kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

মেলার নামে এসব কী হচ্ছে!

উজ্জ্বল বিশ্বাস, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম)    

২৩ এপ্রিল, ২০১৯ ১০:৪৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মেলার নামে এসব কী হচ্ছে!

কলেজে এইচএসসি এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চলছে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা। উচ্চ বিদ্যালয়গুলোতে চলছে প্রথম সাময়িক পরীক্ষার প্রস্তুতি। অভিভাবকরা যখন শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া নিয়ে উদ্বিগ্ন সেই সময়ে বাঁশখালীজুড়ে চলছে বৈশাখী মেলার নামে র‌্যাফল ড্রর কুপন বিক্রি। প্রতিদিন ভোর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মাইকে ওই র‌্যাফল ড্রর প্রচার চালানো হয়। পুরস্কার হিসেবে ঘোষণা করা হচ্ছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল, ফ্রিজ, স্বর্ণালঙ্কার, টেলিভিশনসহ আরও অনেক কিছু। চাম্বল ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে লটারির ড্র অনুষ্ঠান চলে রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত। ১০ এপ্রিল শুরু হয়েছে ওই জুয়া।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চাম্বল ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে কর্ণফুলী চক্ষু হাসপাতালের নামে বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হলেও মূল মঞ্চে ‘দ্য নিঝুম র‌্যাফল ড্র’ লেখা আছে। লটারিতে কোথাও লেখা হয়নি কর্ণফুলী চক্ষু হাসপাতালের কথা। ছয়টি নামে লটারি বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি লটারির দাম ২০ টাকা। লটারির নামগুলো হল-দ্য সোনালি লাকি কুপন, দ্য সোনালি র‌্যাফল ড্র, দ্য নিঝুম লাকি কুপন, দ্য নিঝুম লাকি ড্র, দ্য সুমন লাকি কুপন ও দ্য সুমন র‌্যাফল ড্র। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, রাতে লটারি ড্রর ফাঁকে অশ্লীল নৃত্য প্রদর্শনীও চলে।

দ্য নিঝুম র‌্যাফল ড্রর পরিচালক এম রাজু খান বলেন, ‘চাম্বলে এই মেলা বসাতে গিয়ে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। প্রথমে চাম্বল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বসিয়েছিলাম। সেখানে বাধা দেওয়ায় আবার ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে বসিয়েছি। এতে দ্বিগুণ ক্ষতি হয়েছে। আমরা খরচের টাকা মেটাতে ১২৫টি বাক্স বসিয়ে শতাধিক স্পটে লটারি মাইকযোগে বিক্রি করছি। প্রতিরাতে লটারি ক্রেতাকে আকর্ষণীয় পুরস্কারও দিচ্ছি। এটা দোষের কিছু না। মাত্র ১৩ দিন লটারি বিক্রি করেছি। আরও ১০ দিনের মতো লটারি বিক্রি করতে পারলে আমাদের খরচ মেটবে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কলেজের একাধিক শিক্ষক বলেন, পরীক্ষা চলাকালীন কলেজের পাশের রাস্তা দিয়ে আজে-বাজেভাবে মাইকিং করে এসব লটারি বিক্রির প্রচার চলে। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেওয়ার সময় কিংবা পড়ালেখা করার সময় লোভনীয় প্রস্তাবে লটারি বিক্রির কথা শুনলে মন-মানসিকতা কি ঠিক থাকতে পারে? অথচ এসব বন্ধে কর্তৃপক্ষের কোনো গরজ নেই। মনে হচ্ছে বাঁশখালীতে প্রশাসন নেই।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার বলেন, ‘চাম্বল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চৌধুরী জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে কয়েকদিনের জন্য বৈশাখী মেলার আয়োজনটা করেছেন। তাঁকে শর্ত সাপেক্ষে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ওই শর্তে র‌্যাফল ড্রর নামে লটারি বিক্রির কোনো অনুমতি নেই। উপজেলা সদরে এক ব্যক্তিকে লটারি বিক্রির অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজাও দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি দেখার জন্য বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

চাম্বল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চৌধুরী বলেন, ‘বৈশাখী মেলার আয়োজনটা আর্তমানবতার সেবায় করা হয়েছে। এখানে উপার্জিত অর্থ গরিবদের চক্ষু চিকিৎসার কাজে ব্যয় করা হবে। এখানে কোনো অসামাজিক কাজ হচ্ছে না।’ কখন, কীভাবে, কোথায়-গরিবের চক্ষু চিকিৎসা করা হবে এই প্রশ্নের জবাব তিনি এড়িয়ে যান।

বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘আমি ছুটিতে ঢাকায় আছি। ঢাকা থেকে আসলে বিষয়টি দেখা হবে। র‌্যাফল ড্রর নামে লটারি বিক্রি করতে দেওয়া হবে না কাউকে।’

মন্তব্য