kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

রানা প্লাজার সামনে স্মৃতিসৌধ নির্মাণসহ ১১ দফা দাবিতে অনশন

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)   

২৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০২ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



রানা প্লাজার সামনে স্মৃতিসৌধ নির্মাণসহ ১১ দফা দাবিতে অনশন

ছবি: কালের কণ্ঠ

রাত পোহালে রানা প্লাজা ধসের ৬ষ্ঠ বছরপূর্তি। দিনটিকে সামনে রেখে সেই দিনের ধসের ঘটনায় আহত এক শ্রমিক রানা প্লাজা ধসে ক্ষতিগ্রস্ত সকলের ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন, নিহতদের স্মৃতি রক্ষার্থে সৃতিসৌধ নির্মাণ, দোষীদের শাস্তি নিশ্চিতসহ ১১ দফা দাবিতে অনশনে বসেছেন। ধসে পড়া রানা প্লাজার সামনে ১১ দফা দাবি সম্বলিত ব্যানার টানিয়ে সোমবার বিকেলে যে শ্রমিক অনশনে বসেছেন তাঁর নাম মাহমুদুল হাসান হৃদয়। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত হৃদয় অনশন চালিয়ে যাবেন বলে উল্লেখ করেছেন।

হৃদয়ের ১১ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- রানা প্লাজা ধসে ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেককে ৪৮ লাখ টাকা প্রদান করতে হবে, পুনর্বাসন করতে হবে, আজীবন চিকিৎসা করাতে হবে, জাতীয়ভাবে রানা প্লাজা শোক দিবস ঘোষণা করতে হবে, আহত-নিহত এবং নিখোঁজদের সন্তানদের লেখাপড়ার দায়িত্ব নিতে হবে, সকল আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে, সকল আসামিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে হবে, উদ্ধারকর্মীদেরও চিকিৎসা করাতে হবে, স্থানী স্মৃতিস্তম্ভ করাতে হবে, আহত-নিহত ও নিখোঁজদের পরিবারের সকল সদস্যদেরকে চিকিৎসা করাতে হবে ও রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদেরকে চাকরির সুযোগ করে দিতে হবে।

অনশনরত হৃদয় কালের কণ্ঠকে জানান, ঘটনার ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্ত  ও তার স্বজনেঅনেক শ্রমিক সঠিক ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। এ ছাড়া যাদের কারণে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে সেই ভবন মালিকসহ জড়িত অন্যান্যদেরও বিচারকার্য বিলম্বিত করা হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়েই এবার রানা প্লাজার ছয় বছর পূর্তি উপলক্ষে তিনি নিজ উদ্যোগেই ধসে পড়া রানা প্লাজার সামনে অনশনে বসেছেন। যতদিন পর্যস্ত তার ১১ দফা দাবি পূরণ না হবে ততদিন তিনি এই অনশন চালিয়ে যাবেন। আর যদি কেউ তার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে অনশনে অংশগ্রহণ করতে চায় তাহলে তিনি তাকে বা তাঁদের স্বাগত জানাবেন।

প্রসঙ্গত, অনশনরত মাহমুদুল হাসান হৃদয় (৩২) রানা প্লাজার অষ্টম তলায় নিউ স্টাইল লিমিটেডে অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন। বর্তমানে তিনি একটি ফার্মেসিতে বসে সামান্যই রোজগার করছেন। এই রোজগারে তার নিজেরই ভরণপোষণ হয় না। পরিবারের অন্য সদস্যদের তিনি ভরণ-পোষণ কিভাবে করবেন- প্রশ্ন তোলেন হৃদয়।

মন্তব্য