kalerkantho

সোমবার । ২০ মে ২০১৯। ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৪ রমজান ১৪৪০

কে হচ্ছেন চবি উপাচার্য!

দৌড়ে আছেন পাঁচ, থেকে যাওয়ার চেষ্টায় বর্তমান জনও

মোবারক আজাদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়   

২৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০৩:২৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কে হচ্ছেন চবি উপাচার্য!

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) নতুন উপাচার্য কে হচ্ছেন, এমন আলোচনা এখন সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে বিরাজ করছে। বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর মেয়াদ আগামী ১৫ জুন শেষ হচ্ছে। এর আগে রমজান ও ঈদুল ফিতরের বন্ধের সূত্রে আজ মঙ্গলবারসহ বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস হবে আর ১২ দিন। অর্থাত্ বন্ধের পর শিক্ষার্থীরা নতুন উপাচার্য পেতে যাচ্ছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আসনে পরবর্তীতে কে বসতে যাচ্ছেন তা নিয়ে ইতিমধ্যে বেশ জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়ে গেছে। 

এর সমান্তরালে পদটিতে আসীন হতে প্রতিযোগিতার দৌড়ে আছেন পাঁচ শিক্ষক। একই সঙ্গে বর্তমান উপাচার্যও এ পদে থেকে যেতে চেষ্টা করছেন বলে জানা যায়। তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন এই ছয়জনের কেউ কেউ।

সূত্রে জানা যায়, আগ্রহীরা সরকারের বিভিন্ন মহলে তত্পরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। কেউ কেউ ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রীদের সান্নিধ্যও নিচ্ছেন। কারো আগ্রহের ভিত্তিতে নয়; নেতা-নেত্রীদের সমর্থন ও রাজনৈতিক বিচার বিশ্লেষণে যাঁরা এগিয়ে আছেন তাঁদের মধ্য থেকেই যোগ্য কাউকে উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সম্ভাব্য উপাচার্য হিসেবে যাঁদের নাম আলোচিত হচ্ছে তাঁরা হলেন, বর্তমান উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীন আখতার, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন নিজামী, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহামেদ, কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সেকান্দর চৌধুরী ও অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের অধ্যাপক ড. সুলতান আহমেদ।

এ ছাড়া বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীও এ পদে দ্বিতীয় মেয়াদে থেকে যেতে সচেষ্ট আছেন বলে জানা গেছে। 

একাধিক সূত্রে জানা যায়, প্রচলিত নিয়ম মোতাবেক পরবর্তী উপাচার্য হওয়ার কথা রয়েছে বর্তমান উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীন আখতারের। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনেও তিনি সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি; মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী। সব সময় প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে ছিলেন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পর্যন্ত উপাচার্য কোনো নারী দায়িত্ব পালন করেননি। তাই সরকারের বিভিন্ন উচ্চপদে নারীর ক্ষমতায়নের ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠানটিতে এবার নারী উপাচার্য আসলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। 

ড. শিরীন আখতারের পরে এ পদে সম্ভাবনা রয়েছে বিএসইসি কমিশনার অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন নিজামীর। বিএসইসিতে যোগদানের আগে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন। এর পরে উপাচার্য হতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন ফরিদ উদ্দিন আহামেদ। একাডেমিক শিক্ষা গবেষণাসহ  আন্তর্জাতিক পরিসরে বেশ সুনাম ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে তাঁর। এরপর রয়েছেন কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সেকান্দর চৌধুরী। ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের প্রভাবশালী নেতাদের সমর্থন পেতে তিনি চেষ্টা তদবির করছেন বলে জানা গেছে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সেকান্দর চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রগতিশীল রাজনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আমার অবস্থান। বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছি এবং করছি। তাই এ পদে আগ্রহী না হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে সব কিছু বিবেচনা করে ওপর মহল আমাকে দায়িত্ব দিলে পালন করতে মানসিকভাবে প্রস্তুত আছি।’ 

অপরদিকে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের অধ্যাপক ড. সুলতান আহমেদও দৌড়ে পিছিয়ে নেই। 

এ বিষয়ে সুলতান আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘উপাচার্য পদে নিয়োগ রাষ্ট্রীয় বিষয়। রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর যাঁকে যোগ্য ও প্রশাসনিক কাজে অভিজ্ঞ মনে করবেন তাঁকেই নিয়োগ দিবেন বলে মনে হয়। সরকার যদি আমাকে যোগ্য মনে করে দায়িত্ব দেন তবে আমি গুরুত্বপূর্ণ এ দায়িত্ব পালন করতে আগ্রহী।’

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি  অধ্যাপক জাকির হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ পদে মেধা, দক্ষতা ও সততা খুবই প্রয়োজন। সকলের প্রতি দলমত নির্বিশেষে নিরপেক্ষ আচরণ করবেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করবেন এমন ব্যক্তিকেই আসন্ন উপাচার্য পদে প্রত্যাশা করছি।’

মন্তব্য