kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

হাটহাজারীতে গৃহবধূর লাশ

মহাসড়ক অবরোধ মানববন্ধন, দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি    

২০ এপ্রিল, ২০১৯ ০৪:৩৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মহাসড়ক অবরোধ মানববন্ধন, দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে গৃহবধূ সুলতানা পারভীন মনির (২৪) লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, মনি আত্মহত্যা করেনি, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে তারা। 

গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের সরকারহাট বাজারে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময় মহাসড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।

উল্লেখ্য, গত বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কাটাখালী গ্রামের শ্বশুরবাড়ির তিনতলা থেকে মনির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে হাটহাজারী মডেল থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছে। 

মনি হাটহাজারী উপজেলার গুমানমর্দন ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামের আহাম্মদ কবিরের ছেলে ওমানপ্রবাসী খোরশেদুল আলমের স্ত্রী। তিনি একই ইউনিয়নের বালুখালী গ্রামের মোহাম্মদ আলীর মেয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ‘কাটাখালী গ্রামের সর্বস্তরের জনসাধারণ’ ব্যানারে বিক্ষোভকারীরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। এ সময় তারা যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। এতে করে সরকারহাট বাজারের উভয় পাশে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট লেগে যায়। খবর পেয়ে হাটহাজারী মডেল থানার ওসি ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে বিক্ষুব্ধ জনতা অবরোধ তুলে নেয়। 

গুমানমর্দন ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন মনির বাবা মোহাম্মদ আলী, ভাই রাশেদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য বিবি ফাতেমা শিল্পী, এম তোবারক আলী, জিংকু বড়ুয়া প্রমুখ।

রাশেদুল অভিযোগ করেন, তাঁর বোনকে পরিকল্পনা করে হত্যা করা হয়েছে। এর সঙ্গে জড়িত মনির শাশুড়ি দিলু আরা বেগম ও চাচাতো ননদ রিমা আক্তার। রিমার অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে প্রতিবাদ করায় মনিকে হত্যা করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে মনির লাশ সিলিং ফ্যানের রডের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ তাঁদের মামলা নেয়নি। মনির মোবাইল ফোন উদ্ধার ও রিমাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

হাটহাজারী মডেল থানার ওসি মো. বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঘটনার প্রকৃত রহস্য জানতে মনির লাশ ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা বিক্ষোভ করেছেন তারা আমাদের কিছু তথ্য দিয়েছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে আমলে নিয়েছি। তথ্যগুলো তদন্ত করে দেখা হবে।’

মন্তব্য