kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

ইউপিডিএফের একাংশের বাজার বয়কট

পানছড়িতে ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত, উদ্যোগ নেই

পানছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি   

২০ এপ্রিল, ২০১৯ ০৪:৩৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পানছড়িতে ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত, উদ্যোগ নেই

২০১৮ সালের ১৯ মে আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ (প্রসীত খীসা) পানছড়ি বাজার বয়কটের ঘোষণা দিলে তার কার্যকারিতা শুরু হয় ২০ মে থেকে। গতকাল শুক্রবার ১৯ এপ্রিল এই বয়কটের পূর্ণ হলো ১১ মাস। এরই মাঝে ক্রেতার অভাবে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী অন্যত্র পাড়ি জমিয়েছে। তার পরও এর সমাধানে প্রশাসনিক কোনো তত্পরতা নজরে আসেনি বলে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন। রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা পরিদর্শনে এসে বহুবার আশ্বাস প্রদান করলেও তা বাস্তবে কিছুই হয়নি। 

এই অবস্থায় দিন দিন বাজারটি ক্রেতাশূন্য হচ্ছে। তাই ব্যবসায়ীদের আরো নিঃস্ব হওয়া সময়ের ব্যাপার বলে মনে করছে সবাই। এর কারণ, উপজেলার পূজগাং, কলেজ গেট ও কুড়াদিয়াছড়ায় নিত্য জমে ওঠে জমজমাট হাট। সরকারি, বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাজারে না এসে রাস্তার পাশে জমে ওঠা হাট থেকেই কিনে নেয় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি। তার পরও প্রশাসনের নীরব ভুমিকায় দোকানিরা হতাশ। 

জানা গেছে, ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) ও জনসংহতি সমিতির কিছু সদস্য পানছড়ি বাজারের শুকতারা বোর্ডিংয়ে অবস্থানের কারণেই বয়কটের ডাক দেয় ইউপিডিএফ। এর পাশাপাশি রয়েছে ভ্রাতৃঘাতী সংঘর্ষ ও আধিপত্য বিস্তারের জের। এ ব্যাপারে দুপক্ষের বক্তব্যতেই উঠে আসে আলাদা আলাদা যুক্তি।

ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) খাগড়াছড়ি জেলা প্রধান শ্যামল কান্তি চাকমা (জলেয়া) বলেন, ‘বাজার বয়কট সম্পূর্ণ জনস্বার্থবিরোধী। গ্রামাঞ্চলের মানুষ ও ব্যবসায়ীদের অস্ত্র দিয়ে ভয়-ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় ও হয়রানি বন্ধ করলে আমরাও বিভিন্ন এলাকার দোকানপাটে কোনো চাপ প্রয়োগ করবো না। তাছাড়া শুকতারা বোর্ডিং ভাড়া নিয়ে যে কেউ থাকতে পারে তার জন্য বাজার বয়কটের ঘোষণা কেউ দিতে পারে না।’

ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের পানছড়ি ইউনিট সমন্বয়কারী প্রানেশ চাকমা জানান, শুকতারা বোডিংয়ে বহিরাগতদের অবস্থানের কারণে পাহাড়িরা স্বঃতস্ফুতভাবে বাজার বয়কট করেছে। বাজারে অবস্থান করে তারা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করছে। এসব বন্ধ করার নিশ্চয়তা পেলে হয়তো একটা ভালো খবর আসতে পারে। দীর্ঘ এগারো মাস অতিবাহিত হলেও এর কোনো সুরাহার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। 

সকল সম্প্রদায়ের মিলনমেলার এই বাজারে ক্রেতাবিহীন দোকানপাটে অলস সময় পার করছে পাঁচ শতাধিক দোকানি। তা ছাড়া পাহাড়ি সম্প্রদায়ের লোকজনও তাদের উত্পাদিত ফসলাদি বাজারজাত করতে না পেরে পড়েছে বিপাকে। ফলে বাজারে বিভিন্ন পণ্যের মূল্য ক্রেতা ক্রয়সীমার বাইরে। 
এদিকে বেসরকারি এনজিও আশা, ব্র্যাক, পদক্ষেপ, গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া ব্যবসায়ীরা পরিশোধ করতে পারছে না সাপ্তাহিক কিস্তি।

ব্যবসায়ীদের দাবি, বাজারের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কারো কোন আন্তরিকতা দেখা যাচ্ছে না। প্রশাসন হস্তক্ষেপ করলে এটা সমাধান করা কোনো বিষয় না। পানছড়ি বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতার সহাবস্থান নিশ্চিতসহ বিভিন্ন সমস্যাদি সমাধানকল্পে প্রশাসনকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানায় বাজার ব্যবসায়ী ও আপামর জনগণ।

মন্তব্য