kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

কুমিল্লায় ছুরিকাঘাতে স্কুলছাত্র ও অটোচালকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা   

২৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০৫:০৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কুমিল্লায় ছুরিকাঘাতে স্কুলছাত্র ও অটোচালকের মৃত্যু

কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় এলাকায় সহপাঠীদের ছুরিকাঘাতে মোন্তাহিন ইসলাম মিরন নামে অষ্টম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্র খুন হয়েছে। রবিবার শবে বরাতের রাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মিরন নগরীর মডার্ণ হাইস্কুলের ছাত্র ছিল। সে কুমিল্লা মহানগরীর দক্ষিণ দুর্গাপুরের বিষ্ণপুর এলাকার সিঙ্গাপুর প্রবাসী আবুল কালাম আজাদের ছেলে। তারা নগরীর ঝাউতলা পূর্ব বাগিচাগাও এলাকায় ডা. খোরশেদ হোসেনের বাসায় ভাড়া থাকেন।

অপরদিকে কুমিল্লা নগরীর চকবাজার অটোস্ট্যান্ডে অটোচালকদের মধ্যে বাকবিতন্ডার জেরে ছুরিকাঘাত শাহজাহান (৩০) নামে এক অটোরিকশার চালক নিহত হয়।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, কিছুদিন আগে মডার্ণ স্কুলের একটি অনুষ্ঠানে বসা নিয়ে মিরনের সঙ্গে সহপাঠীদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে এ নিয়ে তাকে কয়েকবার হুমকি দেয়া হয়। রবিবার রাতে শবে বরাতের নামাজ পড়তে মিরন বাসার বাইরে গেলে নগরীর ঠাকুরপাড়া রোডের মদিনা মসজিদ এলাকায় তার সহপাঠীরা তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

মিরনের মরদেহ ময়নাতদন্তের সময় উপস্থিত থাকা প্রতিবেশী চাচা কামরুল হাসান জানান, কিছুদিন আগে মডার্ণ স্কুলের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বসা নিয়ে মিরণের সহপাঠী আবিরের সঙ্গে ৭ম শ্রেণির পল্টুর বিরোধ সৃষ্টি হয়। রবিবার রাতে শবে বরাতের নামাজ পড়তে মিরণ ও তার বন্ধু আবির নগরীর ঠাকুরপাড়া এলাকার মদিনা মসজিদে যায়। সেখান থেকে ঠাকুরপাড়া এলাকায় গোলাম মোস্তফা সড়কের আলিফ টাওয়ারের সামনে যায়। সেখানেই দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরিকাঘাত করে ফেলে যায়। 

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর রাত ১২টার দিকে সে মারা যায়। মিরনের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মিরনে বন্ধু আবিরের সাথে সপ্তম শ্রেণীতে পড়ুয়া পল্টু নামে একজনের বিরোধ ছিলো। শবে বরাতের রাতে পল্টুর বন্ধু আমিন এবং মিরনের বন্ধু আবিরের মধ্যে বাকবিতন্ডা থামাতে মিরন আলিফ টাওয়ারের সামনে যায়। 

মিরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভেঙ্গে পড়েছেন তার মা নুসরাত জাহান। তিনি জানান, আমি আমার বড় দুই ছেলেকে নিজে হাতে প্রস্তুত করে নামাজ পড়তে পাঠাই। আমার এক ছেলে ফিরে আসে কিন্তু মিরন ফিরে আসে না। রাত বারোটায় খবর পাই সে হাসপাতালে আছে। আমি শুধু আমার ছেলের হত্যাকারীর বিচার চাই। পুলিশ যেন দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করে।

নগরীর কান্দিরপাড় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সহপাঠীদের ছুরিকাঘাতে মারাত্মক আহত হওয়ার পর স্থানীয়রা আহত মিরনকে হাসপাতালে নেয়ার পর গভীর রাতে তার মৃত্যু হয়। 

কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া জানান, ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। মিরনের পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ছুরিকাঘাতের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরনের কারনে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোন মামলা করা হয়নি। তারপরও আমরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। 

সোমবার দুপুর পর্যন্ত নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়। মিরন পরিবারে ৪ ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয়। তার এ মৃত্যুর খবর পেয়ে সহপাঠীরা বাসার সামনে ভিড় জমায়। 

এর আগে ২০১৩ সালেও একই স্কুলের এক শিক্ষার্থী সহপাঠীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছিল।

অপরদিকে গত ২০ এপ্রিল নগরীর চকবাজার অটোস্ট্যান্ডে অটোচালকদের মধ্যে বাকবিতন্ডার জেরে ছুরিকাঘাতে নিহত অটোড্রাইভার শাহজাহান কুড়িগ্রাম জেলার অলিপুর থানার কদমতলা মহাদেবের জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে। সে কুমিল্লা মহানগরীর হাউজিং এস্টেট এলাকায় মঞ্জিল মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকতো এবং মঞ্জিল মিয়ার অটোরিকশা ভাড়ায় চালিয়ে জীবনযাপন করতো। ২২ এপ্রিল বিকালে সে মারা যায়। 

নিহত অটোচালক শাহজাহানের শাশুড়ি সাজিনুর বেগম জানান, শাহজাহান ওইদিন দুপুরে অটোরিকশা নিয়ে বের হয়ে যাওয়ার সময় তার ৪ বছরের শিশু সাইফুলকে ১০ টাকা দিয়ে গাড়িতে যায়। যাওয়ার সময় ছেলেকে বলে গেছে বাবা তোমার জন্য ডিম নিয়ে আসবো। কিন্তু সন্ধ্যায় আমরা খবর পাই শাহজাহানকে চকবাজার অটোস্ট্যান্ডে বুকে ছুরি মারছে। ঘটনাস্থল থেকে ৩ জনকে স্থানীয় লোকজন আটক করে পুলিশে দিয়েছে। আর আমার ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে স্থানীয় কাউন্সিলরসহ অন্যান্যরা রাতে ওই তিনজনকে নিয়ে আসে। 

মন্তব্য