kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

ভাঙ্গুড়ায় ১৭ লাখ টাকার পুকুর পুনঃখনন কাজ অনিশ্চিত

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি   

২১ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:২৪ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ভাঙ্গুড়ায় ১৭ লাখ টাকার পুকুর পুনঃখনন কাজ অনিশ্চিত

মৎস্য অধিদপ্তরের বরাদ্দ দেওয়া ১৭ লাখ টাকায় পাবনার ভাঙ্গুড়ায় দুইটি সরকারি পুকুর পুনঃখনন কাজে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এই অর্থ ছাড় করা হলেও পুকুর দুটিতে আজ পর্যন্ত খনন কাজ শুরু করা হয়নি। অথচ কাজ শেষের মেয়াদ আগামী ২৫ এপ্রিল শেষ হবে। এ অবস্থায় আর ছয়দিন পরই বরাদ্দকৃত অর্থ সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে ফেরত পাঠাতে হবে। তবে খনন কাজে নিয়োজিত মৎসজীবী সমবায় সমিতির সুফলভোগীরা বাকি কয়েকদিনে সামান্য পরিমাণে হলেও পুনঃখনন কাজ করতে চান। সেক্ষেত্রে কাজের পরিমাণ এবং উত্তোলনকৃত অর্থের মধ্যে বড় ধরনের গড়মিল হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা যায়, পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার চারটি সরকারি পুকুর পুনঃখননের জন্য মৎস অধিদপ্তরাধীন ‘জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস উৎপাদন বৃদ্ধি’ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তির জন্য গত বছরের জুন মাসে পুকুর সংশ্লিষ্ট মৎসজীবী সমিতির সুফলভোগীরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের শ্রীপুর মৎসজীবী সমবায় সমিতির অধীনে তিন একর আয়তনের শ্রীপুর আন্দেমান পুকুর ও সাত একর আয়তনের শ্রীপুর বলতল পুকুর, দিলপাশার ইউনিয়নের বেতুয়ান মৎসজীবী সমবায় সমিতির অধীনে দুই একর আয়তনের বেতুয়ান জলমহল ও ভাঙ্গুড়া পৌরসভার সারুটিয়া মহল্লায় উত্তর সারুটিয়া মৎসজীবি সমিতির অধীনে তিন একর আয়তনের পাউবোর বড়পিট পুকুর পুনঃখননের অনুমোদন পায়।

শ্রীপুর আন্দেমান পুকুরের জন্য ১১ লাখ চল্লিশ হাজার ও শ্রীপুর বলতল পুকুরের জন্য ১৯ লাখ পঞ্চাশ হাজার, বেতুয়ান জলমহলের জন্য ৫ লাখ পঁচাত্তর হাজার ও সারুটিয়া পাউবোর বড়পিট পুকুরের জন্য ১০ লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা গত মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বরাদ্দ দেয় মৎস্য অধিদপ্তর।

অর্থ প্রাপ্তির পর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা পুকুর পুনঃখননের কাজ শুরু করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অনাপত্তি পত্র চেয়ে চিঠি প্রেরণ করেন। কিন্তু সে সময় উপজেলা নির্বাচনের কারণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে বিষয়টি ঝুলে থাকে। পরে এপ্রিলের প্রথম দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুকুর সংস্কারের অনিয়ম রোধে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি যাচাই করে ৭ এপ্রিল অনাপত্তি পত্র প্রদান করেন।

এরপর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অনুমোদনকৃত সুফলভোগী মৎসজীবী সমবায় সমিতি তিনটির মাধ্যমে চারটি পুকুরে পুনঃখনন কাজ শুরু করার নির্দেশ দেয়। এতে শ্রীপুর বলতল পুকুর ও সারুটিয়া পাউবোর বড়পিট পুকুরে খনন কাজ শুরু হলেও অপর দুইটি পুকুরে আজও খনন কাজ শুরু হয়নি।

শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খানমরিচ ইউনিয়নের শ্রীপুর মৌজার বলতল পুকুরে দশ দিন ধরে একটি এক্সেভেটর (ভেকু) মেশিন দিয়ে পুকুরের চারপাশে বাধ সংস্কারের কাজ চলছে। আর কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে পুকুরের মাঝখানে কয়েক ফুট পানি জমে যাওয়ায় আরেকটি এক্সেভেটর (ভেকু) মেশিন থাকলেও তা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এ ছাড়া একই মৌজার আন্দেমান পুকুরে আজ (শনিবার) পর্যন্ত কোনো প্রকার খনন কাজ শুরুই করা হয়নি।

এইদিন বেতুয়ান জলমহলে গিয়ে দেখা যায়, পুকুরের পাড়ে একটি এক্সেভেটর (ভেকু) মেশিন রাখা আছে। কিন্তু সেটি নষ্ট থাকায় কাজ শুরু করা যায়নি। তবে পাবনা থেকে মেকানিক এসে মেশিনটি মেরামতের চেষ্টা করছেন। অপরদিকে পৌরসভার সারুটিয়া মৌজার পাউবোর বড়পিট পুকুরের পুনঃখনন কাজ প্রায় শেষ হয়ে গেছে।

পুকুর পুনঃখননের বিষয়ে শ্রীপুর মৎসজীবী সমবায় সমিতি ও পুকুর পুনঃখনন কমিটির সভাপতি ইসমাঈল হোসেন মেম্বর বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে অনাপত্তিপত্র দেরীতে পাওয়ায় কাজ শুরু করতে দেরী হয়েছে। এরপর বলতল পুকুরে কাজ শুরু করলেও কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আর আন্দেমান পুকুরের ব্যাপারে তিনি বলেন, এক্সেভেটর (ভেকু) মেশিনের সংকটের কারণে কাজ শুরু করা যায়নি। তবে আজকালের মধ্যে কাজ শুরু করা হবে।
আগামী পাঁচ দিনে কাজ শেষ করা সম্ভব কিনা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে আরো এক্সেভেটর (ভেকু) মেশিন নিয়ে আসা হবে। যেভাবেই হোক কাজ শেষ করা হবে বলে দাবি করেন তিনি।

বেতুয়ান মৎসজীবী সমবায় সমিতি ও পুকুর পুনঃখনন কমিটির সভাপতি আক্কাস আলী মেম্বর বলেন, দেরীতে হলেও খনন কাজ শুরু করার চেষ্টা করছি। একটু-আধটু অনিয়ম হলেও কাজ শেষ করে দিব। শুধু আপনারা (সাংবাদিকরা) আর কর্মকর্তারা চাইলেই হবে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বলেন, পুকুর পুনঃখননের কাজ নিয়ে কোনো লুকোচুড়ি চলবে না। যে সমিতি যেটুকু কাজ করবে সেটুকু কাজেরই বিল পাবে। কাজ না করে বেশি টাকা উত্তোলনের জন্য কোনো প্রকার তদবির চলবে না।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেন, পুকুর পুনঃখননে বরাদ্দকৃত অর্থের ব্যবহার শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। কেউ দায়িত্বে অবহেলা করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য