kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

ফি কমানোর দাবিতে ইবির প্রশাসনিক ভবন অবরোধ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২৩ এপ্রিল, ২০১৯ ১৮:৪০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফি কমানোর দাবিতে ইবির প্রশাসনিক ভবন অবরোধ

বেতন ও ভর্তি ফিসহ অন্যান্যা ফি কমানোর দাবিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা। আবরোধের সময় আন্দোলনকারী দুই শিক্ষার্থী গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আত্মহত্যার হুমকি দেয়।

আন্দোলনকারীদের দাবি, ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে ভর্তি ফিসহ অন্যান্যা ফি অযৌক্তিভাবে চারগুণ বৃদ্ধি করে সাড়ে ৩ হাজার থেকে ১৪ হাজার করা হয়। এখন প্রতি বছর সাড়ে ৯ হাজার টাকা গুনতে হচ্ছে তাদের। যা আগে ছিল ৩ হাজার। এ কারণে অনেকে পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে পারছে না। প্রশাসন নিজেদের আয় বাড়াতেই এমন অযৌক্তিক এবং অমানবিতভাবে বেতন বৃদ্ধি করেছে বলেও দাবি তাদের।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে তারা ক্যাম্পাসে মিছিল ও মানববন্ধন করেন। পরে সকাল ১০টা থেকে ১টা পযর্ন্ত প্রশাসন ভবনের প্রধান ফটক অবরোধ করে অবস্থান করে শিক্ষার্থীরা। পরে প্রশাসন ভবন অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা বাবার রক্ত যদি সেই চুষতে হবে, প্রাইভেট না হয়ে পাবলিক কেন তবে?, ছাত্রের টাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন নয়, হৈ হৈ রৈ রৈ এত টাকা গেল কই, এক দফা এক দাবি বেতন ফি কমাতে হবে ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকে।

একপর্যায়ে সেখানে ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক পরেশ চন্দ্র বর্মণ, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক আনিছুর রহমান, সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান উপস্থিন হন। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের শান্ত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন শিক্ষকরা। পরে আন্দোলনকারীদের ১০ জন প্রতিনিধির সঙ্গে উপাচার্যের আলোচনার প্রস্তাব দিলে তারা প্রত্যাখ্যান করেন। একপর্যায়ে বেলা আন্দোলনকারী দুই ছাত্র গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার হুমকি দেয়।

পরবর্তীতে বেলা ১ টার দিকে আন্দোলনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক আটকে দেয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেলা ২টার শিফটের গাড়ি ক্যাম্পাস ছাড়তে পারেনি। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। তবে এ আন্দোলন যৌক্তিক বলে মনে করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরাও।

এ বিষয়ে এয়াকুব আলী বলেন, হঠাৎ করে এত ফি বৃদ্ধি কখনোই সমীচীন নয়। এখানে আমাদের ভাই-বোনরাই পড়ালেখা করছে। আমার মনে হয় তাদের এ দাবি যৌক্তিক।

পরে বেলা সাড়ে ৩ টার দিকে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব’ ম্যুরালের পাদদেশে যায় দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত প্রক্টর। তিনি আগামীকাল বেলা ১২ টার মধ্যে একটি সিদ্ধান্ত জানানোর আশ্বাস দেয় শিক্ষার্থীদের। প্রশাসনের আশ্বাসে প্রধান ফটক খুলে দেয় আন্দোলনকারীরা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম শাহিনুর রহমান বলেন, বাজারের চাহিদা অনুযায়ী আমরা ফি বৃদ্ধি করেছি। তাও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে কম। এটা একটা মিমাংসীত ইস্যু। তারপরও শিক্ষার্থীরা যেহেতু কথা তুলেছে আগামীকাল (বুধবার) উপাচার্য আসলে আমরা বসে তাদের সিদ্ধান্ত জানাবো।

মন্তব্য