kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

রাশিয়ার এটমএক্সপো ফোরাম-২০১৯ বিশেষজ্ঞদের অভিমত

টেকসই উন্নয়নের জন্য পরমাণু শক্তির ব্যবহার অপরিহার্য

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি   

১৯ এপ্রিল, ২০১৯ ০২:০৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



টেকসই উন্নয়নের জন্য পরমাণু শক্তির ব্যবহার অপরিহার্য

রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের নির্বাহী অফিসের ফার্স্ট ডেপুটি চিফ অব স্টাফ এবং রসাটম রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি কর্পোরেশনের সুপারভাইজরি বোর্ডের চেয়ারম্যান সের্গেই কিরিয়েনকা বলেছেন, মানব জাতির টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পরমাণু প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই। ক্রমান্বয়ে নতুন নতুন অনেক দেশ এটা উপলব্ধি করতে পারছে যে, পরমাণু প্রযুক্তি বর্তমানে অতি আবশ্যকীয় একটি বিষয়।

আর রসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচোভ বলেন, জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচির সকল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে পরমাণুর শক্তিপূর্ণ ব্যবহার ওতপ্রতোভাবে জড়িত। জীবনমান উন্নয়ন, সমৃদ্ধি অর্জন এবং পরিবেশের প্রতি যুক্তিযুক্ত আচরণের ক্ষেত্রে গৃহীত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের অবিচ্ছদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে পরমাণু প্রযুক্তি।

রাশিয়ার অবকাশসহ সোচিতে রুশ রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি কর্পোরেশন (রোসাটম) এর আয়োজনে 'নিউক্লিয়ার ফর বেটার লাইফ' শ্লোগান নিয়ে গত ১৫ ও ১৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ১১তম আন্তর্জাতিক ফোরাম এটমএক্সপোর ফোরাম-২০১৯ বুধবার শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাশিয়া রোসাটমের বাংলাদেশের জনসংযোগ বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

সূত্রটি জানায়, প্যারিস চুক্তিতে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিশ্বের সকল দেশ গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমিয়ে আনতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আর এই ফোরামে অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন বর্তমানে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পরমাণু শক্তির ব্যবহার অপরিহার্য্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্রটি আরো জানায়, বিশেষজ্ঞদের মতে পরমাণু প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে চিকিৎসা শাস্ত্র, কৃষিখাত, মহাকাশ ও মেরু অঞ্চল গবেষণা এবং অর্থনীতির এনার্জি ভিত্তি সুদৃঢ়করণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। দুই দিনের এই ফোরামে বাংলাদেশসহ ৭৪টি দেশের তিন হাজার ৬০০ জনের অধিক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। আর বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান।

রসাটমের এদেশীয় জনসংযোগ বিভাগের দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, এশিয়ার দ্রুত উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশসমূহ বিশেষ করে চীন এবং ভারতে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্বে বিদ্যুৎ সুবিধা বঞ্চিত মানুষের সংখ্যা ১১০ কোটি এবং ২৯০ কোটি লোক। যাদের প্রতিদিনের ক্লিন রান্না সুবিধা নেই।  যারা কাঠ ছাড়া জ্বালানি হিসেবে অন্য কিছু ব্যবহার করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরমাণু শক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এই বিশাল জনগণকে ক্লিন এনার্জি সুবিধার আওতায় আনার সাথে সাথে জলবায়ু পরিবর্তন চ্যালেঞ্জও মোকাবেলা করা সম্ভব।

ফোরামে নিউক্লিয়ার এনার্জি এজেন্সির মহাপরিচালক উইলিয়াম ডি. ম্যাগউড বলেন, নবায়নযোগ্য শক্তি প্রযুক্তির সম্পুরক হচ্ছে পরমাণু শক্তি, যা একই সঙ্গে এই প্রযুক্তির সবিরাম উৎপাদন ঝুঁকি কমিয়ে আনে। এ ছাড়াও অধিকতর নিশ্চিত এবং কার্বন বিহীন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা তৈরিতে সহয়তা করে। বর্তমানের চ্যালেঞ্জিং মার্কেটে পরমাণু শক্তির গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতের টেকসই এনার্জি মিক্সে যাতে অবদান রাখতে সক্ষম হয় সে জন্য এই প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নতুন নতুন উদ্ভাবন একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

টেকসই উন্নয়নে পরমাণু শক্তির ভূমিকা বিবেচনায় রেখে এই ক্ষেত্রে অধিক বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে ওয়ার্ল্ড নিউক্লিয়ার অ্যাসোসিয়েশনের মহাপরিচালক অ্যাগনেটা রাইজিং বলেন, ২০১৮ সালে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। এটা এমন সময় ঘটেছে যখন সর্বশেষ আইপিসিসি (ইন্টার-গভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ) প্রতিবেদনে অনতি বিলম্বে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, জীবাশ্ম জালানীর বিকল্প উৎসে বিশেষ করে পরমাণু শক্তিতে টেকসই বিনিয়োগের পরিমাণ বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে।

মন্তব্য