kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

২৪ বছরেও একাডেমিক স্বীকৃতি পায়নি শার্শার গোড়পাড়া মহিলা কলেজ

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি   

২১ এপ্রিল, ২০১৯ ১৬:০৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



২৪ বছরেও একাডেমিক স্বীকৃতি পায়নি শার্শার গোড়পাড়া মহিলা কলেজ

বতর্মান সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপের ফলে শিক্ষা খাতে ব্যাপক উন্নতির পাশাপাশি বাংলাদেশে নারী শিক্ষার প্রসার সারাবিশ্বে প্রশংসা কুড়ালেও একটু ব্যতিক্রম শার্শার গোড়পাড়া মহিলা কলেজ। প্রতিষ্ঠার ২৪ বছর অতিবাহিত হলেও একাডেমিক স্বীকৃতি পায়নি কলেজটি। গ্রামাঞ্চলে নারী শিক্ষা প্রসারের লক্ষে এলাকার বিদ্যানুরাগী এবং শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের উদ্যোগে ১৯৯৫ সালে গড়ে উঠে গোড়পাড়া মহিলা কলেজ।

এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন ওই এলাকার নারী শিক্ষার্থী ও কলেজে কর্মরত ১৮ জন শিক্ষক-কর্মচারী। কয়েকজন শিক্ষক হতাশায় অন্যত্র চাকরি নিয়ে চলে গেছেন। অনেক শিক্ষার্থীও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন কলেজে ভর্তি হয়েছেন। তবে কলেজের অধ্যক্ষ বলছেন, আমরা বিভিন্নভাবে কলেজটিকে টিকিয়ে রাখতে এবং একাডেমিক স্বীকৃতি পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে এ ব্যাপারে সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

জানা গেছে, ১৯৯৫ সালে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে পিছিয়ে পড়া নারীদের উচ্চ শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করতে এলাকার বিদ্যানুরাগী এবং শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের উদ্যোগে যশোরের শার্শা উপজেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার উত্তরে নিজামপুর ইউনিয়নের গোড়পাড়ায় গড়ে উঠে গোড়পাড়া মহিলা কলেজ। নিয়োগ দেওয়া হয় ১৪ জন শিক্ষক ও ৪ জন কর্মচারী। কলেজটি সকল শর্ত পূরণ করায় ২০১০ সাল থেকে পাঠদানের অনুমতি প্রদান করেন শিক্ষাবোর্ড। ওই সালেই সরকারিভাবে নির্মিত হয় দ্বিতল ভবন। আর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৫৫ জন শিক্ষার্থী।

শিক্ষক-কর্মচারী ও এলাকার বিদ্যানুরাগীদের সহযোগিতায় ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত এ কলেজ থেকে নিয়মিতভাবে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে আসছিল ছাত্রীরা। একাডেমিক স্বীকৃতি না পাওয়ায় ২০১৮-১৯ শিক্ষা বর্ষে আর কোনো ছাত্রী ভর্তি হয়নি। প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে কলেজটি গ্রামীণ এ জনপদে নারীদের উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে যথেষ্ট ভূমিকা রাখছিল। ছাত্রী সংখ্যা, ফলাফল, অবকাঠামোসহ সকল শর্ত পূরণ করলেও ২৪ বছরেও কলেজটি পায়নি একাডেমিক স্বীকৃতি। যার কারণে সাময়িক বন্ধ হয়ে গেছে কলেজটির সকল কার্যক্রম। তবে চলতি এইচ এস সি পরীক্ষায় এ কলেজের ৫ জন ছাত্রী অংশ নিচ্ছেন বলে জানায় অধ্যক্ষ মো. কামরুজ্জামান।

স্থানীয় একজন কলেজ শিক্ষক জানান, কয়েকবার স্থানীয় সংসদ সদস্যের ডিও লেটারসহ একাডেমিক স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করলেও একাডেমিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। যার কারণে ২০১৭ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির সকল কার্যক্রম। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষিকা ও কর্মচারীরা প্রায় দুই যুগ আগে পরিচালনা কমিটির নিকট থেকে নিয়োগ পেয়ে নিয়মিত পাঠদানসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল কার্যক্রম পরিচালনার করার পর একাডেমিক স্বীকৃতি না পাওয়ায় অবশেষে তারা শিক্ষকতার মত মহান পেশা ছেড়ে দিয়ে জীবিকা নির্বাহের তাগিদে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত ছেড়ে বিভিন্ন পেশায় যোগ দিয়েছেন।

কলেজের অধ্যক্ষ মো. কামরুজ্জামান জানান, কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে শুধু পাবলিক পরীক্ষায় বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ভর্তি ফি এবং ছাত্রীদের থেকে সামান্য বেতন নেওয়া হয়। তা থেকে শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন দেওয়া হয়। শিক্ষকদের সযত্ম পাঠদানের কারণে প্রতি বছর পাবলিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের ফলাফল বরাবরই সন্তোষজনক। সরকারের সব নীতিমালা অনুসরণ করে একাডেমিক স্বীকৃতির জন্য আবেদন করেও কলেজটি একাডেমিক স্বীকৃতি না পাওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীরা আজ মানবেতর জীবনযাপন করছে। এ ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক সামান্য যে বেতন ছিল তাও এখন পাচ্ছি না। সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৩ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একাডেমিক স্বীকৃতির জন্য আবেদন করা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাসান হাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, শার্শা উপজেলায় মোট ১২টি কলেজ রয়েছে। তার মধ্যে মাত্র ২টি মহিলা কলেজ। একটি নাভারণ ফজিলাতুন্নেছা মহিলা কলেজ ও অপরটি গোড়পাড়া মহিলা কলেজ। গোড়পাড়া মহিলা কলেজটি ২০১০ সালে পাঠদানের অনুমতি পায় শিক্ষা বোর্ড থেকে। একাডেমিক স্বীকৃতি না পাওয়ায় ২০১৭ থেকে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ আছে। পুনরায় কলেজটি চালু করতে হলে বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ বরাবর আবেদন করলে কলেজটি পুনরায় চালু করা সম্ভব।

এ ব্যাপারে যশোর-১ (শার্শা) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি শেখ আফিল উদ্দিন বলেন, কলেজটি একাডেমিক স্বীকৃতি পেলে এলাকার গরিব ও সুবিধাবঞ্চিত মেয়েরা উপকৃত হবে। কলেজটি একাডেমিক স্বীকৃতির বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করা যায়, এবার এ কলেজটি একাডেমিক স্বীকৃতি পাবে। নারী শিক্ষা প্রসারের লক্ষে কলেজটির শিক্ষক-কর্মচারী এবং এলাকার শিক্ষানুরাগী ও জনপ্রতিনিধিরা জনস্বার্থে শিক্ষাবান্ধব এই সরকারের কাছে কলেজটি আশু একাডেমিক স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন।

মন্তব্য