kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

দিনাজপুর

‘উফ্ অসহ্য!’

এমদাদুল হক মিলন, দিনাজপুর    

২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ১১:৪১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘উফ্ অসহ্য!’

দিনাজপুর উপশহর ৬ নম্বর ব্লকের একটি নর্দমায় মশার লার্ভা। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘বসে টিভি দেখছি বা কোনো কাজ করছি, পায়ে মশা কামড়াচ্ছে। রাতে ঘুমাতে যাচ্ছি মশারি টাঙিয়ে, তার পরও দু-একটি মশা ঢুকে যাচ্ছে। কানের কাছে ভোঁ ভোঁ শব্দ আর যেখানে সেখানে কামড়, উফ্ অসহ্য!’ কেমন আছেন জানতে চাইলে দিনাজপুর পৌরসভার নিমতলা খালপাড়ার বাসিন্দা আজাহার রেজা এসব বলেন। রসিকতা করতেও ভোলেন না, ‘রাতে মশা দিনে মাছি, এই নিয়ে দিনাজপুর পৌরবাসী।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুরের ১০টি পৌরসভার মধ্যে ৯টিতে মশা নিধন তৎপরতা শুরু হয়নি। চলতি মৌসুমে তারা এখন পর্যন্ত মাঠে নামেননি। এদিকে মশার কামড়ে পৌরবাসী দিন-রাত অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। অন্যান্য বছর এ সময়ের মধ্যে ঝড়বৃষ্টি হলেও এবার দিনাজপুরে ঝড়বৃষ্টি তেমন হয়নি। ফলে মশা-মাছির যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জেলার ১০ পৌরসভার নাগরিকরা।

স্থানীয়রা জানান, বাজারে মশা মারার জন্য কয়েল আছে। আছে কীটনাশক, কয়েল বা বাতাসে মশানাশক ছড়ানোর যন্ত্র। এগুলো আবার ক্ষেত্র বিশেষে স্বাস্থ্যকর নয়। ???মশার মাধ্যমে ম্যালেরিয়াসহ আরো অনেক রোগ ছড়ায়। বিশেষ করে শিশুস্বাস্থ্যের জন্য এসব রোগ খুবই মারাত্মক। আবার দিনের বেলায় মাছির উৎপাত। সব সময় খাবার ঢেকে রাখতে হচ্ছে। খেতে বসলে ভাত-তরকারিতে মাছি বসছে। শরীরে মাছি কামড় দিচ্ছে।

নালা, ডোবা, ড্রেন, দিনাজপুর শহরের ১৮ কিলোমিটার ঘাগড়া ও গ্রিজা ক্যানেল, জলাশয়, ঝোপঝাড়ে মশা বংশবৃদ্ধি করছে। দিনে মশারি টানিয়ে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া করছে, মানুষ ঘুমাচ্ছে। গোয়ালঘরে গরুকেও মশারির মধ্যে রাখা হচ্ছে। কয়েল জ্বালানোর কারণে অগ্নিকাণ্ড ঘটছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমাদের ওষুধ আছে, যন্ত্র আছে, কর্মী আছে। এক মাস আগে চিঠি দিয়েছি, মুখে বলেছি। অনেকে চিঠি নিয়েছেন, তার পরও কাউন্সিলররা ওষুধ নিয়ে যাচ্ছেন না। ফলে দিনাজপুর পৌরসভায় এখনো মশক নিধন কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। এ বিষয়ে ত্বরিত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

দিনাজপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রবিউল ইসলাম রবি বলেন, ‘চিঠি পেয়েছি। ওষুধ পেয়েছি। কিন্তু দক্ষ কর্মী না পাওয়ার কারণে ওষুধ ছিটানো শুরু করিনি। তবে দু-এক দিনের মধ্যে শুরু করব।’

দিনাজপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোস্তফা কামাল মুক্তি বাবু বলেন, ‘আমি চিঠি পাইনি। চিঠি পেলে ব্যবস্থা নেব।’

বোচাগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আব্দুস সবুর বলেন, ‘আমি মাইংিক করে মানুষকে সজাগ ও সাবধান করে মশক নিধন কার্যক্রম শুরু করেছি। সব ওয়ার্ডে এ কার্যক্রম চলমান।’

বিরামপুর পৌরসভার মেয়র লিয়াকত আলী টুটুল বলেন, ‘এখানে খোলা ড্রেন নেই। তাই এই পৌরসভায় মশক নিধন অভিযানের প্রয়োজন নেই।’

বীরগঞ্জ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র আব্দুল্লাহ আল হাবিব মামুন বলেন, ‘মেশিন নাই, বাজেট নাই। তা ছাড়া আমরা বড় বড় ড্রেন পুনর্নির্মাণ করছি। তাই মশক নিধন অভিযান করা যায়নি।’

এ ছাড়া খবর নিয়ে জানা গেছে, ফুলবাড়ী, পার্বতীপুর, হাকিমপুর, ঘোড়াঘাট ও বিরল পৌরসভায় মশক নিধন অভিযানের কোনো পরিকল্পনা এখনো নেওয়া হয়নি।

মন্তব্য