kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

ভোলায় গৃহপরিচারিকা ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ

ভোলা প্রতিনিধি   

১৮ এপ্রিল, ২০১৯ ১৭:৪৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভোলায় গৃহপরিচারিকা ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ

ভোলা সদর উপজেলার উকিল পাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন যাবৎ গৃহপরিচারিকাকে যৌন নির্যাতনের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে সুলতার মিয়া নামে এক বাসার মালিকের সন্তানের বিরুদ্ধে। আজ ভোররাতে সুলতান মিয়ার বাসা থেকে রোজিনা (১৪) নামে এক কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে ভোলা সদর থানা পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের মাধ্যমে নিহতের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে। তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মেয়ের বড় ভাই জাবেদসহ পরিবার এখনো ভোলা সদর হাসপাতাল থেকে লাশ দাফনের জন্য বাসায় নিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। তারা এটিকে 'হত্যা' দাবি করে এর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার দাবি করেন। 

মেয়ের বড় ভাই জাবেদ জানান, রোজিনা তাদের ছোট বোন। অভাবের তাড়নায় ভোলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম উকিলপাড়ার ব্যবসায়ী সুলতান মিয়ার বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজে দেওয়া হয় আজ থেকে প্রায় ১০ বছর আগে। তার আগেও তার এক বোন এ বাসায় কাজ করতেন গৃহপরিচারিকা হিসেবে। তবে সে সময় সুলতান মিয়ার বড় কোনো ছেলে সন্তান ছিল না। এখন তাদের তিন সন্তানের মধ্যে বড় এক ছেলে রয়েছে জুবায়েদ (১৮) নামে। সে সব সময়ই রোজিনাকে যৌন হয়রানি করত। এমন কথা রোজিনা আমাদেরকে বাসায় অনেকবার বলেছে এবং তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্যও বলেছে। আমরা আমাদের বোনকে বাসায় নিয়ে যাওয়ার জন্য অনেকবার এসেছি এবং গত শুক্রবারও তাকে আনার জন্য সুলতান মিয়ার বাসায় আমার মা গিয়েছে। কিন্তু বখাটে ছেলের মা মনোজা খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নাহানুর বেগম রোজিনাকে দেননি। বরং বলে বেড়াচ্ছেন তাকে নেওয়া যাবে না, নিতে হলে আমাদেরকে কাজের মেয়ে এনে দিয়ে নিতে হবে। আজ বুধবার রাতে তাকে হত্যা করে রান্নাঘরে রশিতে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এমনকি রাতে বোনকে হত্যার পরেও আমাদের জানানো হয়নি। তারাই হত্যার পর থানা থেকে ময়নাতদন্ত করে আমাদের লাশ নিয়ে যাওয়ার জন্য বলছে। 

এলাকাবাসী জানান, নিহত রোজিনাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হতো তা সে এলাকার অনেক মহিলাকে জানিয়েছে আকার-ইঙ্গিতে। এ ছাড়াও তার শারীরিক গঠনে সে যে ১৪ বছরের কিশোরী তা অনুমান করা যেত না। তার ওপর যে যৌন হয়রানি করা হতো তা অনুমান করা যেত। 

এদিকে সুলাতন মিয়ার স্ত্রী জানান, রোজিনার সাথে পাশের একটি ছেলের সম্পর্ক ছিল। সেই প্রেমঘটিত বিষয়ে সে আত্মহত্যা করতে পারে। তার এ বিষয়টি সবাই জেনে যায়। সেই ছেলেকে সে তার বোনদের সাথে ফোনে কথা বলে দিয়েছে, কিন্তু সে ওই ছেলেকে পরিবারের সাথে দেখা করাতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। তবে ছেলের বিয়ে করতে আরো দুই বছর সময় লাগবে। তাই পরিবার তাকে এখনই বিয়ে দিতে চেয়েছে। তবে তার ছেলের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির আনীত অভিযোগ তিনি অস্বীকার করে বলেন, তার আগে তার আরেক বড় বোনকে লালন-পালন করে বড় করেছি এবং বিয়ে দিয়েছি। তবে ওই ছেলের পরিচয় জানা যায়নি এবং কথা বলাও সম্ভব হয়নি।  

এ বিষয়ে ভোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছগির মিঞ্চা জানান, আমরা বিষয়টি জানার পর মেয়ের ভগ্নিপতির অভিযোগের ভিত্তিতে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য