kalerkantho

সোমবার । ২০ মে ২০১৯। ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৪ রমজান ১৪৪০

পরীক্ষার আগের দিন প্রাথমিকের পাঠপরিকল্পনা, ক্ষুদ্ধ শিক্ষক-অভিভাবক

নড়াইল প্রতিনিধি   

২২ এপ্রিল, ২০১৯ ১৫:৩৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পরীক্ষার আগের দিন প্রাথমিকের পাঠপরিকল্পনা, ক্ষুদ্ধ শিক্ষক-অভিভাবক

প্রাথমিকের প্রথম সাময়িক পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আজ (মঙ্গলবার)। আর বার্ষিক পাঠপরিকল্পনা (সিলেবাস) দেওয়া হয়েছে আগের দিন (সোমবার)। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বার্ষিক পাঠপরিকল্পনা অনুযায়ী ক্লাসে পাঠদান করা হয়ে থাকলে ও পরীক্ষার আগের দিন সিলেবাস প্রদান করায় প্রথম সাময়িক পরীক্ষা কিছুটা এলোমেলো হবে বলে শিক্ষকদের আশঙ্কা। বছরের শুরুতে প্রথম, দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য সিলেবাস দেবার কথা থাকলেও এই ধরনের কাজে বিরক্ত শিক্ষক ও অভিভাবক। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল সদর উপজেলায় ১৭৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১৫টি কিন্ডারগার্টেন রয়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ২১ হাজার এবং কিন্ডারগার্টেনগুলোতে সাড়ে ৩ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। সব প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে একসাথে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) থেকে। ২২ এপ্রিল সারাদিন এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের মাধ্যমে ১৬ হাজার সিলেবাস আর প্রথম সাময়িক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়েছে একসাথে। সোমবার সরকারি ছুটির দিনে সকাল থেকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে প্রশ্নপত্র আর সিলেবাস একসাথে নিতে ভিড় করেছিলেন কয়েক শ শিক্ষক।

মহিষখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকা বলেন, বছরের শুরুতে আমাদের ছেলে-মেয়েরা বই পেয়েছে, অথচ সিলেবাস পেলাম প্রায় ৪ মাস পরে, যেটা পরীক্ষার জন্য তৈরি করা হলো সেটা পরীক্ষার আগের দিন দেওয়াটা শিক্ষার্থীদের সাথে এক ধরনের প্রতারণা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষক বলেন, বছরের শুরুতে সিলেবাস দেওয়ার কথা, যা দেখে শিক্ষকরা পাঠপরিকল্পনা করে শিক্ষার্থীদের পড়াবেন, ছেলে-মেয়েরা সেইভাবে প্রস্তুতি নেবে। ৪ মাস চলে যাচ্ছে, প্রথম সাময়িক পরীক্ষার আগের দিন সিলেবাস দেবার মানে কি? এ সিলেবাস নিয়ে আমরা কবে পড়াব? আর শিক্ষার্থীরা কি পরীক্ষা দেবে?

নড়াইল শহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক বশিরুল হক বলেন, একটি সিলেবাস তৈরি করতে যদি চার মাস সময় লাগান তাহলে এরা কোন কাজে সারাবছর ব্যস্ত থাকে তা আমরা বুঝি না। শিশুদের লেখাপড়া নিয়ে কোনোই ভাবনা নেই শিক্ষা প্রশাসনের।

দেরিতে পাঠপরিকল্পনা দেবার ব্যাপারে নড়াইল সদর উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সাজ্জাদুল করিম বলেন, বিভিন্ন সময়ে সিলেবাসের পরিবর্তন হয়ে থাকে তাই নির্দিষ্ট সময়ে দেওয়া যায়নি। রবিবার আমাদের কাছে পৌঁছানোর পর থেকেই বিতরণ করা হচ্ছে।

সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অসিত কুমার পাল বলেন, শিক্ষক বদলির বিষয় নিয়েই গত কয়েকমাস ব্যস্ত ছিলাম, তাই সিলেবাস সময়মতো দেওয়া যায়নি। তবে প্রথম সাময়িকের পরীক্ষার কোন জায়গা থেকে কোন পর্যন্তু আসবে সেটি পূর্বেই বিদ্যালয়গুলোতে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। 

মন্তব্য