kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

কমলাকান্দায় সংখ্যালঘুর ঘর বেদখলের পাঁয়তারা

কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি   

২১ এপ্রিল, ২০১৯ ২০:২৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কমলাকান্দায় সংখ্যালঘুর ঘর বেদখলের পাঁয়তারা

একবছরের জন্য ঘর ভাড়া দিয়ে বিপদে পড়েছে সংখ্যালঘু ঘর মালিক। চুক্তি অনুযায়ী একবছর শেষ হলেও ঘর ছাড়ছে না ভাড়াটিয়া। উল্টো মামলাসহ বিভিন্নভাবে হুমকি অব্যাহত রেখেছে। এবার ঘর মালিকের নামে একটি আদালতে মামলা করে নিজেই দোকান ঘর দখলের পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে ভাড়াটিয়ার বিরুদ্ধে। 

এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে কলমাকান্দা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় হল রুমে সাবেক সংসদ সদস্য ছবি বিশ্বাসের সভাপতিত্বে এক সামাজিক সালিস-দরবার অনুষ্ঠিত হয়। অভিযুক্ত ঘর ভাড়াটিয়া ওই দরবারে উপস্থিত না হয়ে দরবার প্রত্যাখান করে উপস্থিত সকলকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে বলে জানান দরবারিরা। ওই সালিসি দরবারে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আজাদ, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার সুলতান গিয়াস উদ্দিন, উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আলী বিশ্বাস, বণিক সমিতির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, সম্পাদক কাজল দে সরকার, ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সম্পাদক সুজন সাহা, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা গৌরাঙ্গ চন্দ্র দাস, বিজয় চন্দ্র তালুকদার, সতিশ মল্লিক, অজিত রায়, সাংবাদিক ইসমাইল হোসেন সিরাজী, কামাল পাশা, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান সেলিম ও সম্পাদক পলাশ কাস্তি বিশ্বাস প্রমুখ। এ ছাড়াও সালিসি দরবারে এলাকার নানা শ্রেণি-পেশার হাজারো লোকজন উপস্থিত ছিলেন। এ নিয়ে এলাকার সাধারণ লোকজন ও ব্যবসায়ী সমাজে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছয়বারের নির্বাচিত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বাসাউড়া গ্রামের সতিশ চন্দ্র সাহার ছেলে সুকুমার সাহা রায় ওরফে রঞ্চু এ অভিযোগ করেন।

সূত্র জানায়, কলমাকান্দা উপজেলা সদরের মধ্য বাজারের মৃত মাহবুব মিয়ার ছেলে জহিরুল ইসলাম মোস্তফাকে এক বছরের জন্য দোকানঘরটি ভাড়া দেন। চুক্তি অনুযায়ী একবছর পার হওয়ার পরও ঘর না ছেড়ে উল্টো দোকান মালিক সুকুমার সাহা রায়ের নামে আদালতে একটি মামলা করেন। 

রবিবার সকালে ঘর মালিক সুকুমার সাহা রায় স্থানীয় সংবাদিকদের জানান, মোস্তফা আমার ঘরে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল কিন্তু হঠাৎ করে সে আমার ঘর ও ভূমির মালিকানা দাবি করে বিভিন্ন জায়গায় প্রচার চালায় তা শোনার পর চুক্তিপত্র অনুযায়ী ঘর ভাড়ার মেয়াদ শেষ হলে আমি তার কাছে আর ভাড়া দেব না বলে জানাই। পরে সে ঘর না ছেড়ে টালবাহানা শুরু করলে একপর্যায়ে তৎকালীন সংসদ সদস্য ছবি বিশ্বাসের নেতৃত্বে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সামাজিক সালিস-দরবার বসে। আমি মোস্তফার নিকট ঘর ভাড়া দেব না বলে সালিস-দরবারে উপস্থিত ব্যক্তিদের নিকট বলি। তারপর দরবারে মোস্তফা পুনরায় নতুন করে একবছরের জন্য ঘরটি ভাড়া নিতে আগ্রহ প্রকাশ করলে আমি তা প্রত্যাখান করি। কিন্তু উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সুপারিশে নতুন করে জামানত ছাড়া একবছরের জন্য লিখিত চুক্তিনামা করে ৩০ চৈত্র ১৪২৫ বাংলা পর্যন্ত ঘরটি ভাড়া দেই। ঘর ছাড়ার সময় শেষ হওয়ার দুই দিন পূর্বেই নেত্রকোনা জেলা বিজ্ঞ আদালতে একটি মিথ্যা অভিযোগ করে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আমাকে একটি নোটিশ পাঠিয়ে দেয়। আমরা সংখ্যালঘু বিধায় বিভিন্ন কূটকৌশলে বিহারি মোস্তফা আমার ঘরটি বেদখল করার জন্যই তার নিকটতম আত্মীয়-স্বজনদের সাক্ষী রেখে এ মামলাটি দায়ের করে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি আশা করি আদালতে ন্যায় বিচার পাব। 

এ বিষয়টি জানতে ঘর ভাড়াটিয়া জহিরুল ইসলাম মোস্তফার নিকট রবিবার দুপুরে ০১৭১৩৫৪৫০৪৪ নম্বরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।  

মন্তব্য