kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

পরীক্ষায় পাস করতে শিক্ষককে ঘুষ!

কালকিনি (মাদারীপুর) প্রতিনিধি   

২৩ এপ্রিল, ২০১৯ ১৭:২৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পরীক্ষায় পাস করতে শিক্ষককে ঘুষ!

পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার কথা বলে মাদারীপুরের কালকিনিতে এক শিক্ষক তার ছাত্রের কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না ওই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থী মো. জুয়েল হাওলাদার পৌর এলাকার চরঠেঙ্গামাড়া গ্রামের শাহিন হাওলাদারের স্কুল পড়ুয়া ছেলে।

ওই শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, মাদারীপুরের কালকিনি মডেল সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. জুয়েল নবম শ্রেণির চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে অকৃতকার্য হয়। অকৃতকার্য হওয়া দুটি বিষয়ে পাস করিয়ে দশম শ্রেণিতে ভর্তির আশ্বাস দিয়ে ওই বিদ্যালয়ের গণিত শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ জুয়েলের কাছ থেকে নগদ ৪ হাজার ৫ শত টাকা নেন। কিন্তু তাতে কোনো কাজ না হওয়ায় শিক্ষকের কাছে ওই টাকা ফেরত চায় জুয়েল। এতে শিক্ষক আবুল কালাম ক্ষিপ্ত হয়ে পুনরায় জুয়েলে কাছে ৩ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে নিরুপায় হয়ে শিক্ষার্থী জুয়েল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. মনিরুজামানের কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন। কিন্তু তাতেও কোনো প্রতিকার হয়নি। উল্টো শিক্ষার্থী জুয়েল টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জুয়েল জানায়, আমাকে নবম শ্রেণিতে পাস করিয়ে দশম শ্রেণিতে ভর্তি করিয়ে দেবে বলে আমরা কাছ থেকে কালাম স্যার ১ হাজার ৫০০ টাকা ও আমার মায়ের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা টাকা নেয়। কিন্তু পাস করানো দূরের কথা আমার টাকাই ফেরত দিচ্ছেন না।

কালকিনি মডেল সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আবুল কালাম আজাদ স্যারকে ইউএনও স্যার কিছু বলবে না।

এ ব্যাপারে মো. জাহাঙ্গীর হোসেন নামে এক অভিভাবক বলেন, কালকিনি মডেল সরকারি পাইলট স্কুলের আবুল কালাম আজাদ স্যার না 'কসাই'।

অভিযুক্ত কালকিনি মডেল সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের অঙ্ক শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভুয়া।

কালকিনি উপজেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষক মনিরুজ্জামান বলেন, আমার কাছে ছাত্র জুয়েল এ বিষয় অভিযোগ করেছে। কিন্তু আমি এ বিষয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককের সাথে কথা বলতে বলেছি।

কালকিনি মডেল সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান বলেন, এ বিষয় আমি কালাম স্যারকে কিছু বলতে পারব না।

কালকিনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাহাবুবর রহমানকে তার মুঠোফোনে একাধিক বার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে কালকিনি মডেল সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য