kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

শ্রীবরদীতে শ্রমিক সংকটে বোরো ধান কৃষকরা

শ্রীবরদী (শেরপুর) প্রতিনিধি   

২২ এপ্রিল, ২০১৯ ১৬:৩৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শ্রীবরদীতে শ্রমিক সংকটে বোরো ধান কৃষকরা

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় চলছে বোরো ধান কাটার ধুম। প্রচণ্ড রোদ উপেক্ষিত বোরো ধান কাটতে ব্যস্ত কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী দু’সপ্তাহে মাঠ থেকে বেশিরভাগ ধান ঘরে তুলতে পারবেন বলে আশা করছেন কৃষকরা। এবার তারা ইরিবোরো চাষাবাদে বাম্পার ফলন পাচ্ছেন। তবে শংকাও রয়েছে। একদিকে শ্রমিক সংকট। অন্যদিকে শিলা বৃষ্টি।

আজ সোমবার কৃষকদের সাথে কথা বলে ওঠে আসে এমন তথ্য।

শ্রীবরদী কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর জমি। এতে বিআর ২৮, বিআর ৪৯, ধানীগোল্ডসহ বিভিন্ন হাইব্রিড জাতের ধান বেশি চাষ হয়েছে। দিগন্ত মাঠ জুড়ে সোনালি ধানের সমারোহ। ধানের ছড়া এখন স্বর্ণালী।

কয়েকজন কৃষক জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দু’সপ্তাহে বেশিরভাগ বোরো ধান কেটে ঘরে তুলতে পারবেন তারা। এবার আশাতীত ফলন হয়েছে বলে জানান তারা।

মাটিফাটা গ্রামের জমশেদ আলী, কাকিলাকুড়া গ্রামের আসমত আলী, ফকির আলী ও রাজু মিয়াসহ অনেকে জানান, এবার প্রতি কাঠায় ৪ থেকে সাড়ে চার মণ করে ধানের ফলন পাওয়া যাচ্ছে। আগে এমন ফলন হয়নি বলে জানান তারা।

অনেক কৃষকের মতে, আগে সনাতন পদ্ধতিতে চাষাবাদ করেছেন। এতে ফলন কম হয়েছে। খরচ হয়েছে বেশি। এবার তারা আধুনিক পদ্ধতিতে বোরো চাষাবাদ করছেন। এতে ধানের বীজতলাসহ বিভিন্ন চাষাবাদে শ্রম, সময় আর ব্যয় কম হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে বেশি। এ ছাড়াও বিগত বছরের তুলনায় এবার বোরো চাষাবাদে সময় মতো সেচ, সার ও কিটনাশক ব্যবহার করেছেন। আবহাওয়া ছিল অনুকূলে। এ জন্য তাদের ক্ষেতের ফলনও আগের তুলনায় বেশি হয়েছে। তবে ধান কাটার শুরুতেই দেখা দিয়েছে শ্রমিক সংকট। এজন ক্রমেই বাড়ছে শ্রমিকের মূল্য। প্রতি শ্রমিককে দৈনিক দিতে হচ্ছে সাড়ে ৪শ থেকে ৫শ টাকা। এতেও অনেকে শ্রমিক পাচ্ছেন না বলে জানান। তবে আকাশে মেঘ জমলেই বাড়ে শ্রমিকের মূল্য।

উপজেলা সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা গোলাম মোস্তুফা কালের কণ্ঠকে বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সার্বিক পর্যবেক্ষণ করেছে। এ ছাড়াও সময়োপযোগী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে বাড়ছে উৎপাদনের মাত্রা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকেরা বোরো চাষাবাদে বাম্পার ফলন পাবে আশা করছেন এই কর্মকর্তা।

কৃষি উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারসহ নানা দিক তুলে ধরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হাছান বলেন, কৃষকরা আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে পারছে। এখন এর সুফল পাচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার উৎপাদন বেশি হচ্ছে। ফলনে ঘটেছে কৃষির বিপ্লব। 

মন্তব্য