kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

শ্রীলঙ্কায় জঙ্গি হামলায় জায়ান নিহত

দাদুর হাত ধরে গ্রামের বাড়িতে আসা হলো না জায়ানের

সুনামগঞ্জ ও দিরাই প্রতিনিধি   

২২ এপ্রিল, ২০১৯ ১৫:৪৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দাদুর হাত ধরে গ্রামের বাড়িতে আসা হলো না জায়ানের

আগামী নভেম্বর মাসে গ্রামের বাড়িতে আসার কথা ছিল শ্রীলঙ্কায় জঙ্গি হামলায় নিহত শেখ সেলিমের নাতি সুনামগঞ্জের দিরাই ভাটিপাড়ার জমিদার পরিবারের সন্তান জায়ান চৌধুরীর। প্রিয় নাতির সঙ্গে নিজেদের জমিদারির গৌরব ও আভিজাত্যের গল্প করতেন দাদা মতিনুল হক চৌধুরী। হাওর ঘেরা গ্রামের বর্ণনা শুনে গ্রামে আসার আগ্রহ জন্মায় জায়ানের। তাই দাদুর কাছে বায়না ছিল তাকে গ্রামে নিতে হবে। নাতির হাত ধরে নিজেদের জমিদারির সীমানা ঘুরে ঘুরে দেখানোর সুপ্ত ইচ্ছেও ছিল দাদুর। পূর্বপুরুষের স্মৃতিবিজড়িত স্থানের সঙ্গেও পরিচয় করিয়ে দেবেন এমনা ভাবছিলেন তিনি।

নাতি প্রথমবারের মতো বাড়িতে আসবে এই আহ্লাদে বেজায় খুশি ছিলেন দাদা। তাই ঢাকা থেকে এক সপ্তাহ আগে বাড়িতে এসে বনেদি পুরনো ভবনের সংস্কার কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু সেই সুখ ও আহ্লাদ শ্রীলঙ্কায় জঙ্গি হামলায় জায়ানের মৃত্যুতে বিষাদে পরিণত হয়েছে। পুরো পরিবার এখন শোকে স্তব্দ। গ্রামের বাড়ির স্বজনরাও মর্মাহত।

স্বজনরা জানান, গত এক সপ্তাহ আগে ঢাকা থেকে মতিনুল হক চৌধুরী ওরফে পারুল চৌধুরী গ্রামের বাড়িতে ছুটে আসেন। এসে পুরনো জমিদার বাড়ির সংস্কার কাজ করেন। শ্রমিক লাগিয়ে বাড়িঘর পরিস্কার, বসতঘর সংস্কার, বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন সংস্কারসহ রাস্তাঘাট সংস্কারের কাজও করিয়েছেন। বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছিল ফ্রিজ, জেনারেটরসহ নানা ধরনের মূল্যবান আসবাব সামগ্রী। এই কাজ নিয়েই বাড়িতে ব্যস্ত ছিলেন গত এক সপ্তাহ ধরে। কিন্তু আদরের নাতি বাড়ি আসার আগেই চিরতরে না ফেরার দেশে চলে গেছে সে। তার বায়না আর কখনো পূরণ হবে না এটা মনে করে চোখের জল ফেলছেন দাদু।

স্বজনরা আরো জানান, গতকালও সংস্কার কাজ করছিলেন জায়ানের দাদা মতিনুল হক চৌধুরী। বিকেলের দিকে তার কাছে ঢাকা থেকে ফোন আসে ছেলে প্রিন্স ও নাতি জায়ান শ্রীলঙ্কায় সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে নিখোঁজ আছেন। এতে মুষড়ে পড়েন তিনি। সাথে সাথে রওয়ানা দেন ঢাকার উদ্দেশ্যে।

মতিন চৌধুরীর ভাতিজা সুজাত বখত চৌধুরী বলেন, সম্পর্কে আমার চাচা হলেও আমরা সমবয়সী। তিনি ঢাকা থেকে আসার সময় আমাকে সিলেট থেকে নিয়ে এসেছেন। গল্প করেছেন তার নাতি ও আমার চাচাতো ভাই জায়ান চৌধুরী আগামী নভেম্বরে বাড়িতে আসবে। তাই তিনি পুরনো বাড়িঘর সংস্কার ও সাজাতে এসেছেন। গত এক সপ্তাহ ধরেই আনন্দের সঙ্গে তিনি শ্রমিকদের সঙ্গে কাজ তদারকি করছিলেন। রবিবার বিকেলেও আমরা এক সঙ্গে ছিলাম। এ সময়ই দুর্ঘটনার ফোন আসে। হাস্যজ্জ্বেল মানুষটি হঠাৎ মুষড়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ঢাকায় রওয়ানা দিয়েছেন। সেখানে গিয়ে প্রিয় নাতি ও ছেলের জন্য বিলাপ করছেন।

ভাটিপাড়া গ্রামের সংবাদকর্মী সৈয়দুর রহমান চৌধুরী বলেন, বাড়িতে এসে দাদা মতিনুল হক চৌধুরী খুব ফুরফুরে মেজাজে ছিলেন। প্রথমবারের মতো নাতি বাড়িতে আসবে তাকে রাজকীয় বরণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। দামি ফার্নিচারসহ আসবাবপত্র আগ থেকেই বাড়িতে নিয়ে আসছিলেন। কিন্ত এই দুর্ঘটনা তার মনে স্থায়ী ক্ষত রেখে গেছে। আমরা এলাকাবাসীও এই ঘটনায় মর্মাহত।

মন্তব্য