kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

চবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৮ এপ্রিল, ২০১৯ ২১:২৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক পদে নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে এই পদে নিয়োগের জন্য অনুষ্ঠিত হওয়া মৌখিক পরীক্ষা বাতিল করে নিয়োগ প্রার্থী এমদাদুল হকের আবেদন দুই সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি মো. কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ শিক্ষক প্রার্থী মো. এমদাদুল হকের করা রিটে শুনানি নিয়ে রুলসহ এই আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত ২৭ মার্চ প্রাণিবিদ্যা বিভাগে প্রভাষক পদে নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা দেয়ার জন্য মো. এমদাদুল হক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে পৌঁছানোর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতজন শিক্ষার্থী তার পথ আটকান এবং তাকে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের নিয়ে গিয়ে তার কাছ থেকে টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করেন। সেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্যাগোডায় নিয়ে গিয়েও মারধর করেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘সেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে নিয়ে গিয়েও মারধর করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে এবং বলা হয় সে শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। প্রক্টর ও উপাচার্যকে ঘটনা জানালেও তারা কোনো রকমের পদক্ষেপ নেননি। পরে তার নিরাপত্তার কথা ভেবে পুলিশ হাটহাজারী থানায় নিয়ে গিয়ে লকাপে রাখে ৫টা পর্যন্ত। ওইদিন ৫টার দিকে ওসি এসে পুরো ঘটনাটি শুনে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ৫টার দিকে ছেড়ে দেন।’ 

তিনি জানান, ‘তার দুইদিন পর ৩০ মার্চ এমদাদুলক হক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন এবং অনুরোধ করেন যেন তাকে নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়া হয়। এমদাদুল হক ২০১২-১৩ সালে প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে সিজিপিএ ৪.৮৮ পেয়েছিলেন। এই ফলাফলের জন্য ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণপদকও পান তিনি। এই ঘটনার কোনো সমাধান না পেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। আজ এ আবেদনটির শুনানি শেষে আদালত আদেশে বলেছেন, ৩০ মার্চ এমদাদুল হক যে আবেদনটি জানিয়ে ছিলেন উপাচার্যের কাছে, সেটি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলেছেন এবং এই সময়ের মধ্যে যেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষকের দুইটি খালি পদে যেন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করা হয়, সেটার ওপরও নিষেধাজ্ঞার আদেশ জারি করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, আদালত যেহেতু দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছেন, আমরা দেখবো কী হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে আদালতকে আমরা এর ফলাফল সম্পর্কে অবহিত করবো এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাইবো।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার বলেন, ‘আদালত যে রুল দিয়েছেন তা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এমদাদুল হক যে পদে আবেদন করেছেন সে পদে শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন।’

এই বিষয়ে জানতে চেয়ে চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে ১৮ অক্টোবর বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে প্রাণিবিদ্যা বিভাগে প্রভাষক পদের বিপরীতেও দরখাস্ত আহ্বান করা হয়। সেটাতে আবেদন করেন এমদাদুল হক। 

মন্তব্য