kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ পাননি, তবুও বকেয়া বিলের মামলায় কারাগারে!

মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি    

১৮ এপ্রিল, ২০১৯ ১০:৩০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ পাননি, তবুও বকেয়া বিলের মামলায় কারাগারে!

কুমিল্লার মুরাদনগরে বিদ্যুৎ সংযোগ না পেলেও বকেয়া বিলের জন্য আব্দুল মতিন (৪৫) নামে এক দিনমজুরকে আটক করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার করে কুমিল্লা জেলহাজতে পাঠিয়েছে মুরাদনগর থানা পুলিশ। উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের মোচাগড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর কোম্পানীগঞ্জ জোনাল অফিসের গ্রাহক ও সাধারণ মানুষ।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসী জানায়, মোচাগড়া গ্রামের দক্ষিণপাড়ার ২৫৬টি পরিবার বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য চার বছর আগে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ কার্যালয়ে আবেদন করে। আবেদনের পর স্থানীয় দালাল আবুল কালাম আজাদ ও আবুল বাসার প্রতিটি গ্রাহকের কাছ থেকে মিটারপ্রতি ১০-১৫ হাজার টাকা আদায় করেন। ওই সময় মৃত অহিদ আলীর ছেলে আব্দুল মতিন মিয়াও আবেদন করলে কর্তৃপক্ষ সংযোগের অনুমোদন দেয়। কিন্তু মতিন মিয়া দালালচক্রকে চার হাজার টাকা দিলেও বাকি টাকা দিতে না পারায় বিদ্যুৎ অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে অর্থের বিনিময়ে মতিন মিয়ার আবেদনপত্রে একই এলাকার মৃত আব্দুস ছামাদের ছেলে সফিকুল ইসলামের ছবি লাগিয়ে দেয়। পরে মতিন মিয়ার মিটারের আওতায় গত ২০১৫ সালের ২২ মার্চ সফিকুল ইসলামকে সংযোগ প্রদান করে বিদ্যুৎ অফিস।

এদিকে অন্যের নামে বরাদ্দ করা মিটারে বিদ্যুতের সংযোগ পেয়ে প্রায় ১৭ মাস বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রাখে সফিকুল ইসলাম। কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর চান্দিনা অফিসের এজিএম লক্ষ্মণ চন্দ্র পাল বাদী হয়ে বকেয়া চার হাজার সাত টাকা আদায়ের জন্য বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডে একটি মামলা করেন। সেই মামলায় মঙ্গলবার রাতে মুরাদনগর থানার এসআই কবির হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ আব্দুল মতিনকে আটক করে। পরদিন বুধবার কুমিল্লা আদালতের মাধ্যমে তাঁকে জেলহাজতে পাঠায়।

এ ব্যাপারে মুরাদনগর থানার ওসি এ কে এম মনজুর আলম বলেন, ‘একটি মামলায় মতিন মিয়ার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় তাকে আটক করা হয়েছে।’

কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর কোম্পানীগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার হাবিবুর রহমান আবেদন ফাইলে ছবি পরিবর্তনের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘আব্দুল মতিনের নামের মিটার সফিকুল ইসলাম ব্যবহার করার বিষয়টি আমাদের জানা নেই। মামলা হওয়ার আগে মতিন মিয়াকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশ পেয়ে তিনি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে এমন ঘটনা ঘটত না।’

মন্তব্য