kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

জেম জুটমিলে শ্রমিক অসন্তোষে সড়ক অবরোধ, টানা কর্মবিরতি

পঞ্চগড় প্রতিনিধি    

২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০২:১৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জেম জুটমিলে শ্রমিক অসন্তোষে সড়ক অবরোধ, টানা কর্মবিরতি

পঞ্চগড়ে জেম জুট লিমিটেডের শ্রমিকরা মিলের কর্মকর্তাদের অশোভন আচরণ, যখন-তখন কর্মী ছাঁটাই বন্ধসহ মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও টানা কর্মবিরতি শুরু করেছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা কাজে ফিরবে না বলেও ঘোষণা দিয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে জেলার বোদা উপজেলার ময়দানদিঘি ইউনিয়নের মুসলিমবাগ এলাকায় জেম জুট লিমিটেডের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। বিক্ষোভের একপর্যায়ে দুপুরে মিলের সামনে পঞ্চগড়-ঢাকা মহাসড়ক কয়েক ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে। 

অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে ক্ষুব্ধ শ্রমিরা অনড় থাকলেও মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মিল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের সঙ্গে সমঝোতার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। এমনকি সাংবাদিকরা মিল কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে মিলের ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলেও তাদের প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। 

জানা যায়, জেম জুট লিমিটেডের নারী ও পুরুষ মিলে প্রায় দুই হাজার শ্রমিক কাজ করে আসছে। সিফট অনুযায়ী শ্রমিকরা দৈনিক আট ঘণ্টা করে কাজ করে। মিলটিতে বর্তমানে পাটজাত বিভিন্ন দ্রব্য উত্পাদন করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে মিলটির শ্রমিকরা তাদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাদের কথায় কোন কর্ণপাত করেনি। মিলটিতে সম্প্রতি প্রডাক্ট ম্যানেজার হিসেবে সাইফুল ইসলাম ও জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে জাকির আহম্মেদ যোগদান করার পর থেকেই শ্রমিক অসন্তোষ চরমে ওঠে। 

শ্রমিকদের অভিযোগ, একটু দেরি হলেই অকথ্য ভাষায় গালাগাল এমনকি শ্রমিকদের গায়েও হাত তোলেন এই দুই কর্মকর্তা। নির্ধারিত সময়ে একটু পরেই আসলেই তাদের প্রবেশ করতে না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তারা নারী শ্রমিকদের টয়লেটে যেতেও বাধা দেয়। খাবার খেতে ও টয়লেটে গেলে গালাগালির পাশাপাশি শ্রম ঘণ্টা কেটে মজুরি দেওয়া হয়। 

ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা আরো জানান, প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কাজ করে এলেও তাদের মজুরি রয়ে গেছে সেকালের মতোই। এমনকি সরকারি ছুটিতে আগে মজুরি পেলেও নতুন জিএম ও পিএম তা বন্ধ করে দেন। বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি হওয়ায় সামান্য মজুরি নিয়ে কোনো মতে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে এসব শ্রমিক। প্রতিবাদ করতে গেলেই তাদের চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হয়। 

নারী শ্রমিক জোসনা আক্তার বলেন, ‘আমাদের টয়লেটে যেতেও বাধা দেয় জিএম ও পিএম। একটু ভুল করলেই অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে, এমনকি চড়ও দেয়।’ 

শ্রমিক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমাদের গাধার মতো খাটিয়ে নেয়, কিন্তু মজুরি সেই আগের মতোই আছে। আমরা যা মজুরি পাই তা দিয়ে সংসার চালানো কষ্ট হয়ে যায়। এ বিষয়ে যে-ই প্রতিবাদ করতে যায় তাকেই চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হয়।’   

এ ব্যাপারে জেম জুট লিমিটেডের এইচ আর এডমিন আবুল বাশার বলেন, ‘আমি স্টেশনের বাইরে আছি। আমি শুনেছি শ্রমিকরা মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে কর্মবিরতি পালন করেছে। আমি গিয়ে বিষয়টি নিয়ে বসব।’

মন্তব্য