kalerkantho

সোমবার । ২০ মে ২০১৯। ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৪ রমজান ১৪৪০

ময়মনসিংহ সিটি নির্বাচন

২৪২ কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে তিনিই একমাত্র নারী

নিয়ামুল কবীর সজল, ময়মনসিংহ   

২০ এপ্রিল, ২০১৯ ০৮:৩৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



২৪২ কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে তিনিই একমাত্র নারী

চাইলে সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করতে পারতেন। কিন্তু সেটা না করে সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হওয়ার সাহস দেখালেন ফাহিমা বেগম রূপা (৩৯)। ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ৩৩টি সাধারণ ওয়ার্ডে ২৪২ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে একমাত্র তিনিই নারী। রূপার এ সাহস দেখানোর পেছনে রয়েছে তাঁর নিজের যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তার প্রতি অগাধ আস্থা।

সিটি করপোরেশনের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে রূপা ছাড়াও আছেন আরো ১২ জন পুরুষ প্রার্থী।

উল্লেখ্য, আগামী ৫ মে নতুন সিটি করপোরেশন ময়মনসিংহে প্রথম নির্বাচন হচ্ছে। ইতিমধ্যে বিনা ভোটে মেয়র নির্বাচিত হয়ে গেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইকরামুল হক টিটু। ৩৩টি সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে প্রার্থী ২৪২ জন। সংরক্ষিত ১১টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রার্থীর সংখ্যা ৭০ জন।

শুধু যে হুট করে আর আবেগে ফাহিমা বেগম রূপা কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়েছেন বিষয়টা তা নয়। তিনি পুরোদস্তুর একজন অভিজ্ঞ জনপ্রতিনিধি। বর্তমানে সিটি কপোরেশনের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডটি আগে ছিল বয়রা ইউনিয়ন। সেই বয়রা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য ছিলেন ফাহিমা বেগম রূপা। তাঁর বাড়ি ইউনিয়নের দীঘারকান্দা গ্রামে। কাজেই এলাকাতে তিনি জনপ্রতিনিধি হিসেবে পূর্বপরিচিত এবং পরীক্ষিত। প্রায় ৯ বছর ছিলেন বয়রা ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে। ২০১১ সালে এ ইউনিয়নের নির্বাচন হয়েছিল। এরপর তিনি জেলা পরিষদের সদস্য ছিলেন সদর উপজেলার প্রতিনিধি হিসেবে। এ পদ ছেড়ে তিনি ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করছেন।

ফাহিমা বেগম রূপার বাবার বাড়ি ময়মনসিংহ শহরের কলেজ রোড এলাকায়। বাবা রফিকুর রহমান ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা। এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার আগেই রূপার বিয়ে হয়ে যায় শহরতলি বয়রা এলাকায়। স্বামী আবুল কালাম আজাদ টুটুল বর্তমানে গাড়ি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। বিয়ের পর রূপা মুসলিম গার্লস স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। এরপর দীর্ঘ সময় বিরতি দিয়ে কয়েক বছর আগে তিনি নাসিরাবাদ কলেজ থেকে এইচএসসি ও বিএ পাস করেন। রূপার দুই ছেলের মধ্যে বড় রাফি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা করেছে। আর ছোট ছেলে রাব্বী নবম শ্রেণিতে পড়ে।

ফাহিমা বেগম রূপা বয়রা এলাকায় ব্র্যাক এবং পরে স্বাবলম্বী নামের একটি এনজিওর অধীনে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, স্বামী, পরিবার ও এলাকাবাসীর সহায়তা নিয়েই এ পর্যন্ত এসেছেন। নারীর অধিকার নিয়ে তিনি কাজ করতে চান।

রূপা আরো বলেন, তাঁর ওয়ার্ডে প্রায় সাত হাজার ভোটারের মধ্যে অর্ধেকই নারী। তিনি সকল নারীর ভোট আশা করছেন। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হিসেবে তিনি এলাকাবাসীর সুখে-দুঃখে সব সময় পাশে ছিলেন। স্থানীয় ভোটারদের প্রতি তাঁর আস্থা আছে। বিজয়ী হলে নিজ এলাকাকে তিনি একটি আদর্শ জনপদ হিসেবে গড়ে তুলবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন।

মন্তব্য