kalerkantho

সোমবার । ২০ মে ২০১৯। ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৪ রমজান ১৪৪০

পবিত্র রজনীতে

বোন রাফির আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মোনাজাত

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ এপ্রিল, ২০১৯ ০২:১০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বোন রাফির আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মোনাজাত

ছবি: কালের কণ্ঠ

‘আমার বোন সুরেলা কণ্ঠে কোরআন তিলাওয়াত করতে পারতো, শবেবরাতে নামাজের পাশাপাশি পুরো রাত কোরআন তিলাওয়াত করতো, হাদিস ও ইসলামী সাহিত্য পাঠের মাধ্যমে ইবাদত বন্দেগীতে রাতটা কাটাতো, সেই বোন এ শবেবরাতে নেই, নির্মমতার স্বীকার হয়ে শায়িত হয়েছে আছে কবরে’।

কথাগুলো বলছিলেন, সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার মেধাবী ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান। সম্প্রতি আগুনে পুড়িয়ে নির্মমভাবে তাকে হত্যা করে তারই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলার দোসররা।

নুসরাতের ভাই নোমান আরো বলেন, আমাদের পুরো পরিবারের মধ্য মনি ছিল আমাদের বোনটি, যেন সবার নয়নের মনি। শবেবরাতের রাতে বোন পরিবারের জন্য হালুয়া-রুটি ও সুস্বাদু খাবার রান্না করতো। সবাইকে নিয়ে ইবাদত বন্দেগীর মাধ্যমে রাতটা পার করতো। কিন্তু এ বছর শবেবরাতের রাতে আমাদের বোনটি আর বেঁচে নেই, খুনিরা তাকে বাঁচতে দেয়নি।

নুসরাতের ভাই নোমান বলেন, আমরা এ ভাগ্য রজনীতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে বোনের রুহের মাগফেরাতের জন্য দোয়া করেছি। বোন যেন জান্নাতের বাসিন্দা হতে পারে সে জন্য আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করেছি। এর পাশাপাশি মহান আল্লাহর কাছে এ নির্মম হত্যার বিচারও চেয়েছি।

নোমান বলেন, আমরা বাংলাদেশ সরকারের কাছেও আমাদের বোনের হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। যাতে আর কোনো ভাইকে বোন হারিয়ে আর্তনাদ করতে না হয়। বোনের শূন্যতায় ডুকরে ডুকরে কাঁদতে না হয়।

সোমবার (২২ এপ্রিল) সোনাগাজী আল হেলার একাডেমীর পাশে সামাজিক কবরস্থানে কবর জেয়ারতের সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সোনাগাজী প্রেস ক্লাবের সভাপতি শেখ আবদুল হান্নান, আল হেলাল একাডেমীর সিনিয়র শিক্ষক মো. সেলিম আল দিন, চাচাতো ভাই মো. ফয়েজসহ নুসরাতের পরিবার ও স্বজনরা।

গত ৬ এপ্রিল সকালে নুসরাত আলিমের আরবি পরীক্ষা প্রথমপত্র দিতে গেলে মাদ্রাসায় দুর্বৃত্তরা গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় দগ্ধ নুসরাত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাঁচদিন পর ১০ এপ্রিল রাতে মারা যায়।

পর দিন ১১ এপ্রিল বিকেলে তার জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে প্রধান আসামি করে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৪/৫ জনকে আসামি করে নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ৮ এপ্রিল সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করে। ১০ এপ্রিল থেকে মামলাটির দায়িত্ব পায় বিপিআই। সেই থেকেই গ্রেপ্তার হতে থাকে আসামিরা। এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয় ২০ জন আসামি, আদালতে জবাবন্দি দিয়েছে ৭ জন।

মন্তব্য