kalerkantho

শনিবার । ২৫ মে ২০১৯। ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৯ রমজান ১৪৪০

'নুসরাত হত্যায় জড়িত কোনো ব্যক্তিই ছাড় পাবে না'

সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি   

২৩ এপ্রিল, ২০১৯ ১৬:৫৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'নুসরাত হত্যায় জড়িত কোনো ব্যক্তিই ছাড় পাবে না'

ফেনী ৩ (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) আসনের সংসদ সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন্ন চৌধুরী বলেছেন, নুসরাত হত্যা মামলায় জড়িত কেউ রেহাই পাবে না। কারো যদি কোনো রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিচয়ও থাকে তদন্তে অপরাধ প্রমাণ হলে ছাড় পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যাবে কিংবা রাজনৈতিক কারণে অন্য খাতে প্রবাহিত হয়ে যাবে এটা আমি বিশ্বাস করি না।

আজ মঙ্গলবার সোনাগাজী পৌর শহরের উত্তর চরচান্দিয়ায় নুসরাতের বাড়িতে স্বজনদের সমবেদনা জানাতে গিয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় তিনি আরো বলেন, নুসরাত হত্যার অন্যতম হোতা মাদরাসা অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার আগের অপকর্মগুলোর কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মাদরাসা কমিটর কোনো অবহেলা আছে কিনা সেগুলো সুচারুভাবে তদন্ত করা হবে।

বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি আগামীতে ঢেলে সাজানো হবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মাসুদ চৌধুরী বলেন, প্রতিষ্ঠানে যে লেভেলের শিক্ষা আছে তাকে সে পর্যন্ত শিক্ষিত হতে হবে।

কোনো হাইস্কুলের কিংবা মাদরাসাতে প্রাইমারি পার না হওয়া কেউ কমিটিতে আসবে এমনটা হবে না। হাইস্কুলের কলেজের কমিটিতে থাকতে হলে তাকেও হাইস্কুল পাস হতে হবে।

নুসরাতের পরিবারের নিরাপত্তার ব্যাপারে তিনি বলেন, মামলাটির রায় না হওয়া পর্যন্ত পরিবারটিকে নিরাপত্তা দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে আমি ফেনী জেলা পুলিশ এবং ডিআইজির সাথে কথা বলব।

মামমলা অগ্রগতির ব্যাপারে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকাণ্ডে আমি সন্তুষ্টু। তাদের কর্মকাণ্ডে এখন পর্যন্ত কোনো অবহেলা চোখে পড়েনি। যদি তাদের গাফেলাতি বোঝা যেত তাহলে আমরা অন্য লেভেলে চেষ্টা করতাম।

মামলাটি দ্রুত বিচার আইনে নেওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করবো তদন্ত শেষ করে আদালতলের কাছে তুলে দিতে। এ ছাড়া আইনমন্ত্রী বলেছেন এ মামলা দ্রুত বিচার আইনে স্থানান্তর করা হবে।

সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের ব্যাপারে তিনি বলেন, তাকে সোনাগাজী থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আমার কাছে তথ্য আছে আজ পিবিআই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছে। এখানে ইনফ্লুয়েন্স করার কোনো সুযোগ নেই।

এর আগে তিনি নুসরাতের কবর জিয়ারত করে পরিবারের জন্য সমবেদনা জানান। নুসরাতের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন তার সহধর্মিনী জেসমিন মাসুদ, সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আজিজুল হক হিরণ, কাউন্সিলর নুর নবী লিটন, নুসরাতের বাবা মাওলানা এ কে এম মুসা মানিক, বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান, ছোট ভাই রাশেদুল হাসান রায়হান, উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি হাজী আবু সুফিয়ান জেলা ও উপজেলা জাতীয় পার্টির নেতারা।

মন্তব্য