kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

হালদা নদীতে অভিযান, বালুবাহী চার নৌকার ইঞ্জিনে আগুন

৪৫ হাজার ঘনফুট বালু জব্দ করেছে প্রশাসন

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০১:৩৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হালদা নদীতে অভিযান, বালুবাহী চার নৌকার ইঞ্জিনে আগুন

মার্চ থেকে জুলাই—পাঁচ মাস হালদা নদীতে ইঞ্জিনচালিত নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ। এই নিষেধাজ্ঞা না মেনে হালদার বুকে চলাচল করা বালুবাহী চারটি নৌকার ইঞ্জিন আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে জব্দ করা হয়েছে ৪৫ হাজার ঘনফুট বালু।

হালদা নদীর ছত্তারঘাট সেতু এলাকা থেকে উজানে মেখল পর্যন্ত গত রবিবার অভিযান পরিচালনা করেন হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন। অভিযানটি ঢাকা থেকে সরাসরি মনিটর করেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার। 

সূত্রে জানা গেছে, হালদায় গত বছরের শুরুতে ড্রেজারের আঘাতে তিন মাসে ১৬টি ডলফিন মারা যাওয়ার পর হালদা নদীর বালুমহালগুলো আর ইজারা দেয়নি জেলা প্রশাসন। সর্বশেষ গত ১৬ এপ্রিল বিকেলে হালদা নদীর মদুনাঘাট সেতুসংলগ্ন এলাকায় ছয়-সাত মাস বয়সের একটি মৃত ডলফিন ভেসে ওঠে। ডলফিনটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। 

দেশি মাছের একমাত্র প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র এই হালদা নদীর হাটহাজারী অংশের খলিফাঘোনা এলাকায় এর আগে গত ৯ এপ্রিল প্রায় আট কেজি ওজনের মৃত মৃগেল মাছ ভেসে ওঠে। ওই মা মাছের শরীরেও আঘাতের চিহ্ন ছিল। তা ছাড়া গত ৪ মার্চ নদীর রাউজান উপজেলার অংকুরীঘোনা এলাকায় ১২ কেজি ওজনের একটি কাতল মাছ এবং হাটহাজারী উপজেলার উত্তর মাদরাসা আমতোয়া এলাকায় তিন কেজি ওজনের আইড় মাছ মারা যায়। এ দুটি মাছের শরীরেও আঘাতের চিহ্ন ছিল। 

জানতে চাইলে ইউএনও রুহুল আমিন বলেন, গত রবিবার হালদার বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান পরিচালনা করে ৪৫ হাজার ঘনফুট বালু জব্দ এবং উত্তোলনের কাজে ব্যবহূত চারটি ইঞ্জিনচালিত নৌকার ইঞ্জিন পুড়িয়ে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ইউএনও বলেন, নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে চেষ্টা করে যাচ্ছি হালদাকে রক্ষা করতে। কিন্তু কিছু বালুখেকো বালু তোলার চেষ্টায় ব্যস্ত। আবার কেউ কেউ গোপনে মাছ শিকার করে। এখন মা মাছের ডিম ছাড়ার মৌসুম। সে জন্য মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত হালদায় ইঞ্জিনচালিত নৌকা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। উদ্দেশ্য, মা মাছের যেন কোনো ধরনের ক্ষতি না হয়। কারণ যেকোনো মুহূর্তে ডিম ছাড়া শুরু হতে পারে। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তা মানছে না। তারা ফাঁক পেলেই হালদায় ইঞ্জিনচালিত নৌকা নামিয়ে দিচ্ছে, উত্তোলন করছে বালু। সবাই সহযোগিতা করলে হালদাকে শতভাগ রক্ষা করা সম্ভব। এর জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং হালদাপারের বাসিন্দাদের আরেকটু আন্তরিক হতে হবে।

মন্তব্য