kalerkantho

বিচারকের আদেশ অমান্য করায় সরকারি কর্মচারীর কারাদণ্ড

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

১৮ এপ্রিল, ২০১৯ ১৯:১১ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বিচারকের আদেশ অমান্য করায় সরকারি কর্মচারীর কারাদণ্ড

পঞ্চগড়ে বিচারকের আদেশ অমান্য করায় দিনাজপুর গণপূর্ত বিভাগের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক সেলিম আহমেদ লিটনকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে পঞ্চগড়ের একটি আদালত। সন্তানসহ আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ অমান্য করায় বৃহস্পতিবার দুপুরে সহকারী জজ ও পারিবারিক আদালতের (দেবীগঞ্জ) বিচারক ভগবতী রাণী এই দণ্ডাদেশ দেন।

বাদী পক্ষের আইনজীবী একে এম আনোয়ারুল ইসলাম খায়ের বলেন, ‘বিবাদী সেলিম লিটন আদালতে আদেশ অমান্য করায় তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে লিটন তার সন্তানকে যেই দিন আদালতে হাজির করবে সেই দিন থেকে তার সাজা বাতিল হয়ে যাবে। আর তা না করলে তিন মাস পর আদালত আবারো তার বিরুদ্ধে সাজার নির্দেশ দিতে পারেন।’

 আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার পামুলী ইউনিয়নের হেদায়েতপুর গ্রামের কবির হোসেন প্রধানের মেয়ে সিফাত-ই-তানজিলা সিজতির সঙ্গে দিনাজপুর জেলা উপশহর এলাকার সেরাজ উদ্দিনের ছেলে সেলিম আহমেদ লিটনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর ২০১২ সালে মার্চে ওই দম্পত্তির একটি ছেলে সন্তান হয়। কিন্তু দাম্পত্য কলহের কারণে ২০১৬ সালের জুনে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এরপর সন্তানের তত্ত্বাবধান নিয়েই দুই পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলতে থাকে। এক পর্যায়ে শালিসের সময় সেলিম কৌশলে ছেলে সাফওয়ান আহমাদকে (৭) নিয়ে পালিয়ে যায়। সন্তানকে ফিরে পাওয়ার জন্য সিফাত-ই-তানজিলা সিজতি ২০১৭ সালে ওই পারিবারিক আদালতে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ২০১৮ সালের ৪ এপ্রিল আদালতের বিচারক মিনহাজুর রহমান ১৫ দিনের মধ্যে সন্তানকে তার মায়ের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন। এ নির্দেশের পরে সেলিম জেলা জজ ও পারিবারিক আপিল আদালতে আপিল করে। কিন্তু গত ২০১৮ সালের ১২ সেপ্টেম্বর আদালতের বিচারক পূর্বের রায় বহাল রাখেন এবং পরবর্তী ধার্য তারিখে (১৮ এপ্রিল) সন্তানসহ সেলিম লিটনকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। 

এর মধ্যে উচ্চ আদালতে ওই রায়ের স্থগিতাদেশ চেয়ে আপিল করলেও তা নামঞ্জুর করে আদালত। বৃহস্পতিবার ধার্য তারিখে সেলিম তার সন্তানকে আদালতে হাজির না করায় আদালত তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

মন্তব্য