kalerkantho

শনিবার । ২৫ মে ২০১৯। ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৯ রমজান ১৪৪০

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়

বিভাগীয় প্রধানকে অপসারণের দাবিতে শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৯ এপ্রিল, ২০১৯ ১২:৩১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিভাগীয় প্রধানকে অপসারণের দাবিতে শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যায়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও গবেষক সহযোগী অধ্যাপক ড. আশরাফ আলী সিদ্দিকীকে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব থেকে অপসারণের দাবিতে বিভাগের শিক্ষার্থীরা স্মারকলিপি দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. হুমায়ুন কবীরের কাছে স্মারকলিপি দেন তারা।

গত ৩ এপ্রিল ড. আশরাফ আলী সিদ্দিকীকে নিয়ে ‘বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যক্তির হিসেবে প্রকল্পের টাকা’ এবং গত ৯ এপ্রিল ‘বিভাগীয় প্রধানকে সরাতে স্মারকলিপি’-এ  শিরোনামে কালের কণ্ঠে দুটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পর থেকে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা চলছে ক্যাম্পাসে। প্রকাশিত দুটি প্রতিবেদনের মধ্যে ‘বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যক্তির হিসেবে প্রকল্পের টাকা’-প্রতিবেদনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গত ৮ এপ্রিল ড. আশরাফ আলী সিদ্দিকীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। 

আরো জানা গেছে, তাঁকে(ড. আশরাফ আলী) সাত কর্মদিবসের মধ্যে ওই নোটিশের লিখিত জবাব দিতে বলা হয়। গত বুধবার তিনি জবাব দিয়েছেন।

বিভাগের শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষর সম্বলিত স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, বিভাগীয় প্রধান ড. আশরাফ আলী সিদ্দিকী একজন স্বীকৃত দুর্নীতিগ্রস্থ ব্যক্তি। তার দুর্নীতির বিষয়টি বিভিন্নভাবে বিভাগের কার্যক্রম এবং ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। ড. আশরাফ আলী সিদ্দিকীর দুর্নীতি এবং অনিয়মের কারণে আমরা বিভাগের শিক্ষার্থীরা সেশনজটসহ বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। এমতাবস্থায় আমরা দুর্নীতিবাজ ড. আশরাফ আলী সিদ্দিকীকে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব থেকে অপসারণ করার দাবি জানাচ্ছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. হুমায়ুন কবীর কালের কণ্ঠকে জানান, বিভাগীয় প্রধান ড. আশরাফ আলী সিদ্দিকীকে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব থেকে অপসারণের দাবিতে তাঁর বিভাগের শিক্ষার্থীরা একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গবেষণার জন্য চীন থেকে আসা দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে এই বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের বিরুদ্ধে। গবেষণার অজুহাতে ঠিকমত ক্লাস-পরীক্ষা না নেয়ার ব্যাপারে বিভাগে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদেরও অভিযোগ রয়েছে। 

এ ছাড়াও বার্ষিক বাজেট থেকে বিভাগের ক্রয় কমিটির সম্মতি ছাড়াই নিজের ইচ্ছামত ল্যাবের যন্ত্রপাতি ক্রয় করার ব্যাপারে ড. আশরাফ আলী সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ। তা ছাড়াও গত বছরের ১৮ এপ্রিল সেচ্ছাচারিতাসহ বিভিন্ন কারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে বিভাগীয় প্রধান ড. আশরাফ আলী সিদ্দিকী’র প্রতি অনাস্থা জানিয়েছিলেন বিভাগের শিক্ষকরা। এর কারণ ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে বিভাগের ১ম বর্ষ ও ২য় বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্রেডিট লসের ভয় দেখিয়ে ফিল্ড ওয়ার্কের নামে কক্সবাজার নিয়ে যায়। সেখানে ফিল্ড ওয়ার্কের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত প্রজেক্টের কাজ করানোর ব্যাপারেও রয়েছে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ। ফিল্ড ওয়ার্ক থেকে ফিরে দুই ব্যাচের সকল শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা করে নিয়েছিলেন তিনি। তখন এ দশ হাজার টাকা দেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই কষ্টসাধ্য হয়েছিলো। 

এমনকি ড. আশরাফ আলী সিদ্দিকী পূর্বে যেখানে চাকরি করেছেন সেখানেও তার বিরুদ্ধে রয়েছে বিভিন্ন অভিযোগ। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং বিভাগে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্বে থাকাকালীন সেচ্ছাচারিতা ও অর্থ কেলেঙ্কারিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের কারণে বিভাগের শিক্ষকগণ অনাস্থা জানিয়েছিলেন। তথ্য গোপনসহ বিভিন্ন অভিযোগের কারণে তাঁকে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাময়িক বহিষ্কার করেন। পরে সকল তথ্য গোপন রেখে ২০১৫ সালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে চাকরি নেন তিনি ।

মন্তব্য