kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

খুন করে আত্মহত্যা বলে চালাতে স্ত্রীর লাশে আগুন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ এপ্রিল, ২০১৯ ০৮:২৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খুন করে আত্মহত্যা বলে চালাতে স্ত্রীর লাশে আগুন

হাসি বেগম

ফেনীর সোনাগাজীতে শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে মাদরাসা শিক্ষার্থী নুসরাতকে হত্যার রেশ না কাটতেই এবার রাজধানীতে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর আলামত লুকাতে লাশে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে এক পাষণ্ড স্বামী। হত্যার ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে লাশে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন তিনি। গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর দক্ষিণ মুগদার ব্যাংক কলোনির ১/৩৯ নম্বর বাড়ির তৃতীয় তলায় মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটে। নিহতের নাম হাসি বেগম (২৭)। স্বামীর নাম কমল হোসেন। তাঁদের দুজনেরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে।

হাসি বেগমের ছোট বোন মুক্তার স্বামী আসিফ সাংবাদিকদের জানান, হাসি বেগমের আগে বিয়ে হয়েছিল সুজন নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে। মাদকাসক্ত বলে বছর দেড়েক আগে তাকে তালাক দেন হাসি। ওই ঘরে মেহেদী হাসান শিশির (৭) নামে এক পুত্রসন্তান রয়েছে তাঁর। তালাকের পর হাসি যন্ত্রাংশ ব্যবসায়ী কমল হোসেনের সঙ্গে প্রেমে জড়ান। আট মাস আগে তাঁরা বিয়ে করেন। বিয়ের পর ব্যাংক কলোনির ১/৩৯ নম্বর বাড়ির তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। সেখানে হাসি, ছেলে শিশির, বাবা শেখ আলতাফ ও মা আলাপী বেগমকে নিয়ে থাকতেন। দুই দিন আগে সুজনের মা শিশিরকে দেখতে ওই ফ্ল্যাটে আসেন। একই সময় হাসির বোন মুক্তা ও মুক্তার স্বামী আসিফও বেড়াতে আসেন। তাঁরা সবাই দুই দিন ধরে ওই ফ্ল্যাটে ছিলেন। শিশিরকে নিয়ে তার দাদি গতকাল ভোর ৬টার দিকে বাসা থেকে চলে যান।

এরপর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কমল চিৎকার করে বলতে থাকেন হাসি গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। চিৎকার শুনে বাসার সবাই ওই কক্ষে যায়। গিয়ে দেখে ফ্লোরে ফোমের বিছানার ওপর হাসির গায়ে আগুন জ্বলছে। আসিফ দ্রুত বাথরুম থেকে বালতি ভরে পানি এনে হাসির গায়ে ঢেলে দেন। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

আসিফ আরো জানান, হাসির প্রথম স্বামী সুজনের সঙ্গে গত মঙ্গলবার মুগদা এলাকায় দেখা হয় কমলের। এ সময় সুজন মোটরসাইকেল চালিয়ে কমলের পায়ে উঠিয়ে দেয়। বাসায় ফিরে বিষয়টি নিয়ে হাসির সঙ্গে ঝগড়া হয় কমলের। রাতেই সেটা মিটমাটও হয়ে যায়।

মুগদা থানার ওসি প্রলয় কুমার সাহা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। কমল ওই সময় বাসাতেই ছিল। পুলিশকে সে স্ত্রীর আত্মহত্যার কথা জানায়। কিন্তু বিষয়টি সন্দেহ হলে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদে কমল স্বীকার করে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল সে।’ তিনি আরো জানান, ‘কমল বলেছে হত্যার পর স্ত্রীর শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় সে। আর কমলের ভাষ্য মতে, আগের স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল হাসির। বিষয়টি তার পছন্দ ছিল না। এ নিয়ে প্রায়ই ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকত তাদের। এ কারণেই স্ত্রীকে হত্যা করে কমল।’

এ ঘটনায় মুগদা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহতের বাবা শেখ আলতাফ। নিহত হাসির বাড়ি দিনাজপুরের পার্বতীপুর এলাকার রুস্তমনগর গ্রামে।

মন্তব্য