kalerkantho

নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে চিফ হুইপ ও নৌ প্রতিমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি

'নদীর এক ইঞ্চি জমিও দখল হতে দেব না'

অনিয়মের অভিযোগে নদী খনন প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাদ

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি   

২২ এপ্রিল, ২০১৯ ১২:০৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'নদীর এক ইঞ্চি জমিও দখল হতে দেব না'

শিবচরে ময়নাকাটা নদীতে বিআইডাব্লিউটিএর চলমান খনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার জালাল ট্রেডার্সকে বাতিল করা হয়েছে। রবিবার বিকেলে চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী, নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব আ. সামাদ, বিআইডাব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর এম মাহবুবুল ইসলাম, বিআইডাব্লিউটিসির চেয়ারম্যান প্রণয় কান্তি বিশ্বাসসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে এসে প্রকল্পর বেহাল দশা দেখে অনিয়মের অভিযোগে প্রকল্পটি বাদ দেওয়ার ঘোষণা দেন। প্রকল্পটি বাবদ ২৫ ভাগ টাকা ঠিকাদার জালাল ট্রেডার্স উত্তোলন করে নিলেও সরেজমিনে পরিদর্শনকালে কাজের অগ্রগতির কোনো সত্যতা খুঁজে পায়নি নেতৃবৃন্দ। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ কোটি সাড়ে ১৩ লাখ টাকা। প্রকল্পটি ২০১৭ সালের ২৩ মে শুরু হয়ে ২০১৯ সালের ২২ এপ্রিল সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। ১২০ ফুট প্রসস্ততায় সাড়ে ৭ ফুট গভীরতায় খনন ও ২ হাজার ফুট দূরত্বে খননকৃত পলি অপসারণের কথা থাকলেও নদীবুকেই মাটি ফেলে নদীটিকে সংকুচিত করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। নেতৃবৃন্দ এ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন ছাড়াও ময়নাকাটা নদীর ওপর শেখ হাসিনা সেতু উদ্বোধন ও উপজেলা পরিষদে ঈদপূর্ব কাঠালবাড়ি ইলিয়াছ আহমেদ চৌধুরী ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপনাবিষয়ক আলোচনাসভায় অংশ নেন। 

সভায় উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সুব্রত হাওলাদার, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিয়াজ উদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি মুনির চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক কাজল কৃষ্ণ দে, নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন খান, পৌর মেয়র আওলাদ হোসেন খান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আ. লতিফ মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. সেলিম প্রমুখ।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, পরিদর্শনকালে ময়নাকাটা নদী খননে অনিয়মের অভিযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর এক ইঞ্চি নদীর জমিও আমরা দখল হতে দেব না। যারা নদীর দিকে দখলের জন্য দৃষ্টি দিয়েছেন তারা দৃষ্টি ফিরিয়ে নিন। নদীকে রক্ষা করতে না পারলে জনপদ সংস্কৃতি কিছুই বাঁচবে না। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশক্রমে নদী দখলমুক্ত অভিযান চলছে।

পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের পর কাঠালবাড়ি ইলিয়াছ আহমেদ চৌধুরী ঘাট সম্পর্কে তিনি বলেন, পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের পর আমরা এই ঘাটের ৪২ একর জায়গায় নৌ-পর্যটনকেন্দ্র বা নৌ ইকো পার্ক গড়ে তুলব।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী নদী দখলের বিরুদ্ধে চলমান কঠোর অভিযান ও ময়নাকাটা খনন কাজে অবহেলায় জড়িত ঠিকাদারকে বাদ দেওয়ায় ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে সরকার খুব কঠোর। কেউ নদীর জায়গা দখল করার চেষ্টা করবেন না। সরকার যদি ঢাকার পাশে ছয়তলা বাড়ি ভাঙতে পারে তাহলে শিবচরেও ১০ তলা ভাঙতে পারবে। শুধু বিআরএস রেকর্ড করে জমি দখল করা যাবে না, তার আগের রেকর্ডগুলোও পর্যবেক্ষণ করা হবে।  

মন্তব্য