ্গে অন্য দেশগুলোর বাণিজ্য বেড়ে যাবে। 

চীনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের আওতায় এরই মধ্যে ১৫০টি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার মধ্যে ১৭১টি আন্তঃরাষ্ট্রীয় সহযোগিতা সমঝোতা হয়েছে।

মন্তব্য